সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু কোনো ভেদাভেদ করব না
ইসলামী রাজনীতির মূল শক্তি কোথায় বলে মনে করেন? মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ: ইসলামী রাজনীতির মূল শক্তি হলো আল্লাহর ওপর ভরসা এবং আল্লাহর ভয়ভীতি। যদি কোনো ব্যক্তির আল্লাহর ওপর ভরসা এবং অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির দ্বারা ইসলামী সব কাজকর্ম করা সহজ হয়ে যায়। সেটা রাজনীতি হোক বা অন্য কোনো ভালো কাজ হোক। কওমি সনদের স্বীকৃতি থাকলেও বেসরকারি চাকরিতে এর গ্রহণযোগ্যতা কম। আপনি কি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে কওমি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য কোটা বা বিশেষ সুযোগের ব্যবস্থা করবেন? মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ: আমি চেষ্টা করব কওমিতে যারা লেখাপড়া করেন, তাদের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন করা। সরকারি-বেসরকারি সর্বক্ষেত্রেই যেন অন্যদের মতো তারাও চাকরিতে অংশগ্রহণ করতে পারে, বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়া এবং আমাদের ময়মনসিংহের ইত্তেফকুল উলামার মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে সেই পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করব। আপনার এলাকার রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড আনতে আপনি লবিং করবেন কীভাবে? মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ: ফুলপুর-তারাকান্দার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রাস্তা কাঁচা এবং চলাচল অযোগ্য। নির্বাচনে আমার প্রতিশ্রুতি ছিল, আমি
ইসলামী রাজনীতির মূল শক্তি কোথায় বলে মনে করেন?
মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ: ইসলামী রাজনীতির মূল শক্তি হলো আল্লাহর ওপর ভরসা এবং আল্লাহর ভয়ভীতি। যদি কোনো ব্যক্তির আল্লাহর ওপর ভরসা এবং অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তির দ্বারা ইসলামী সব কাজকর্ম করা সহজ হয়ে যায়। সেটা রাজনীতি হোক বা অন্য কোনো ভালো কাজ হোক।
কওমি সনদের স্বীকৃতি থাকলেও বেসরকারি চাকরিতে এর গ্রহণযোগ্যতা কম। আপনি কি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে কওমি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য কোটা বা বিশেষ সুযোগের ব্যবস্থা করবেন?
মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ: আমি চেষ্টা করব কওমিতে যারা লেখাপড়া করেন, তাদের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন করা। সরকারি-বেসরকারি সর্বক্ষেত্রেই যেন অন্যদের মতো তারাও চাকরিতে অংশগ্রহণ করতে পারে, বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়া এবং আমাদের ময়মনসিংহের ইত্তেফকুল উলামার মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে সেই পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করব।
আপনার এলাকার রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড আনতে আপনি লবিং করবেন কীভাবে?
মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ: ফুলপুর-তারাকান্দার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রাস্তা কাঁচা এবং চলাচল অযোগ্য। নির্বাচনে আমার প্রতিশ্রুতি ছিল, আমি যদি আগামী পাঁচ বছর বেঁচে থাকি, এমপি থাকি, তাহলে বাকি রাস্তাগুলো আমি পাকা করে জনগণকে উপহার দেব। এটার জন্য যেভাবে লবিং করতে হয়, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
আপনার এলাকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে?
মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ: জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার কাছে সংখ্যালঘু-মুসলিম কোনো পার্থক্য নেই। আমি মনে করি, আমার এলাকায় যারা বসবাস করে, তারা প্রত্যেকই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করে। হিন্দু-মুসলিম কোনো পার্থক্য নেই। তাই সবার মানসম্মান রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ অধিকারের বিষয়ে আমি সংখ্যালঘু বা মুসলিম-অমুসলিম কোনো পার্থক্য করব না।
আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশের সংসদীয় পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা প্রয়োজন? যেমন আনুপাতিক হারে নির্বাচন বা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ?
মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ: এ দেশে যে রাজনীতি চলছে, সেটা হলো গণতন্ত্র। এ গণতন্ত্র কতটা পরিবর্তনের সুযোগ হবে জানি না। তবে যে গণতন্ত্রের কথা আমরা বলি, সেটাও মাঠে-ময়দানে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয় না। বরং পেশিশক্তিই ব্যবহার হচ্ছে। তাই আমরা চেষ্টা করব, গণতন্ত্র যদি এভাবে চলে, তাহলে এটাকে পরিবর্তন করে পেশিশক্তি দমন করা। আর উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ এটাও আমাদের সব দল মিলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে। উচ্চকক্ষ বলতে আমরা মনে করি আমাদের অভিভাবক থাকবে, তারা আমাদের পরামর্শ দিয়ে পরিচালনা করবে। এটা গণতন্ত্রের জন্য উত্তম একটা রাস্তা।
কওমি মাদ্রাসার সার্টিফিকেটের মানোন্নয়নে উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্র বা ইউনিভার্সিটি অব কওমি স্টাডিজ প্রতিষ্ঠার কোন দাবি আপনি সংসদে তুলবেন?
মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ : আমাদের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সম্মানিত আমির মাওলানা মামুনুল হক এরকম একটা চিন্তাভাবনা থেকে একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান করার কাজে হাত দিয়েছেন। তার উদ্দেশ্য হলো, এটাকে একটা বিশাল ইউনিভার্সিটি লেভেলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের উচ্চ লেভেলের শিক্ষায় শিক্ষিত করা। আমরা শুরু থেকেই এটাকে পছন্দ করে উনার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছি। আমরা চেষ্টা করব, কওমি লেভেল থেকে এরকম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান করে ছেলেদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার। বিদেশি শিক্ষার্থীরাও যেন এখানে আসে, সেই পথে এগোনোরও চেষ্টা করব।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ‘ডারউইন তত্ত্ব’ বা এ জাতীয় বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে আপনার প্রস্তাব কী হবে?
মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ: ডারউইন তত্ত্ব এগুলো তো ইসলামবিরোধী। আমরা প্রথমত মুসলমান, দ্বিতীয়ত আলেম। মানুষ আমাদের ইসলামের পক্ষে, কোরআন-হাদিসের পক্ষে কথা বলার অধিকার দিয়েছে। মানুষের বিশ্বাস ও ভরসা নষ্ট করে আমরা ডারউইনের মিথ্যা তথ্যের দিকে কীভাবে যাব? আমরা কোরআন-হাদিসের সঠিক তথ্যগুলোই সংসদে তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ।
শিক্ষা বাজেটে কওমি শিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ থাকা উচিত কি? এ বিষয়ে আপনি কী করতে চান?
মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ: কওমি মাদ্রাসা জাতি দ্বারা পরিচালিত হয়। এখানে সরকারি কোনো অনুদান যায় না। কিছু কিছু এমপি বা চেয়ারম্যান তাদের বরাদ্দ থেকে মাদ্রাসায় বরাদ্দ দিতে দেখা যায়। আমরা কওমির মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করব, এখানে সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার পর যদি সরকারি কোনো শক্তি বা নিয়মনীতি প্রয়োগ করা হয়, যেটা কওমি মাদ্রাসার আদর্শের খেলাফ হয়, তাহলে আমরা সে পথে যাব না। আর যদি আদর্শের খেলাফ না হয়, তাহলে মুরুব্বিদের পরামর্শের ভিত্তিতে আমরা কওমি মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দের চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
What's Your Reaction?