১০ হাজার ব্যাংক কর্মীকে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় ‘জুলুমবাজ’ বললেন তারেক রহমান

ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ ঘটনাকে ‘জুলুম’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, নিরপরাধ ও নির্দলীয় মানুষকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের বিবেককে প্রশ্ন করা উচিত ছিল। রোববার (৯ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম নগরের হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউয়ের অডিটোরিয়ামে নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তনের পর প্রায় ১০ হাজার মানুষকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ‘দশ হাজারের মতো মানুষকে তারা বের করে দিল। তার মানে কত বড় জুলুমবাজ তারা দেখেন। জুলুমবাজ না হলে নিরীহ এতগুলো মানুষকে তারা চাকরিচ্যুত করে?’ তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি কেউ কেউ যুক্তি হিসেবে দেখাতে পারেন। কিন্তু এর কারণে নির্দলীয় ও নিরপরাধ কর্মীদের চাকরি হারানো কতটা যৌক্তিক, সেটিই প্রশ্ন। চাকরিচ্যুতদের মধ্যে অনেক নারী রয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তাদের অনেকের ছোট সন্তান রয়েছে। চাকরি হারানোর পর

১০ হাজার ব্যাংক কর্মীকে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় ‘জুলুমবাজ’ বললেন তারেক রহমান

ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ ঘটনাকে ‘জুলুম’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, নিরপরাধ ও নির্দলীয় মানুষকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের বিবেককে প্রশ্ন করা উচিত ছিল।

রোববার (৯ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম নগরের হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউয়ের অডিটোরিয়ামে নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তনের পর প্রায় ১০ হাজার মানুষকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ‘দশ হাজারের মতো মানুষকে তারা বের করে দিল। তার মানে কত বড় জুলুমবাজ তারা দেখেন। জুলুমবাজ না হলে নিরীহ এতগুলো মানুষকে তারা চাকরিচ্যুত করে?’ তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি কেউ কেউ যুক্তি হিসেবে দেখাতে পারেন। কিন্তু এর কারণে নির্দলীয় ও নিরপরাধ কর্মীদের চাকরি হারানো কতটা যৌক্তিক, সেটিই প্রশ্ন।

চাকরিচ্যুতদের মধ্যে অনেক নারী রয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তাদের অনেকের ছোট সন্তান রয়েছে। চাকরি হারানোর পর এসব পরিবারের কী পরিস্থিতি হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্টরা শুধু মিথ্যা ও বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে যুক্ত নন, একই সঙ্গে ‘জুলুমবাজ’ও।

বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর মামলা, গ্রেপ্তার, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মী পর্যন্ত অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিরোধী মত প্রকাশ করলেই মামলা দেওয়া হয়েছে এবং রাতের বেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অনেককে তুলে নেওয়া হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমেদের গুম হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেন।

বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দলটির নেতাকর্মীরা ১৭ বছর আন্দোলন চালিয়ে না গেলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারণা তৈরি হতো না। বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও হত্যার ঘটনাগুলোই বিশ্বের সামনে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলন করেছে এবং একপর্যায়ে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তবে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি বলে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন তিনি।

এ সময় ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতে যারা স্বৈরাচারবিরোধী অবস্থানের কথা বলেছিল, তাদের কেউ কেউ পরে সেই সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে জামায়াত ও সিপিবির নাম উল্লেখ করেন তিনি।

সামনে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে উল্লেখ করে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, আইনজীবী ফোরাম, কৃষক দল, শ্রমিক দল ও তাঁতী দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দলের প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখা, দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার এবং সাংগঠনিক কাউন্সিলের কার্যক্রম সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow