সরকারের অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার নস্যাতে মহলবিশেষ তৎপর 

ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বলেছেন, সরকারি দল বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যে অসাম্প্রদায়িক মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেছিল, তা নস্যাতে মহলবিশেষ তৎপর রয়েছে। এহেন অশুভ তৎপরতা রোধে সরকারকে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের দুয়েক দিন আগে থেকে নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে ভোটদানের নিমিত্তে যে ধরনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছিল, সেই একই ধারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন- বসে থাকার সময় নেই, যুদ্ধে নামতে হবে। আমরা সব জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই।  শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব মানববন্ধনে হিন্দু নেতারা এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী এক মাসে দেশব্যাপী সংঘটিত প্রায় অর্ধশত সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চাভুক্ত সংগঠনগুলো যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।  মানববন্ধনে গণফোরামের ভারপ্র

সরকারের অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার নস্যাতে মহলবিশেষ তৎপর 
ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বলেছেন, সরকারি দল বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যে অসাম্প্রদায়িক মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেছিল, তা নস্যাতে মহলবিশেষ তৎপর রয়েছে। এহেন অশুভ তৎপরতা রোধে সরকারকে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের দুয়েক দিন আগে থেকে নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে ভোটদানের নিমিত্তে যে ধরনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছিল, সেই একই ধারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন- বসে থাকার সময় নেই, যুদ্ধে নামতে হবে। আমরা সব জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই।  শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব মানববন্ধনে হিন্দু নেতারা এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী এক মাসে দেশব্যাপী সংঘটিত প্রায় অর্ধশত সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চাভুক্ত সংগঠনগুলো যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।  মানববন্ধনে গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, সরকারের বয়স মাত্র এক মাস। কেউ এটিকে মধুচন্দ্রিমা বলছেন। দেশবাসীর প্রশ্ন, সরকার কি এখনো মধুচন্দ্রিমায় আছে, নাকি বাস্তব কাজের সময় চলছে? প্রধানমন্ত্রী দ্রুত কাজ করার কথা বলেছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছেন-এমন উদ্যোগ আমরা সব ক্ষেত্রেই দেখতে চাই। একইসঙ্গে আমরা চাই, বিগত সরকারের আমলে নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, সরকার জিরো টলারেন্সের কথা বললেও দেশে এখনো মবক্রেসি চলছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, হত্যাকাণ্ড ও মন্দিরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং ঐক্যমোর্চার যুগ্ম সমন্বয়ক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু সেই আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার মানবিক ও সমঅধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, নির্বাচনের এক মাস না যেতেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে রাজপথে নামা অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ রয়েছে, গত এক মাসে প্রায় অর্ধশত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকারের (অন্তর্বর্তী সরকার) কাছে অতীতের গ্লানি দূর করে নতুন অধ্যায় শুরুর প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত করা হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের (একাংশ) মুখপাত্র ও নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে’র পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সুব্রত হাজরা, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুমন কুমার রায়, ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ দাস, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের (এম.কে) সাধারণ সম্পাদক ডা. এম কে রায়, অনুভব বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক অতুল চন্দ্র মণ্ডল, ঐক্য পরিষদ মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব কৃষ্ণ দাস, মতুয়া মহাসংঘের নিউটন অধিকারী, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা, ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সজীব সরকার, সনাতন মহাসংঘের পিযূস দাস প্রমুখ।  নেতারা ইতিমধ্যে সংঘটিত সকল সাম্প্রদায়িক ঘটনার সাথে জড়িতদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুচিকিৎসার জোর দাবি জানান। একই সাথে সরকারকে অনতিবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনসহ তাদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানান তারা। মানববন্ধন শেষে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন- ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশনের সভাপতি বরুণ চন্দ্র সরকার, ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মিলন কান্তি দত্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র নাথ বসু, রমেন মণ্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. দীপঙ্কর ঘোষ, মহিলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপালী চক্রবর্তী, গীতা বিশ্বাস প্রমুখ।  ঐক্যমোর্চার নেতারা জানান, রাজধানী ঢাকা ছাড়াও একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow