সাতক্ষীরায় শিক্ষা কর্মকর্তাকে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

সাতক্ষীরায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেনকে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আজহারুজ্জামান মুকুল, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক । সোমবার (২২ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘটনার মুখোমুখি হন বলে দাবি করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন। আবুল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের অংশ হিসেবে বিধি অনুযায়ী শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রক্রিয়া তদারক করতে তিনি বিদ্যালয়ে যান। এ সময় স্কুলের  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের সঙ্গে কথা বলি। একপর্যায়ে আমাকে দেখে তিরুস্কার করে এবং বাজে কথা বলে আমাকে হেনস্থা করে। তার ভাষ্য, আজহারুজ্জামান মুকুল নির্দিষ্ট একজনকে শিক্ষক প্রতিনিধি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। যার বিরুদ্ধে মামলাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তিনি শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের কথা জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি বিদ্যালয় ত্যা

সাতক্ষীরায় শিক্ষা কর্মকর্তাকে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

সাতক্ষীরায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেনকে হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আজহারুজ্জামান মুকুল, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘটনার মুখোমুখি হন বলে দাবি করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন।

আবুল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের অংশ হিসেবে বিধি অনুযায়ী শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রক্রিয়া তদারক করতে তিনি বিদ্যালয়ে যান। এ সময় স্কুলের  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের সঙ্গে কথা বলি। একপর্যায়ে আমাকে দেখে তিরুস্কার করে এবং বাজে কথা বলে আমাকে হেনস্থা করে।

তার ভাষ্য, আজহারুজ্জামান মুকুল নির্দিষ্ট একজনকে শিক্ষক প্রতিনিধি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। যার বিরুদ্ধে মামলাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তিনি শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের কথা জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবকও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, আজহারুজ্জামান মুকুলের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক আবদুল গনি বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তিনি সম্প্রতি কারাভোগের পর অন্তরবর্তীকালীন জামিনে মুক্ত হয়ে আবার বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তার অভিযোগ, আজহারুজ্জামান মুকুল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন সকাল পর্যন্ত মুকুল বিদ্যালয়ের পাশে জামায়াতের কার্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত ছিলেন। পরে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন।

বল্লী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মন্টু বলেন, সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের বিরোধিতা করা দুঃখজনক। তিনি অভিযোগ করেন, একাধিকবার কারাভোগ করলেও আজহারুজ্জামান মুকুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজহারুজ্জামান মুকুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত বলেন, সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ বা হুমকির অভিযোগ গুরুতর বিষয়। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow