শ্রমিক থেকে দন্ত চিকিৎসক, ভুল চিকিৎসায় কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে রফিকুল ইসলাম হিরণ (২৮) নামে ভুয়া দন্ত ডাক্তারের চিকিৎসায় মো. লিয়ন মিয়া (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত লিয়ন মিয়া মোহনগঞ্জ পৌর শহরের টেংগাপাড়া এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা চিকিৎসা সনদ না থাকলেও রফিকুল ইসলাম হিরণ নিজেকে দন্ত চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চেম্বার খুলে নিয়মিত রোগী দেখতেন। তার চেম্বারের সাইনবোর্ডে ‘এলএমএএফ’ ও ‘ডিএমএ’ পদবি ব্যবহার করা হয়েছে। নেত্রকোনা সদর ও আটপাড়া উপজেলাতেও তার চেম্বার রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এদিকে লিয়নের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা হিরণের চেম্বারে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। স্থানীয় মাছের আড়তদাররা জানান, রফিকুল ইসলাম হিরণ আগে মোহনগঞ্জ মাছঘাটে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। মোহনগঞ্জ ঘাটের মাছের আড়তদার হক্কু মিয়া বলেন, হিরণ ছোট
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে রফিকুল ইসলাম হিরণ (২৮) নামে ভুয়া দন্ত ডাক্তারের চিকিৎসায় মো. লিয়ন মিয়া (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত লিয়ন মিয়া মোহনগঞ্জ পৌর শহরের টেংগাপাড়া এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা চিকিৎসা সনদ না থাকলেও রফিকুল ইসলাম হিরণ নিজেকে দন্ত চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চেম্বার খুলে নিয়মিত রোগী দেখতেন। তার চেম্বারের সাইনবোর্ডে ‘এলএমএএফ’ ও ‘ডিএমএ’ পদবি ব্যবহার করা হয়েছে। নেত্রকোনা সদর ও আটপাড়া উপজেলাতেও তার চেম্বার রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে লিয়নের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা হিরণের চেম্বারে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয় মাছের আড়তদাররা জানান, রফিকুল ইসলাম হিরণ আগে মোহনগঞ্জ মাছঘাটে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
মোহনগঞ্জ ঘাটের মাছের আড়তদার হক্কু মিয়া বলেন, হিরণ ছোট থেকেই মাছঘাটের শ্রমিক ছিলেন। আমার ঘাটেও চার-পাঁচ বছর কাজ করেছে। দুই বছর আগেও তাকে ঘাটে কাজ করতে দেখেছি। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়াও তেমন নেই। হুট করে কীভাবে যে দাঁতের ডাক্তার হয়ে গেল, বুঝে আসছে না।
নিহতের স্বজনরা জানান, ৮ আগস্ট সকালে লিয়নের দাঁতের মাড়িতে অতিরিক্ত মাংস বৃদ্ধি পাওয়ায় তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের গেটে এক ব্যক্তি হিরণকে ভালো চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তার চেম্বারে নিয়ে যান।
লিয়নের বাবা খোকন মিয়ার অভিযোগ, হিরণ তার ছেলের মাড়ির বাড়তি মাংস কেটে ফেলেন। এরপরই রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে ওষুধ দিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
খোকন মিয়া বলেন, পরদিন ৯ ও ১০ আগস্ট সকালে লিয়নের অবস্থার অবনতি হলে আবারও হিরণের কাছে যাই। সে নতুন করে ওষুধ লিখে দেয়। কিন্তু রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি।
সোমবার দুপুরে লিয়নের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আবার হিরণের কাছে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি গুরুতর দেখে হিরণ তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দন্ত চিকিৎসক ডা. জয়া রানী দেবনাথের কাছে নিয়ে যান।
ডা. জয়া রানী দেবনাথ লিয়নকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে লিয়ন অচেতন হয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম হিরণ বলেন, ছেলেটির দাঁতের মাড়ির মাংস পচে ক্যান্সার হয়ে গিয়েছিল। আমি শুধু ড্রেসিং করেছি, কোনো অপারেশন করিনি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণও হয়নি। আমার চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়নি।’
এছাড়া নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলক কান্তি তালুকদার বলেন, এলএমএএফ কোর্সধারীরা কোনো চিকিৎসক নন। তাদের কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। হাসপাতালে সরকারি দন্ত চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ প্ররোচনায় পড়ে এসব ভুয়া চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল লতিফ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচ এম কামাল/এনএইচআর/এএসএম
What's Your Reaction?
