সভার পর হকিতে অস্থিরতার রেখা স্পষ্ট
এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের প্রস্তুতি চলাকালে হকিতে বদলে যাচ্ছে সমীকরণ। প্রস্তুতি পর্বের মাঝপথে বদলে গেছে হকির নির্বাহী কমিটি। পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে জাতীয় দল থেকে শুরু করে এশিয়ান গেমসের কন্টিজেন্টেও। মাঝপথে খেলোয়াড় পরিবর্তন এসেছে, স্কোয়াডে এসেছেন আধাফিট একাধিক খেলোয়াড়। গতকাল নির্বাহী কমিটির সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর পর অস্থিরতার রেখাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে জাতীয় পুরুষ দলের ম্যানেজার পদে। এশিয়ান গেমস সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই যে দায়িত্ব সামলে আসছিলেন বদরুল ইসলাম দীপু, হঠাৎ করেই তাকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরিফুল হক প্রিন্সকে। প্রস্তুতির মাঝপথে এমন পরিবর্তনের কারণ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় দলের স্থানীয় কোচ পরিবর্তনের গুঞ্জনও ছিল। সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা কোচ পরিবর্তনের বিষয় অবশ্য নিশ্চিত করতে পারেননি। পরিবর্তনের এখানেই শেষ নয়। পুরুষ দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব হারানোর পর বদরুল ইসলাম দীপুকে নারী দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই দায়িত্ব অবশ্য গ্রহণ করেননি তিনি। সভায় বিনয়ের সঙ্গে প্রস্তাবটি প্
এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের প্রস্তুতি চলাকালে হকিতে বদলে যাচ্ছে সমীকরণ। প্রস্তুতি পর্বের মাঝপথে বদলে গেছে হকির নির্বাহী কমিটি। পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে জাতীয় দল থেকে শুরু করে এশিয়ান গেমসের কন্টিজেন্টেও।
মাঝপথে খেলোয়াড় পরিবর্তন এসেছে, স্কোয়াডে এসেছেন আধাফিট একাধিক খেলোয়াড়। গতকাল নির্বাহী কমিটির সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর পর অস্থিরতার রেখাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে জাতীয় পুরুষ দলের ম্যানেজার পদে। এশিয়ান গেমস সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই যে দায়িত্ব সামলে আসছিলেন বদরুল ইসলাম দীপু, হঠাৎ করেই তাকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরিফুল হক প্রিন্সকে। প্রস্তুতির মাঝপথে এমন পরিবর্তনের কারণ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় দলের স্থানীয় কোচ পরিবর্তনের গুঞ্জনও ছিল। সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা কোচ পরিবর্তনের বিষয় অবশ্য নিশ্চিত করতে পারেননি।
পরিবর্তনের এখানেই শেষ নয়। পুরুষ দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব হারানোর পর বদরুল ইসলাম দীপুকে নারী দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই দায়িত্ব অবশ্য গ্রহণ করেননি তিনি। সভায় বিনয়ের সঙ্গে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরে কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘এমন কী ঘটেছে যে, আমাকে জাতীয় দলের ম্যানেজারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। নারী দলের সহকারী ম্যানেজার করার সিদ্ধান্তটা আমার জন্য অস্বস্তিকর। এই কারণে বিনয়ের সঙ্গে আমি সেই দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছি।’
দেশের হকিতে ক্লাবগুলোর ভারসাম্য বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষ ক্লাবগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও ভারসাম্য না থাকায় অতীতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গতকালের নির্বাহী কমিটির সভার পর সেই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বদলে বৈষম্যই আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন সাব-কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে মোহামেডানের একক আধিপত্য স্পষ্ট হয়েছে, এমন একক প্রভাব নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কোনো একটি ক্লাবের প্রভাব যদি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কমিটিগুলোতে অতিরিক্তভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, তাহলে তার প্রভাব মাঠেও পড়তে পারে। কারণ হকি শুধু খেলোয়াড়, কোচ কিংবা মাঠের লড়াইয়ের নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ক্লাবগুলোর স্বার্থ, সংগঠকদের আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রশ্ন। সেই জায়গায় ভারসাম্য নষ্ট হলে আজকের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কাল মাঠের সংকটে রূপ নিতে পারে।
সরকার দায়িত্ব দেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বর্তমান কমিটি। সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক এ সম্পর্কে বলেছেন, ‘সরকার যখন আমাদের এই কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছে, আমাদের ৯০ দিন সময়সীমা, যার মধ্যে এরই মধ্যে ২০-২৫ দিন চলে গেছে। তাই আমাদের কমিটির মধ্য থেকেই আমরা দুজনকে দায়িত্ব দিয়েছি যে, নির্বাচন কার্যক্রম যেন ৯০ দিনের মধ্যেই আমরা সুষ্ঠুভাবে করতে পারি, এটাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলছি।’
নির্বাচন আয়োজনের এ প্রতিশ্রুতি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত জাতীয় দল, ক্লাব এবং সংগঠনের ভেতরের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিই এখন বড় পরীক্ষা। কারণ একটি অ্যাডহক কমিটির আয়ু সীমিত, কিন্তু তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব অনেক দীর্ঘ হতে পারে।
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে তাই বাংলাদেশের হকিতে এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত চিত্র। একদিকে মাঠে চলছে ঘাম ঝরানোর প্রস্তুতি, অন্যদিকে মাঠের বাইরের প্রশাসনিক পালাবদল তৈরি করছে নতুন হিসাব। এই টানাপড়েনের মধ্যে বাংলাদেশের হকির ভবিষ্যৎ কোন পথে হাঁটবে!
What's Your Reaction?