গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় এক দফা বিবৃতি দিয়ে তাতে সংশোধনী এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মূলত এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি মন্তব্যের পর প্রথম দফায় দেওয়া বিবৃতি প্রত্যাহার করে নেয় দলটি।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম দফায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার যে বিবৃতি দেন, তাতে হামলাকারী হিসেবে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয় এবং তাদের শাস্তি চাওয়া হয়।
বিবৃতিটি মিয়া গোলাম পরোয়ারের অফিসিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করার পরপরই তাতে ঝাঁঝালো মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
মন্তব্যের ঘরে জামায়াত সেক্রেটারিকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘সেনাবাহিনী মারছে বলতে লজ্জা পান? সারাদেশ দেখছে সেনাবাহিনী আর পুলিশ মিলে পিটাইছে। অথচ আপনি সেনাবাহিনীর নাম এড়াইয়া গেলেন। ভাসুরের নাম মুখে নেন না কেনো? প্রো এস্টাবলিশমেন্টগিরি আর কতো? দুঃখজনক।’
হাসনাতের এ মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরই মিয়া গোলাম পরোয়ারের ফেসবুক পেজ থেকে বিবৃতিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ১২-১৫ মিনিট পর আবার নতুন বিবৃতি দেওয়া হয়।
সংশোধিত এ বিবৃতিতে জামায়াত নুরের ওপর হামলায় ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য’ জড়িত বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য লাঠিচার্জ করে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি, অন্যতম জুলাইযোদ্ধা নূরুল হক নূরসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গুরুতরভাবে আহত করেছে। আমরা এ মর্মান্তিক আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি ও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে আমরা আহতদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
মিয়া গোলাম পরোয়ার আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর এ হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। আমরা সব মহলের পক্ষ থেকে সহনশীল পরিবেশ প্রত্যাশা করি। জাতি যখন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এ ধরনের হামলা আবার ফ্যাসিবাদের কথাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবিলম্বে নুরুল হক নুরের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনানুগ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বিধানের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এএএইচ/এমআরএম/এনএইচআর