নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চারদিনে সংসদীয় আসনের পুনর্নির্ধারিত সীমানার বিষয়ে এক হাজার ৮৯৩টি দাবি আপত্তির শুনানি গ্রহণ করা হয়েছে। যে মতামত পেয়েছি সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছি। এখন আমরা পর্যালোচনা করে যতদ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবো।
বুধবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এরআগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চতুর্থ দিনের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সংসদীয় আসনের পুনর্নির্ধারিত সীমানার বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অন্যসব নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের সচিব অংশ নেন।
ইসি সচিব বলেন, এখানে আমরা অপত্তিটা আগে শুনেছি। আপত্তির ক্ষেত্রে যে প্রস্তাবনা এসেছে সেটার পক্ষে-বিপক্ষে বা আমরা যে গেজেট প্রকাশ করেছি তার পক্ষেও আমরা কথা শুনেছি। আমরা সবাইকে শোনার চেষ্টা করেছি। তবে একই বিষয়ে বারবার যে না বলা হয় সে অনুরোধ আমরা রেখেছি, আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বলতে চাই এই অনুরোধটা সবাই রেখেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ৮৪টি আসন সম্পর্কিত আমাদের শুনানি, ৮৪টি আসন নিয়েই আপত্তি। যেখানে আপত্তি নেই, সেখানে আমরা হাত দেবো না।
ইসি সচিব বলেন, গত চারদিনে ৩৩ জেলার ৮৪টি আসন সম্পর্কিত এক হাজার ১৮৫টি আপত্তি এবং ৭০৮টি পরামর্শ বা সুপারিশ পক্ষে পেয়েছি। সব মিলে প্রাপ্ত দাবি আপত্তির সংখ্যা এক হাজার ৮৯৩টি।
তিনি বলেন, ২৪ আগস্ট ৬ জেলার ১৮টি সংসদীয় আসনের পুনর্নির্ধারিত সীমানার বিষয়ে দাবি ও আপত্তির ওপর শুনানি গ্রহণ করেছি। ২৫ আগস্ট ৯ জেলার ২০টি আসনের সীমানা নিয়ে আমরা শুনানি করেছি। ২৬ আগস্ট ৬ জেলার ২৮টি সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে শুনেছি। এরপর বুধবার ১২ জেলার ১৮টি আসন নিয়ে শুনানি হয়েছে।
- আরও পড়ুন
- জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে পারে ৩০ নভেম্বর
- নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুমোদন, বৃহস্পতিবার প্রকাশ
গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পঞ্চগড়-১, ২, রংপুর-১, কুড়িগ্রাম-৪, সিরাজগঞ্জ-২, ৫, ৬ ও পাবনা-১ আসনের পুনর্নির্ধারিত সীমানার বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করেন ইসি।
এসময় সংসদীয় আসনের সীমানার দাবি ও আপত্তি নিয়ে আবেদনকারী ও তাদের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানি করেন। দাবি ও আপত্তি বিষয়ে ইসি উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে সমাধানের আশ্বাস দেন।
শুনানি শেষে পাবনার প্রতিনিধি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, আমরা শুধুমাত্র সাথিয়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-১ আসন চাই। একই সঙ্গে বেড়া ও সুজানগর নিয়ে পাবনা-২ আসন চাই। এই দুইটি আসন বিন্যাসের প্রস্তাবনা ২০১৮ সালে ছিল কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সিরাজগঞ্জের প্রতিনিধি আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলায় ২০০১ সাল পর্যন্ত ৭টি আসন ছিল। ২০০৮ সালে একটি আসন কমিয়ে ৬টি করা হয়। আমাদের দাবি আগে চৌহালী উপজেলা ও শাহাজাদপুর উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের চারটা ইউনিয়ন নিয়ে যে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন ছিল সে আসনটা আমরা ফিরে পেতে চাই।
গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টাঙ্গাইল-৬, জামালপুর-২, কিশোরগঞ্জ-১, সিলেট-১, ফরিদপুর- ১, ৪, মাদারীপুর-২, ৩ এবং শরীয়তপুর-২ ও ৩ আসনের শুনানি গ্রহণ করা হয়।
ফরিদপুর-৪ আসনের প্রতিনিধি কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ২০০১ সাল পর্যন্ত চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলা নিয়ে ফরিদপুর-৪ আসন ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে ভাঙ্গা উপজেলা ফরিদপুর-৫ আসন থেকে ফরিদপুর-৪ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। আমরা ফরিদপুর-৪ আসন ২০০১ সালের ন্যায় ফিরে পেতে চাই। একই সঙ্গে ভাঙ্গা উপজেলা নিয়ে ফরিদপুর-৫ আসন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৮৩টি আসনের সীমানা নিয়ে এক হাজার ৭৬০টি দাবি-আপত্তি জমা পড়ে ইসিতে। এগুলো নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে ইসি। সেপ্টেম্বরে ৩০০ আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
এমওএস/কেএসআর/এএসএম