শেকৃবিতে মানবিক কারণ দেখিয়ে দুই ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব পুনর্বহাল
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে একজন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে মত এবং অন্যজনকে অর্ডিন্যান্সে সুযোগ নেই তবে মানবিক কারণে পুনঃভর্তির সুপারিশ- এমন অবস্থার মধ্যেই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল দুই ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব পুনর্বহাল করেছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্যমান অর্ডিন্যান্স ও তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুনর্বহাল হওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. ফরহাদ হোসেন এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল্লাহ আল মারুফ। ফরহাদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মারুফ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী। ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৮৩তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তাদের ছাত্রত্ব পুনর্বহালের আবেদন যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটির প্রতিবেদন ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ৮৬তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উপস্থাপন করা হলে কাউন্সিল তাদের পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেয়। আরও পড়ুন জুলাই বিপ্লব ফরাসি বিপ্লবের চেয়েও কোনো অংশে কম নয়: রিজভী
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে একজন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে মত এবং অন্যজনকে অর্ডিন্যান্সে সুযোগ নেই তবে মানবিক কারণে পুনঃভর্তির সুপারিশ- এমন অবস্থার মধ্যেই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল দুই ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব পুনর্বহাল করেছে।
একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্যমান অর্ডিন্যান্স ও তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুনর্বহাল হওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. ফরহাদ হোসেন এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল্লাহ আল মারুফ। ফরহাদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মারুফ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী।
২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৮৩তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তাদের ছাত্রত্ব পুনর্বহালের আবেদন যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটির প্রতিবেদন ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ৮৬তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উপস্থাপন করা হলে কাউন্সিল তাদের পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেয়।
ফরহাদের ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি তার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে কোনো অসঙ্গতি খুঁজে পায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ৭৯তম একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল। তবে ৭৯তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে তার আবেদনটি বিবেচনায় নেয়নি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল।
অর্থাৎ তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল এবং ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এরপরও ৮৬তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল তার ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়।
অন্যদিকে, মারুফের ক্ষেত্রেও তদন্ত কমিটি জানায়, সাধারণ নিয়মে তার ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে পিতৃহারা হওয়া, রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ, পড়াশোনা শেষ করার আগ্রহ এবং দীর্ঘদিন অপেক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বা ১০ সেমিস্টারের জন্য লেভেল-১, সেমিস্টার-১-এ বিশেষ পুনঃভর্তির সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্য কোনো ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভার আগে প্রশাসন কয়েকজন ছাত্রনেতার মতামত নেয় এবং সিদ্ধান্ত যাইহোক, তা শান্তভাবে মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে ছাত্রদলের একটি অংশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, অভিযুক্তদের পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।
নথি অনুযায়ী, ফরহাদ একই কোর্সে একাধিকবার অকৃতকার্য হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক সুযোগ শেষ করেন। পরে মূল্যায়নে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ছাত্রত্ব পুনর্বহালের আবেদন করলেও তদন্ত কমিটি তার অভিযোগের সত্যতা পায়নি।
মারুফ তার আবেদনে রাজনৈতিক কারণে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা এবং বাবার মৃত্যুর বিষয় উল্লেখ করেন। তবে তদন্তে সহপাঠী, সিনিয়র ও জুনিয়রদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি নিয়মিত হলে থাকতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতেন। ছাত্রলীগের নির্যাতনের অভিযোগের পক্ষে তদন্তে সুনির্দিষ্ট তথ্যও পাওয়া যায়নি।
২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এক কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ফরহাদ ১ নম্বর এবং মারুফ ৩ নম্বর আসামি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, বিদ্যমান বিধিমালার আলোকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক।
তাদের মতে, একই ধরনের অ্যাকাডেমিক কারণে ছাত্রত্ব হারানো অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য এবং তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড বেলাল হোসেন বলেন, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত এবং তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আমরা যৌক্তিক এবং সবদিক বিবেচনা করে অভিমত দিয়েছি। তবে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল যেহেতু বড় একটা হাউজ এবং অনেকের মতামত দেওয়ার সুযোগ ছিল সেক্ষেত্রে সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে আমি সরে আসি নি।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে তাদের পুনঃভর্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। মানবিক ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে তারা আবেদন করেছিল। তাই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো তাদেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাইদ আহম্মদ/এমআরএম
What's Your Reaction?
