শ্যামনগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। রবিবার (৯ই আগষ্ট) সকালে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় জয়িতা প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে এ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান: জীবন ও সুস্থতা সুরক্ষা”। র‍্যালিতে স্থানীয় মুন্ডা জনগোষ্ঠীর নারী, পুরুষ ও শিশুরা ব্যানার, ফেস্টুন ও ঢাক-ঢোল নিয়ে অংশ নেয়। আশ্রয়ন মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জয়িতার সভাপতি কৌশল্য মুন্ডা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুন্ডা কমিউনিটির প্রধান নিলকান্ত মুন্ডা বলেন, “আমাদের সমাজে আদিবাসী ধাত্রীরাই প্রথম চিকিৎসক। তারাই মা ও নবজাতকের জীবন বাঁচায় কিন্তু রাষ্ট্র তাদের স্বীকৃতি দেয় না। অবিলম্বে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরিচয়পত্র দেওয়া হোক।” বিশেষ অতিথি জয়িতা প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক অষ্টমী মালো বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলের আদিবাসী নারীরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন। লবণাক্ত পানি ও দুর্যোগে তাদের জন্য আলাদা মাতৃস্বাস্থ্য স

শ্যামনগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে।

রবিবার (৯ই আগষ্ট) সকালে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় জয়িতা প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে এ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান: জীবন ও সুস্থতা সুরক্ষা”। র‍্যালিতে স্থানীয় মুন্ডা জনগোষ্ঠীর নারী, পুরুষ ও শিশুরা ব্যানার, ফেস্টুন ও ঢাক-ঢোল নিয়ে অংশ নেয়। আশ্রয়ন মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জয়িতার সভাপতি কৌশল্য মুন্ডা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুন্ডা কমিউনিটির প্রধান নিলকান্ত মুন্ডা বলেন, “আমাদের সমাজে আদিবাসী ধাত্রীরাই প্রথম চিকিৎসক। তারাই মা ও নবজাতকের জীবন বাঁচায় কিন্তু রাষ্ট্র তাদের স্বীকৃতি দেয় না। অবিলম্বে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরিচয়পত্র দেওয়া হোক।”

বিশেষ অতিথি জয়িতা প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক অষ্টমী মালো বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলের আদিবাসী নারীরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন। লবণাক্ত পানি ও দুর্যোগে তাদের জন্য আলাদা মাতৃস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”

অপু চৌকিদারের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন কমলা মুন্ডা সহ স্থানীয় আদিবাসী নেতারা। সভা থেকে সরকারের কাছে ৩ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো,উপকূলের প্রতিটি আদিবাসী পল্লীতে আদিবাসী ধাত্রীদের সরকারি প্রশিক্ষণ ও মাসিক সম্মানী প্রদান, প্রত্যন্ত আদিবাসী এলাকায় আদিবাসী বান্ধব কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন ও আদিবাসী শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা। বক্তারা বলেন, শ্যামনগর ও আশাশুনির প্রায় ১২ হাজার মুন্ডা জনগোষ্ঠীর ৭০% এর বেশি প্রসূতি এখনও প্রশিক্ষিত ধাত্রীর বদলে স্থানীয় দাই মা’দের উপর নির্ভরশীল। ফলে মাতৃ ও নবজাত্য মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। শিক্ষা, ভূমি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী করম নাচ পরিবেশন করেন। এতে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow