সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ৪ জন নিহত
উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হয়েছেন একদল অভিবাসী। সমুদ্রপথে যাত্রা শুরুর পর ছয় দিন খাদ্য ও পানি ছাড়া সমুদ্রে ভেসে থাকতে থাকতে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সেখান থেকে ২১ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত বাংলাদেশির মধ্যে ৪ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। তারা হলেন, দিরাই তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)। শনিবার (২৮ মার্চ) এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। জানা যায়, তোবরুক বন্দর থেকে ২১ মার্চ একটি নৌকায় করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রাপথে তারা দিক হারিয়ে ফেলে এবং ছয় দিন ধরে খাদ্য ও পানি ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকে। নৌকাটি ক্রেটা দ্বীপের দক্ষিণে লেরপেটরা থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। উদ্ধার ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খা
উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হয়েছেন একদল অভিবাসী। সমুদ্রপথে যাত্রা শুরুর পর ছয় দিন খাদ্য ও পানি ছাড়া সমুদ্রে ভেসে থাকতে থাকতে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সেখান থেকে ২১ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত বাংলাদেশির মধ্যে ৪ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়।
তারা হলেন, দিরাই তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।
শনিবার (২৮ মার্চ) এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।
জানা যায়, তোবরুক বন্দর থেকে ২১ মার্চ একটি নৌকায় করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। যাত্রাপথে তারা দিক হারিয়ে ফেলে এবং ছয় দিন ধরে খাদ্য ও পানি ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকে। নৌকাটি ক্রেটা দ্বীপের দক্ষিণে লেরপেটরা থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে।
উদ্ধার ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও পানির সংকটে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে তারা প্রাণ হারান।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া কয়েকজন অভিবাসী গ্রিসের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে সাগরপথে গ্রীসের আরেক যাত্রী দিরাইয়ের মাটিয়াপুর গ্রামের যুবক 'তারেক মিয়া' পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
নিহতদের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের ওয়াকিব মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান নামের এক মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় গ্রিসে যাওয়ার জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে তাদের লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারগুলোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্থানীয়রা দ্রুত নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত মানবপাচার চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
গ্রিস কোস্টগার্ড জানায়, ক্রেটা দ্বীপের কাছ থেকে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ ২৬ জনকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে। পরবর্তীতে জানানো হয়েছে, জীবিতদের মধ্যে ২১ বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদান এবং একজন চাঁদের নাগরিক রয়েছেন।
What's Your Reaction?