সংযোগ সড়ক নেই, চার বছর ধরে অচল কোটি টাকার সেতু

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের চার বছর পেরিয়ে গেলেও হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি পড়ে আছে অচল হয়ে। এতে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটির দুই প্রান্তে চলাচলের উপযুক্ত সংযোগ সড়ক না থাকায় শুরু থেকে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যানবাহন তো দূরের কথা এ পথে চলতে গিয়ে সাধারণ মানুষকেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অত্র অঞ্চলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং কর্মজীবীসহ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেই প্রায় কোটি টাকার এই সেতুটি প্রকৃত অর্থে জনসাধারণের কাজে আসবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চরশালেপুর এলাকায় সেতুটির অবস্থান।২০২২ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে প্রায় ব্যয় হয় কোটি টাকা। চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হলে টেন্ডারটি পায় চর হরিরামপুর এলাকার ঠিকাদার ফরিদ মোল্লা। এলাকাবাসীর

সংযোগ সড়ক নেই, চার বছর ধরে অচল কোটি টাকার সেতু

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের চার বছর পেরিয়ে গেলেও হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি পড়ে আছে অচল হয়ে। এতে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মানুষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটির দুই প্রান্তে চলাচলের উপযুক্ত সংযোগ সড়ক না থাকায় শুরু থেকে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যানবাহন তো দূরের কথা এ পথে চলতে গিয়ে সাধারণ মানুষকেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অত্র অঞ্চলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং কর্মজীবীসহ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেই প্রায় কোটি টাকার এই সেতুটি প্রকৃত অর্থে জনসাধারণের কাজে আসবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চরশালেপুর এলাকায় সেতুটির অবস্থান।২০২২ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে প্রায় ব্যয় হয় কোটি টাকা। চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হলে টেন্ডারটি পায় চর হরিরামপুর এলাকার ঠিকাদার ফরিদ মোল্লা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকাবাসী বছরের পর বছর ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সংযোগ সড়ক নির্মাণে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ভ্যানচালক রবিউল শেখ জানান, বছরের পর বছর এভাবেই চোখের সামনে একটি সেতু নির্মাণ কাজ শেষে দাঁড়িয়ে আছে। যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ। শুধু সেতুর দুই পাশে সড়কের অভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ খালি পায়েও চলাচল করতে পারে না। সেতুর দুই পাশে পাকা সড়ক নির্মাণ করলেই অত্র অঞ্চলের হাজারো মানুষের উপকার হয়।

ওই এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কোটি টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণ করেও সংযোগ সড়কের অভাবে সেতুটির কোনো সুফল ভোগ করতে পারছে না মানুষ। এভাবে বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। মানুষ শুধু দেখেই যাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর দুই পাশে সড়ক নির্মাণ করে মানুষের ভোগান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।

চরহরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, সেতুটি মানুষের চলাচলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি নির্মাণের শুরুতে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আশা-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।

চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকৌশলী (স্থানীয় সরকার বিভাগ) নাজনীন চৌধুরী বলেন, আমি দুই-তিন মাস হলো এই উপজেলায় যোগদান করেছি। ফলে সেতুটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো আমার জানা নেই। দ্রুত এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এটি গুরুত্ব দিয়েই কাজ করা হবে।

এন কে বি নয়ন/এনএইচআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow