সংসদে ইসলামবিরোধী আইন উঠলে প্রতিবাদ করব
আপনার দল ‘ইসলামী বিপ্লব’ বা ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা বলে। বর্তমান সংসদীয় কাঠামো ও সংবিধানের অধীনে থেকে আপনি কি আসলেই সেই পরিবর্তন আনতে পারবেন? মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিপ্লবের চেয়ে ক্রমান্বয়ে সংস্কারে বেশি গুরুত্ব দেয়। আমাদের দলের নামেই ‘আন্দোলন’ আছে। আমরা শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য কাজ করি, একই সঙ্গে সমাজের ভেতরে শরিয়াহ ও ইসলাম পালনে মানুষকে প্রস্তুত করি। বর্তমান সংসদীয় কাঠামো আর ইসলামকে মুখোমুখি দাঁড় করানো যথার্থ না। ফলে আমি মনে করি, আমরা যে সামগ্রিক সংস্কারের কাজ করি তার মাধ্যমেই ইনশাআল্লাহ কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারব। বরগুনা-১ আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরূকরণ ছিল। ইসলামী আন্দোলনের হয়ে আপনি সেই বলয় কীভাবে ভাঙলেন? অলিউল্লাহ: এটা আদর্শিক জয়। আপনি জানেন, আমার বাবা মাওলানা আব্দুল রশিদ (পীর সাহেব বরগুনা) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ছিলেন। দলের শুরুর দিককার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তিনি চরমোনাই ধারার একজন পীরও ছিলেন। ফলে এ অঞ্চলে ইসলামের পক্ষে অনেক কাজ হয়েছে। মানুষের অন্তরে ইসলামের প্রতি আকাঙ্ক্ষা তৈরি করার কাজ হয়েছে। তাই প্রতিফলন আম
আপনার দল ‘ইসলামী বিপ্লব’ বা ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা বলে। বর্তমান সংসদীয় কাঠামো ও সংবিধানের অধীনে থেকে আপনি কি আসলেই সেই পরিবর্তন আনতে পারবেন?
মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিপ্লবের চেয়ে ক্রমান্বয়ে সংস্কারে বেশি গুরুত্ব দেয়। আমাদের দলের নামেই ‘আন্দোলন’ আছে। আমরা শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য কাজ করি, একই সঙ্গে সমাজের ভেতরে শরিয়াহ ও ইসলাম পালনে মানুষকে প্রস্তুত করি। বর্তমান সংসদীয় কাঠামো আর ইসলামকে মুখোমুখি দাঁড় করানো যথার্থ না। ফলে আমি মনে করি, আমরা যে সামগ্রিক সংস্কারের কাজ করি তার মাধ্যমেই ইনশাআল্লাহ কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারব।
বরগুনা-১ আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরূকরণ ছিল। ইসলামী আন্দোলনের হয়ে আপনি সেই বলয় কীভাবে ভাঙলেন?
অলিউল্লাহ: এটা আদর্শিক জয়। আপনি জানেন, আমার বাবা মাওলানা আব্দুল রশিদ (পীর সাহেব বরগুনা) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ছিলেন। দলের শুরুর দিককার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তিনি চরমোনাই ধারার একজন পীরও ছিলেন। ফলে এ অঞ্চলে ইসলামের পক্ষে অনেক কাজ হয়েছে। মানুষের অন্তরে ইসলামের প্রতি আকাঙ্ক্ষা তৈরি করার কাজ হয়েছে। তাই প্রতিফলন আমার জয়।
আপনার নির্বাচনী এলাকার জেলেরা জলদস্যু ও দাদনদারদের কাছে জিম্মি। এ মাফিয়াতন্ত্র ভাঙতে আপনার হাতে নির্দিষ্ট কোনো ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ আছে কি?
অলিউল্লাহ: জলদস্যুতার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। আটককৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আমি কাজ করব। অপরাধীরা যাতে কোনো প্রভাবশালীর ছত্রছায়া না পায়, তা নিশ্চিত করব। এটা করা গেলে জলদস্যুতার সমস্যার একটা সমাধান আসবে। আর দাদন একটি ভয়ংকর চক্র। এই চক্রে কেউ একবার প্রবেশ করলে তার জীবন শেষ। আমরা জেলেদের বিনাসুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করব, দ্বীনদার সম্পদশালীদের সঙ্গে সমন্বয় করে মুদারাবা ও মুশরাকা ব্যবস্থার প্রবর্তন করব। অফ সিজনে জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। জেলে পরিবারগুলোকে শিক্ষিত করে তোলা, তাদের পরিবারে বহুমাত্রিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং মৌসুমে মাছের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ। আশা করি এর মাধ্যমে দাদনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘পীর সাহেব চরমোনাই’-এর নেতৃত্বের ওপর অতিনির্ভরশীল বলে শোনা যায়। সংসদে কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আপনি কি স্বাধীনভাবে আপনার এলাকার স্বার্থ দেখবেন, নাকি দলের হাইকমান্ডের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবেন?
অলিউল্লাহ: ইসলামী আন্দোলন সম্পর্কে এ ধারণা সঠিক নয়। বরং ইসলামী আন্দোলনে পরামর্শ খুবই প্রভাবশালী বিষয়। আমরা পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করি। আমি অবশ্যই আমার এলাকার স্বার্থসহ সামগ্রিকভাবে দেশ ও ইসলামের স্বার্থ দেখব। ইসলাম ও দেশবিরোধী কোনো আইন সংসদে উঠলে আমি তার প্রতিবাদ করাসহ যা যা করার, তাই করব ইনশাআল্লাহ। আমার দলের চাওয়াও সেটাই।
সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয়। আপনি কি সংসদে এ ধারাটিকে আরও শক্তিশালী করতে কোনো বিল উত্থাপন করবেন?
অলিউল্লাহ: এটা বিএনপির প্রতিশ্রুতির মধ্যেই আছে। আশা করি এটা হয়ে যাবে। আমাদের প্রচেষ্টা ও সমর্থন তো থাকবেই।
আপনি কি মনে করেন বর্তমান প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ন্যায়বিচার দেওয়া সম্ভব? আপনি কি সংসদে ‘ইসলামী বিচার ব্যবস্থা’র কোনো মডেল প্রস্তাব করবেন?
অলিউল্লাহ: প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার সমস্যা স্বীকৃত। বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের অনেক কিছু বাস্তবায়ন হয়েছে। বিচার বিভাগের সচিবালয় আলাদা করা হয়েছে। ফলে সমস্যার কিছু সমাধান আসবে। এখানে মনে রাখতে হবে, একজন সংসদ সদস্যের কাজ ও ক্ষমতার পরিধি আইন দ্বারা নির্ধারিত। আমরা পর্যায়ক্রমে স্বপ্নের পথে চলতে চাই।
নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আপনার দলের বিরুদ্ধে রক্ষণশীলতার অভিযোগ আছে। নারী শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় আপনার ভূমিকা কী হবে?
অলিউল্লাহ: যারা অভিযোগ করে তারা যথার্থ বলে না। আমরা নারী বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা মান্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেটা নেতিবাচক অর্থে রক্ষণশীলতা না, বরং দেশের হাজার বছরের ইতিহাস আর ঐহিত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা। এখানে বলে রাখি, ইসলামের নীতিমালায় নারীর অধিকার নিশ্চিতভাবেই রক্ষা হবে এবং বিকশিত হবে। নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা আরও নিবিড়ভাবে সমুন্নত করা হবে ইনশাআল্লাহ।
আপনার দলের ইশতেহারে ‘ইসলামী হুকুমত’-এর কথা বলা হয়। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আপনি কি গণতন্ত্র আর ইসলামী শাসনতন্ত্রের মধ্যে কোনো সাংঘর্ষিক কিছু দেখেন?
অলিউল্লাহ: ইসলামী হুকুমত বলা হয়নি। শরিয়াহর প্রাধান্য বলা হয়েছে। এ দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য অনেক বড় তত্ত্বীয় বিষয়। এখানে সেটা আলোচনা করার সুযোগ নেই। আর প্রশ্নের শেষাংশের বিষয়ে বলব, আমি মীমাংসা অযোগ্য কোনো সাংঘর্ষিকতা দেখি না।
What's Your Reaction?