সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে বিএনপিতে তীব্র প্রতিযোগিতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে কারা পাবেন বিএনপির মনোনয়ন, তা আজ রোববার বা আগামীকাল সোমবারের মধ্যেই চূড়ান্ত করবে বিএনপি। এরই মধ্যে গত দুদিনে প্রায় ৯০০ মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে দলের মনোনয়ন বোর্ড। দুদিনে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সাক্ষাৎকারে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন নারী নেত্রীরা। সূত্র জানায়, মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়ার পরবর্তী করণীয়ও তুলে ধরেন নারী নেত্রীরা। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনে যারা মনোনয়ন পাবেন, তারা অন্য নারী নেত্রীদের সঙ্গে নিয়ে দেশের উন্নয়নে সরকারকে নানাভাবে সহযোগিতা করবেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রত্যেকের কাছে মনোনয়ন পেলে কী করবেন, আবার না পেলে কী করবেন—এমন প্রশ্ন করেন। তবে বেশিরভাগ নেত্রীই বিষয়টি তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেন। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দলের ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান। এসব বৈঠকে উচ্চশিক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীদের

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে বিএনপিতে তীব্র প্রতিযোগিতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে কারা পাবেন বিএনপির মনোনয়ন, তা আজ রোববার বা আগামীকাল সোমবারের মধ্যেই চূড়ান্ত করবে বিএনপি। এরই মধ্যে গত দুদিনে প্রায় ৯০০ মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে দলের মনোনয়ন বোর্ড। দুদিনে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকারে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন নারী নেত্রীরা।

সূত্র জানায়, মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়ার পরবর্তী করণীয়ও তুলে ধরেন নারী নেত্রীরা। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনে যারা মনোনয়ন পাবেন, তারা অন্য নারী নেত্রীদের সঙ্গে নিয়ে দেশের উন্নয়নে সরকারকে নানাভাবে সহযোগিতা করবেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রত্যেকের কাছে মনোনয়ন পেলে কী করবেন, আবার না পেলে কী করবেন—এমন প্রশ্ন করেন। তবে বেশিরভাগ নেত্রীই বিষয়টি তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেন। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দলের ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান। এসব বৈঠকে উচ্চশিক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নের আশ্বাস দেয় পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড।

গত বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল।

jagonews24

সংরক্ষিত নারী আসনের সাক্ষাৎকার-ছবি বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাই নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। এরপর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। ইসি বলছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন বণ্টনে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলাম জোট ১৩টি, স্বতন্ত্ররা মিলে পাবে একটি আসন।

আরও পড়ুন

সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপির ৩৫ টিকিটের দৌড়ে শতাধিক মুখ 
জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনে থাকতে পারেন এনসিপি নেত্রী 
সাক্ষাৎকারেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নারী এমপি বাছাইয়ে কঠিন ফিল্টারে বিএনপি 

জানা যায়, গতকাল শনিবার শেষ দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন পাঁচ শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। এর আগে শুক্রবার সাক্ষাৎকারের প্রথম দিন রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের ৩৭৮ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

jagonews24

সংরক্ষিত নারী আসনের সাক্ষাৎকার-ছবি বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ৩৬ আসনের বিপরীতে প্রায় ৯০০ মনোনয়নপ্রত্যাশীকে দুদিনে পৃথকভাবে দলের পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ডে ডাকা হয়। সেখানে সংরক্ষিত নারী আসনপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত দেখেন বোর্ডের সদস্যরা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের প্রত্যেকের কাছে মনোনয়ন পেলে কী করবেন, আবার না পেলে কী করবেন—এমন প্রশ্ন করেন। তবে বেশিরভাগ নেত্রীই বিষয়টি তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেন। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দলের ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান। এসব বৈঠকে উচ্চশিক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নের আশ্বাস দেয় পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড।

আরও পড়ুন

সংরক্ষিত আসনে নারী কতটা সম্মানের 
সংরক্ষিত নারী আসন এবং কোটার তর্ক 
সংরক্ষিত নারী আসন: তিন দিনে বিএনপির প্রায় ১৩০০ মনোনয়নপত্র বিক্রি 

দলীয় সূত্র জানায়, গতকাল সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকা ও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন—জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, কেন্দ্রীয় নেত্রী শাম্মী আক্তার, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি এবং রেহেনা আক্তার রানু।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা নাদিয়া পাঠান পাপন জাগো নিউজকে বলেন, ‘গতকাল রাত ৩টায় সাক্ষাৎকার শেষ করেছি। আশা করি আজকালের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হবে।’

বিএনপির গণমাধ্যম শাখার সদস্য শায়রুল কবির খান জাগো নিউজকে বলেন, যেহেতু ২১ এপ্রিল মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন, সেহেতু আজকালের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে পারে।

মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে যারা

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন—জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, কেন্দ্রীয় নেত্রী শাম্মী আক্তার, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি এবং রেহেনা আক্তার রানু।

এছাড়া আলোচনায় আছেন—ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও নাদিরা চৌধুরী।

সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীম উদদীন মওদুদ এবং প্রয়াত আবদুস সালাম তালুকদারের মেয়ে ব্যারিস্টার সালিমা বেগম অরুনির নামও তালিকায় রয়েছে।

পরিবারভিত্তিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সূত্রে আলোচনায় রয়েছেন—ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী, সাবরিনা খান এবং খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়া বা এই পরিবারের অন্য কোনো সদস্য।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন—অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, খায়রুন নাহার ও মাহমুদা হাবিবা।

মহিলা দলের সহ-স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, নাসিমা আক্তার কল্পনা, সাবরিনা শুভ্রা, মাহারীন খান, বীথিকা বিনতে হোসাইন—তাদের নিয়েও চলছে হিসাব-নিকাশ।

শিক্ষা ও পেশাজীবী অঙ্গন থেকেও বেশ কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে অধ্যাপক নাজমা সুলতানা ঝংকার, সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক তাজমেরি ইসলাম, অধ্যাপক তাহমিনা বেগম, ড. নাহারিন খান, ডা. সৈয়দা তাজনিন ওয়াইরিস সিমকি, সাংবাদিক কাজী জেসিন, ফাতেমা বিনতে দোহা ও মানসুরা আক্তারের নাম উঠে এসেছে সম্ভাব্য তালিকায়।

এছাড়া জোটসঙ্গীদের কিছু নাম তালিকায় রয়েছে।

কেএইচ/এসএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow