ষড়যন্ত্রের ‘গোপন মিশন’ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো সংঘর্ষ নয়; বরং এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা ‘গোপন মিশন’ কাজ করছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তরা স্কয়ার মার্কেটে হামলা ও ভাঙচুরের সময় পাশেই থানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশের তৎপরতায় বিলম্ব এসবই রহস্যের জন্ম দেয়। এই ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে সরকারকে বিতর্কিত করতে এবং বিরোধী অপশক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি করছে। খুলনায় যুবদল নেতা রাশিদুল আলম রাশুকে গুলি করে হত্যা কিংবা বিভিন্ন জেলায় জামায়াত-বিএনপির রাজনৈতিক ইফতার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাগুলো মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঝিনাইদহসহ ঢাকার বাইরে দুই দলের এই দ্বন্দ্বকে পুঁজি করে তৃতীয় কোনো পক্ষ ‘গোপন মিশন’ সফল করতে মরিয়া হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চক্র অত্যন্ত সক্রিয়, যারা সুকৌশলে এই বিভেদকে উসকে দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায়। এই ষড়যন্ত্র রুখতে এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো সংঘর্ষ নয়; বরং এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা ‘গোপন মিশন’ কাজ করছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তরা স্কয়ার মার্কেটে হামলা ও ভাঙচুরের সময় পাশেই থানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশের তৎপরতায় বিলম্ব এসবই রহস্যের জন্ম দেয়।
এই ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে সরকারকে বিতর্কিত করতে এবং বিরোধী অপশক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি করছে।
খুলনায় যুবদল নেতা রাশিদুল আলম রাশুকে গুলি করে হত্যা কিংবা বিভিন্ন জেলায় জামায়াত-বিএনপির রাজনৈতিক ইফতার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাগুলো মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঝিনাইদহসহ ঢাকার বাইরে দুই দলের এই দ্বন্দ্বকে পুঁজি করে তৃতীয় কোনো পক্ষ ‘গোপন মিশন’ সফল করতে মরিয়া হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চক্র অত্যন্ত সক্রিয়, যারা সুকৌশলে এই বিভেদকে উসকে দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চায়।
এই ষড়যন্ত্র রুখতে এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিচে চারটি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি :
১. গঠনমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির চর্চা
রাজনীতি হওয়া উচিত জনকল্যাণের জন্য, পেশিশক্তির মহড়ার জন্য নয়। কেন্দ্র থেকে শুরু করে গ্রাম, পাড়া ও মহল্লা পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে গঠনমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলে কোনো কুচক্রী মহল ফায়দা লুটতে পারবে না।
২. দ্রুত সংকট নিরসন ও দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা
কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজস্ব উদ্যোগে দ্রুত সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সংকটের শুরুতেই তা দমন করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. অপরাধীর পরিচয় হোক শুধুই ‘অপরাধী’
অপরাধ যে-ই করুক, সে যে দলেরই হোক না কেন— আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বিবেচনা করা চলবে না। অপরাধীকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ‘ছাড়’ দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত হলে ‘গোপন চক্রের’ সদস্যরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সাহস পাবে না।
৪. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বেকারত্ব দূরীকরণ
ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো বেকার জনগোষ্ঠী। কর্মহীন যুবসমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করা সহজ। তাই সরকারকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের মানুষ যখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে, তখন কোনো অপশক্তি তাদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।
দেশকে অস্থিতিশীল করে ফায়দা লোটার যে কোনো ‘গোপন মিশন’ রুখে দেওয়া সম্ভব, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জনগণের সতর্কতা থাকে। উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে কুচক্রী মহলের পরাজয় নিশ্চিত। আমাদের প্রত্যাশা— সব ভেদাভেদ ভুলে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে গড়ে উঠবে প্রকৃত ‘সোনার বাংলাদেশ’।
লেখক : ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া ক্লান্তান (UMK)
What's Your Reaction?