সংকটে খলিসাকুড়ি-ভাস্কর নদী

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খলিসাকুড়ি ও ভাস্কর নদী দখল, ভরাটের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদী দুটির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৩১ মে) নদী ও পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন রিভারাইন পিপল-এর পরিচালক এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ এ আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের পাশে খলিসাকুড়ি নদীর একটি বড় অংশ মাটি ভরাট করে ‘মজাপুকুর’ নামে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নদীর ওই অংশ প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট অংশের বিভিন্ন স্থানে ঘন বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও নদীর বিভিন্ন অংশে অবৈধ দখলের অভিযোগও করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ভাস্কর নদীতেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়িভাবে বাঁশের বাঁধ দিয়ে মাছ ধরার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া ভাস্কর

সংকটে খলিসাকুড়ি-ভাস্কর নদী

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খলিসাকুড়ি ও ভাস্কর নদী দখল, ভরাটের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদী দুটির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) নদী ও পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন রিভারাইন পিপল-এর পরিচালক এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের পাশে খলিসাকুড়ি নদীর একটি বড় অংশ মাটি ভরাট করে ‘মজাপুকুর’ নামে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নদীর ওই অংশ প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট অংশের বিভিন্ন স্থানে ঘন বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও নদীর বিভিন্ন অংশে অবৈধ দখলের অভিযোগও করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ভাস্কর নদীতেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়িভাবে বাঁশের বাঁধ দিয়ে মাছ ধরার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।

এ ছাড়া ভাস্কর নদীর কোনো অংশ ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হয়ে থাকলে তা কীভাবে এবং কার মাধ্যমে হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নদীতে স্থাপিত অবৈধ বাঁধ, দখল ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ভাস্কর ও খলিসাকুড়ি নদী ভূমিদস্যুদের দখল এবং প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে মরে যেতে বসেছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে, নদীর জায়গা দখল করে পুকুর করা হয়েছে। অথচ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কুড়িগ্রামে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে নদী দুটি ক্রমেই দখল ও সংকুচিত হচ্ছে। দ্রুত দখলমুক্ত করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

তবে এ বিষয়ে কু‌ড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের স‌ঙ্গে যোগা‌যোগ করা হ‌লেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়‌নি।

রোকনুজ্জামান মানু/এএইচ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow