সরিষাবাড়ীতে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি বিঘা জমিতে একশো মণের ওপর মিষ্টি আলু উৎপাদন হয়েছে বলে জানা গেছে। আলুর বাম্পার ফলন হওয়ার পাশাপাশি বাজার দর ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে ও কৃষকদের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কামরাবাদ, ভাটারা, সাতপোয়া, পোগলদিঘা, আওনা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গত বছর ৬৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ করা হলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬৮০ হেক্টর। মিষ্টি আলু অবহেলিত ফসল হলেও উপজেলায় বড় পরিসরে চাষাবাদ করা হয়। বিশেষ করে চরাঞ্চলের পতিত জমি, নদীর ধারের জমিগুলোতে এই আলু চাষ করা হয়। উপশী হাইব্রিড জাতের মিষ্টি আলু চারা রোপণের ৯০ দিনের মধ্যেই তোলা যায়। প্রতি বিঘা জমিতে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ করে একশো মণের বেশি মিষ্টি আলু উৎপাদন হয়। আলু উত্তোলন শুরুর দিকে কৃষকরা বিঘা প্রতি ৮০-৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করলেও বর্তমানে এলাকার হাট বাজারে ৫৫-৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। সামনের দিনে আরও দাম বাড়বে বলে কৃষক আবুল হোসেন জানান। তারা অন্য কোনো ফসল আবাদ করে এত লাভ পান না বলে স্বীকার

সরিষাবাড়ীতে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতি বিঘা জমিতে একশো মণের ওপর মিষ্টি আলু উৎপাদন হয়েছে বলে জানা গেছে। আলুর বাম্পার ফলন হওয়ার পাশাপাশি বাজার দর ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে ও কৃষকদের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কামরাবাদ, ভাটারা, সাতপোয়া, পোগলদিঘা, আওনা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গত বছর ৬৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ করা হলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬৮০ হেক্টর। মিষ্টি আলু অবহেলিত ফসল হলেও উপজেলায় বড় পরিসরে চাষাবাদ করা হয়। বিশেষ করে চরাঞ্চলের পতিত জমি, নদীর ধারের জমিগুলোতে এই আলু চাষ করা হয়। উপশী হাইব্রিড জাতের মিষ্টি আলু চারা রোপণের ৯০ দিনের মধ্যেই তোলা যায়। প্রতি বিঘা জমিতে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ করে একশো মণের বেশি মিষ্টি আলু উৎপাদন হয়। আলু উত্তোলন শুরুর দিকে কৃষকরা বিঘা প্রতি ৮০-৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করলেও বর্তমানে এলাকার হাট বাজারে ৫৫-৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। সামনের দিনে আরও দাম বাড়বে বলে কৃষক আবুল হোসেন জানান। তারা অন্য কোনো ফসল আবাদ করে এত লাভ পান না বলে স্বীকার করেন।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধারাবর্ষা, বড়বাড়িয়া, কান্দারপাড়া, সৈয়দপুর, বয়েসিং, পাখাডুবি, মোহনগঞ্জ, কাশারীপাড়া, ফুলবাড়িয়া, পারপাড়া, গোপীনাথপুর, কৃষ্টপুর, চর হরিপুর, আওনা, পোগলদিঘাসহ বিভিন্ন এলাকার চরাঞ্চলে মিষ্টি আলুর চাষ করা হয়। বড় ব্যবসায়ীরা মিষ্টি আলু বস্তায় ভরে ট্রাকে করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যায়। মিষ্টি আলুর লতা-গাছ গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, মিষ্টি আলু গাছে পোকা মাকড়সহ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়। যেমন- গাছের পাতার দাগ রোগ (লক্ষণ: পাতায় বাদামি/কালচে গোল দাগ), কালো পচা (লক্ষণ: কন্দে কালো শক্ত দাগ), কাণ্ড পচা (লক্ষণ: গাছ ঢলে পড়ে, কাণ্ড নরম ও পচা), মিষ্টি আলুর উইভিল (লক্ষণ: কন্দে ছিদ্র, ভেতর ফাঁপা), জাব পোকা (লক্ষণ: পাতার রস শোষণ, পাতা কুঁকড়ে যায়), কাটুই পোকা (লক্ষণ: চারা কেটে ফেলে) সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শে কৃষকদের আলু ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার, সন্ধ্যায় জমি পরিদর্শন ও পরিষ্কার রাখা, পানি নিষ্কাশন ভালো রাখা, আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংস করা, জমি ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার, প্রয়োজনে অনুমোদিত দানাদার কীটনাশক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। আলুতে ভাইরাস রোগ ছড়ালে সংরক্ষণে পচন বাড়ে, বাজারমূল্য কমে যায়। ফলনে খরচ কম হওয়ায় ও দামে অধিক লাভজনক হওয়ায় পতিত জমিগুলোতে মিষ্টি আলুচাষে ঝুঁকছে চরাঞ্চলের কৃষকেরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow