‘সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনতে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আধুনিক নকশা (ডিজাইন) প্রণয়ন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি। সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। তাদের প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তাই এসব হাসপাতালকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ১০১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে যে ধরনের চিকিৎসাসেবা নিতে মানুষকে যেতে হয়, তার বড় একটি অংশ পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েই নিশ্চিত করা হবে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যাওয়ার চাপ

‘সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনতে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আধুনিক নকশা (ডিজাইন) প্রণয়ন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি। সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। তাদের প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তাই এসব হাসপাতালকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ১০১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে যে ধরনের চিকিৎসাসেবা নিতে মানুষকে যেতে হয়, তার বড় একটি অংশ পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েই নিশ্চিত করা হবে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যাওয়ার চাপ কমবে এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার এই মেগা প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সেবা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের পরিমাণ দেশের জিডিপির ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অবকাঠামো, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের ৫টি বিভাগীয় শহরে ৫টি নতুন শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করতে পৃথক বিশেষায়িত স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

নগর স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনভিত্তিক নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাঠামোর আওতায় এনে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য আরও সমন্বিত ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

বিগত সময়ের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ছাড়াই শত শত কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এর অনেকগুলো বিভিন্ন হাসপাতালে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন যাচাই ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সরঞ্জাম কেনা হবে, যাতে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করা যায়।

চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

সভায় বক্তারা বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশের সাধারণ মানুষ কম খরচে ও সহজে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow