সহচরদের মারধরে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিল হনুমান
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। সহচরদের মারধরে গুরুতর আহত এক হনুমান নিজেই ভ্যানে চড়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে, এমন অদ্ভুত ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
জানা গেছে, কিছুদিন আগে স্থানীয় কয়েকজন মানুষ একটি হনুমানকে স্নেহবশত তার হাতে মেহেদি লাগিয়ে দেন। কিন্তু এই পরিবর্তনকৃত চেহারা তার নিজের দলের কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়ায়, তাকে দল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে দলে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্য হনুমানগুলো তাকে বেধড়ক মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এতে গুরুতর আহত হনুমানটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজেই একটি ভ্যানে উঠে হাসপাতালে গিয়ে বেডে শুয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে।
এদিকে, খাবারের সন্ধানে ভারত থেকে দলে দলে হনুমান সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে ধর্মদহ সীমান্ত দিয়ে আসা এসব হনুমান এখন দৌলতপুর হয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
প্রথমদিকে, এসব হনুমানের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ের পরিবর্তে কৌতূহল ও আনন্দের সৃষ্টি করে। তারা মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশে যাচ্ছে, কখনো কারও কাঁধে উঠে বসছে, আবার কখনো খাবারের আশায় পথচারীদের কাছে ঘেঁষে যাচ্ছে। এমনকি এক স্থান থেকে অন্
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। সহচরদের মারধরে গুরুতর আহত এক হনুমান নিজেই ভ্যানে চড়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে, এমন অদ্ভুত ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
জানা গেছে, কিছুদিন আগে স্থানীয় কয়েকজন মানুষ একটি হনুমানকে স্নেহবশত তার হাতে মেহেদি লাগিয়ে দেন। কিন্তু এই পরিবর্তনকৃত চেহারা তার নিজের দলের কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়ায়, তাকে দল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে দলে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে অন্য হনুমানগুলো তাকে বেধড়ক মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এতে গুরুতর আহত হনুমানটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজেই একটি ভ্যানে উঠে হাসপাতালে গিয়ে বেডে শুয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে।
এদিকে, খাবারের সন্ধানে ভারত থেকে দলে দলে হনুমান সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে ধর্মদহ সীমান্ত দিয়ে আসা এসব হনুমান এখন দৌলতপুর হয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
প্রথমদিকে, এসব হনুমানের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ের পরিবর্তে কৌতূহল ও আনন্দের সৃষ্টি করে। তারা মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশে যাচ্ছে, কখনো কারও কাঁধে উঠে বসছে, আবার কখনো খাবারের আশায় পথচারীদের কাছে ঘেঁষে যাচ্ছে। এমনকি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে তারা ভ্যান, রিকশা কিংবা অটোরিকশায় চড়ে বসছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষও তাদের তাড়িয়ে না দিয়ে পাশে বসিয়ে নিচ্ছে। তবে এই সহাবস্থান সবসময় সুখকর থাকছে না।
খাবার না পেলে অনেক সময় হনুমানগুলো আক্রমণাত্মক আচরণ করছে। দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ বাজারে তরিকুল ইসলাম ও কটা নামের দুই ব্যক্তিকে একটি হনুমান কামড় দিলে তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।
বর্তমানে এসব হনুমান দৌলতপুরের বিভিন্ন বাড়িঘর, অফিস-আদালতের ছাদ ও বারান্দায় অবাধে বিচরণ করছে। তবে তাদের উপস্থিতি শুধু কৌতূহলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি কৃষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে আসার সময় ও পরে তারা ভুট্টা, গম, তুলা, আলুসহ আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে বলে জানান কৃষক ও ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা দৌলতপুর ভারপ্রাপ্ত ফরেস্ট অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলায় ভারত থেকে আসা কিছু হনুমান খাদ্যের অভাবে এলাকায় প্রবেশ করে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে জনগণকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে এবং তাদের বিরক্ত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, তারা শিগগিরই স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরে যাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মানুষ ও হনুমানের এই অদ্ভুত সহাবস্থান যেমন বিস্ময়ের জন্ম দিচ্ছে, তেমনি ধীরে ধীরে তা উদ্বেগ ও ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।