সংসারের বাইরে মায়ের নিজের পরিচয় কেন জরুরি
আমাদের সমাজে মা পরিচয়টি এতটাই বড় এবং গভীর যে অনেক সময় একজন নারীর ব্যক্তিগত সত্তা, স্বপ্ন বা পছন্দগুলো আড়ালে পড়ে যায়। সংসার, সন্তান, রান্না, পরিবারের দায়িত্ব-সবকিছুর মাঝখানে একজন মা ধীরে ধীরে নিজের জন্য বাঁচার জায়গাটুকু হারিয়ে ফেলেন। একসময় দেখা যায়, তিনি শুধু অন্যদের প্রয়োজন পূরণ করতেই ব্যস্ত, কিন্তু নিজের ইচ্ছা, শখ বা পরিচয় নিয়ে ভাবার সুযোগই পান না। কিন্তু একজন মা শুধু মা নন। তিনি একজন স্বতন্ত্র মানুষও। তার নিজের পছন্দ, প্রতিভা, স্বপ্ন এবং পরিচয় রয়েছে। সংসারের বাইরে সেই পরিচয়টুকু বজায় রাখা শুধু তাঁর জন্য নয়, পুরো পরিবারের জন্যই জরুরি। কেন নিজের পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ? অনেক নারী মা হওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো জীবন থেকে দূরে সরে যান। আগে যে মানুষটি গান গাইতেন, ছবি আঁকতেন, চাকরি করতেন বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন, তিনি একসময় শুধু ‘কারো মা’ পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যান। এতে ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, একজন মানুষের আত্মপরিচয় তার মানসিক সুস্থতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যখন কেউ নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় হারিয়ে ফেলেন, তখন তাঁর মধ্যে হতাশা, একাকিত্ব বা আত
আমাদের সমাজে মা পরিচয়টি এতটাই বড় এবং গভীর যে অনেক সময় একজন নারীর ব্যক্তিগত সত্তা, স্বপ্ন বা পছন্দগুলো আড়ালে পড়ে যায়। সংসার, সন্তান, রান্না, পরিবারের দায়িত্ব-সবকিছুর মাঝখানে একজন মা ধীরে ধীরে নিজের জন্য বাঁচার জায়গাটুকু হারিয়ে ফেলেন। একসময় দেখা যায়, তিনি শুধু অন্যদের প্রয়োজন পূরণ করতেই ব্যস্ত, কিন্তু নিজের ইচ্ছা, শখ বা পরিচয় নিয়ে ভাবার সুযোগই পান না।
কিন্তু একজন মা শুধু মা নন। তিনি একজন স্বতন্ত্র মানুষও। তার নিজের পছন্দ, প্রতিভা, স্বপ্ন এবং পরিচয় রয়েছে। সংসারের বাইরে সেই পরিচয়টুকু বজায় রাখা শুধু তাঁর জন্য নয়, পুরো পরিবারের জন্যই জরুরি।
কেন নিজের পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ?
অনেক নারী মা হওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো জীবন থেকে দূরে সরে যান। আগে যে মানুষটি গান গাইতেন, ছবি আঁকতেন, চাকরি করতেন বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন, তিনি একসময় শুধু ‘কারো মা’ পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যান। এতে ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, একজন মানুষের আত্মপরিচয় তার মানসিক সুস্থতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যখন কেউ নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় হারিয়ে ফেলেন, তখন তাঁর মধ্যে হতাশা, একাকিত্ব বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সন্তান বড় হয়ে নিজের জীবনে ব্যস্ত হয়ে গেলে অনেক মা হঠাৎ করেই শূন্যতা অনুভব করেন।
তাই সংসারের পাশাপাশি নিজের জন্যও একটি আলাদা জায়গা থাকা প্রয়োজন। সেটা চাকরি, ছোট ব্যবসা, কোনো শখ, লেখালেখি, পড়াশোনা বা সামাজিক কাজ, যেকোনো কিছু হতে পারে।
শুধু অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিষয় নয়
অনেকেই মনে করেন, নিজের পরিচয় মানেই শুধু চাকরি বা উপার্জন। কিন্তু বিষয়টি তার থেকেও অনেক বড়। একজন মা যদি নিয়মিত নিজের পছন্দের কোনো কাজ করেন, নতুন কিছু শেখেন বা নিজের ভালো লাগার জন্য সময় রাখেন, সেটাও তার পরিচয়ের অংশ।
কেউ হয়তো বাগান করতে ভালোবাসেন, কেউ রান্না শেখান, কেউ বই পড়েন, আবার কেউ অনলাইনে ছোট উদ্যোগ চালান। এসব কাজ একজন মানুষকে নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত রাখে। এতে মানসিক চাপও অনেক কমে।
সন্তানদের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে
মায়ের নিজের পরিচয় থাকলে তার ইতিবাচক প্রভাব সন্তানদের উপরও পড়ে। সন্তান তখন শেখে, একজন নারীর জীবন শুধু সংসার সামলানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর নিজের স্বপ্ন, সময় এবং সম্মানেরও মূল্য রয়েছে। এতে সন্তানদের মধ্যে নারীর প্রতি সম্মানবোধ তৈরি হয়। বিশেষ করে মেয়েশিশুরা আত্মনির্ভর হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়, আর ছেলেরা নারীদের ব্যক্তিসত্তাকে সম্মান করতে শেখে।
পরিবারেরও দায়িত্ব রয়েছে
অনেক সময় মায়েরা নিজের জন্য কিছু করতে চাইলেও অপরাধবোধে ভোগেন। মনে হয়, নিজের জন্য সময় নেওয়া মানেই হয়তো পরিবারের প্রতি দায়িত্ব কমে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবে একজন মানুষ মানসিকভাবে ভালো থাকলে তবেই তিনি অন্যদের ভালো রাখতে পারেন।
এই জায়গায় পরিবারের সমর্থন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সংসারের কাজ শুধু একজন মানুষের দায়িত্ব নয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা সহযোগিতা করলে একজন মা নিজের জন্যও কিছুটা সময় বের করতে পারেন।
নিজের জন্য সময় নেওয়া স্বার্থপরতা নয়
আমাদের সমাজে এখনও অনেক নারী নিজের জন্য কিছু করতে গেলে স্বার্থপর তকমা পান। অথচ নিজের ভালো থাকা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি প্রয়োজন। একজন মা যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত, হতাশ বা মানসিকভাবে অবসাদে থাকেন, তাহলে তার প্রভাব পুরো পরিবারের ওপর পড়ে।
তাই মা দিবস শুধু মাকে উপহার দেওয়ার দিন নয়, বরং তাকে মানুষ হিসেবে দেখারও দিন। তার নিজের পরিচয়, ইচ্ছা এবং স্বপ্নের মূল্য বোঝার দিন।
একজন মা পরিবারের ভিত্তি ঠিকই, কিন্তু সেই ভিত্তিরও নিজের শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার জায়গা প্রয়োজন। সংসারের বাইরে নিজের পরিচয় থাকলে একজন মা শুধু দায়িত্ব পালনই করেন না, তিনি নিজের জীবনটাও পূর্ণভাবে বাঁচতে পারেন।
সূত্র: মিডিয়াম, টাইমস অব ইন্ডিয়া
- আরও পড়ুন
সন্তান প্রসবের পর কি মায়েদেরও দুধ খাওয়া উচিত
ফ্যাটি লিভার কখন ভয়ংকর রূপ নেয়? কোন পর্যায় ঝুঁকি বাড়ে
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?