নিয়মিত, অনিয়মিত সদস্যদের দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সংস্কার কমিটি গঠন করে অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ। গত বছর বিশেষ সাধারণ সভায় অভিনেতা তারিক আনাম খানকে প্রধান করে ওই কমিটি করা হয়। তার নেতৃত্বাধীন কমিটি বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেসবের কোনোটিই কার্যকর না করেই এপ্রিল মাসে নির্বাচনে যাচ্ছে সংগঠনটি।
অভিনয়শিল্পী সংঘের বেশ কয়েকজন সদস্য ও আগের কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তাদের দাবি, সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। তাই সংস্কার করার আগে যথানিয়মে নির্বাচন আয়োজন করবেন তারা। অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবীব নাসিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘নির্বাচন আগের সবকিছু ঠিক রেখেই হবে। এ মাসের ২৫ তারিখে নির্বাচন কমিশনারের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তারা পনেরো দিনের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন।’
একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিলের মধ্যে হচ্ছে অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাচন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হচ্ছেন খায়রুল আলম সবুজ, সহকারি নির্বাচন কমিশনার থাকবেন নরেশ ভূঁইয়া ও ফারুক আহমেদ। আপিল বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন দিলারা জামান, আবুল হায়াত ও মামুনুর রশীদ।
নির্বাচনের আগে যে কোনো সংস্কার হচ্ছে না সে প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান। অন্তর্বর্তী কমিটির কী কী সংস্কারের পর নির্বাচন হচ্ছে? জাগো নিউজকে রওনক হাসান বলেন, ‘নতুন কোনো সংস্কার হচ্ছে না। আগের নিয়মেই নির্বাচন হবে। সংস্কার কমিটির যেসব প্রস্তাবনা দিয়েছেন, তাদের প্রস্তাবনাসহ অন্য সদস্যদের আরও কিছু প্রস্তাবনা ছিল। সব মিলে নির্বাচিত কমিটি সেসব সংস্কার করবে। নেক্সট সাধারণ সভায় পাশ করিয়ে সেগুলো গঠনতন্ত্রে যুক্ত করা হবে। আমরা যে সাধারণ সভা করেছি, সেখানে কিছু পাশ হয়নি। নতুন করে অনেক প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি এসেছে নানান রকম মতামত।’
- আরও পড়ুন:
- শিল্পীসংঘের উপদেষ্টা পরিষদের পদত্যাগ চান অভিনয়শিল্পীরা
- ‘আমি বিটিভি যাইনি, গিয়েছি ঢাকা মেডিকেলে’
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহাখালীতে অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী সংঘের বিশেষ সাধারণ সভা। সেখানে নিয়মিত, অনিয়মিত সদস্যদের দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সংস্কার কমিটি গঠন করে সংগঠনটি। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সংঘের বর্তমান কমিটি বহাল থাকবে। সমিতির নির্বাহী দায়িত্ব পালন করবে সংস্কার কমিটি। আর দাপ্তরিক কাজগুলো করবে বর্তমান কমিটি, পাশাপাশি তারা সংস্কার কমিটিকে সহযোগিতাও করবে। পরবর্তী চার মাসের মধ্যে সাধারণ সভা আয়োজন করার কথাও সেখানে বলা হয়েছিল।
সংস্কার কমিটির প্রধান তারিক আনাম খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা চার মাসের জন্য একটা সংস্কার কমিটির দায়িত্ব নিয়েছিলাম। যেটার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৮ জানুয়ারি। ৩১ জানুয়ারি সাধারণ সভা হয়েছে। সেখানে সংস্কার প্রস্তাবনাগুলো দিয়েছি। তারপর কী হয়েছে বলতে পারছি না। আমি এ বিষয়ে এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিনয়শিল্পী সংঘের একজন সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংস্কার হবে না। সবকিছু যেভাবে চলছিল, সেভাবেই চলবে। এটা আসলে একটা গেম ছিল।’ ওই অভিনেতা আরও বলেন, ‘এই সংঘে আর থাকবো কি না সেটা ভাবছি এখন। সংস্কারই যদি না হয়, তাহলে কেন সংস্কার কমিটি করা হলো? এটা গায়ের জোরে চলা একটি কমিটি। তারা অনেক কিছু করছে, যেগুলো লোক দেখানো।’
- আরও পড়ুন:
- পদত্যাগ করতে যাচ্ছে অভিনয়শিল্পী সংঘের নির্বাহী কমিটি
- শিল্পীসংঘ থেকে ‘সাঁতাও’ অভিনেত্রীর পদত্যাগ
- আলো আসবেই গ্রুপে থাকা সদস্যদের ক্রমে নোটিশ দেবে শিল্পীসংঘ
নির্বাচনের আগে কেন সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না? জানতে চাইলে আহসান হাবীব নাসিম বলেন, ‘সংস্কার কমিটি যে প্রস্তাবনাগুলো দিয়েছে সেসবের মধ্যে গঠনতন্ত্রেরও কিছু বিষয় আছে। কিন্তু এই নির্বাচনটা হবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। কমিটি ছাড়াও সদস্যরাও গঠনতন্ত্র নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছেন। সেসব সংস্কার করে নির্বাচন করতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। তখন একটা সংকট তৈরি হয়ে যাবে। নতুন কমিটি এসে গঠনতন্ত্র পুনর্বিন্যাস করবে। তার মধ্যে সংস্কার প্রস্তাবনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রথম সাধারণ সভায় সেসব অনুমোদন করা হবে, তারপর সেটা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন করানো হবে।
জানা গেছে, অভিনয়শিল্পী সংঘের উল্লেখযোগ্য সংস্কারগুলোর মধ্যে জরুরি দুটি দাবি ছিল, যদি কোনো সদস্য সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত থাকেন, তিনি সংঘের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, তবে সাধারণ সদস্য থাকতে পারবেন। এ ছাড়া পরপর দুবার একই পদে কেউ নির্বাচন করতে পারবেন না।
এমআই/আরএমডি/এএসএম