সানভ্যালি বালুরমাঠে ২৫ মণের গরু ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড়, দাম ১১ লাখ
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ছোট ও মাঝারি গরুর পাশাপাশি এবার হাটে ক্রেতাদের নজর কাড়ছে বিশালাকৃতির দেশি গরু। রাজধানীর আফতাবনগর সংলগ্ন সানভ্যালি বালুরমাঠে বসা অস্থায়ী পশুর হাটে এমনই দুটি বড় গরু নিয়ে এসেছেন পাবনার ব্যাপারী বাহার আলী। তার দাবি, ব্রাহামা জাতের গরু দুটির মধ্যে একটি থেকে প্রায় ২৫ মণ মাংস হবে। সেই গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১১ লাখ টাকা। আরেকটি গরুর মাংস হবে ২২ থেকে ২৩ মণ, সেটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। হাট ঘুরে দেখা যায়, বাহার আলীর গরু দুটি ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড়। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ আবার দাঁড়িয়ে দাম শুনে বিস্ময় প্রকাশ করছেন। বড় আকৃতির গরু দুটির সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন, কেউ দাম জিজ্ঞেস করেই সরে যাচ্ছিলেন। ব্যাপারী বাহার আলী জানান, গরু দুটি তার নিজের গাভীর। প্রায় ছয় বছর ধরে পরম যত্নে সেগুলো লালন-পালন করেছেন। গ্রামে প্রতিদিন একটি গরুর খাওয়ার পেছনে এক হাজার টাকা করে খরচ হয়। তিনি বলেন, খামারের খাবারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক খাবারই বেশি খাওয়ানো হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করিনি। অনেক যত্ন করে বড় করেছি। তিনি আর
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ছোট ও মাঝারি গরুর পাশাপাশি এবার হাটে ক্রেতাদের নজর কাড়ছে বিশালাকৃতির দেশি গরু।
রাজধানীর আফতাবনগর সংলগ্ন সানভ্যালি বালুরমাঠে বসা অস্থায়ী পশুর হাটে এমনই দুটি বড় গরু নিয়ে এসেছেন পাবনার ব্যাপারী বাহার আলী। তার দাবি, ব্রাহামা জাতের গরু দুটির মধ্যে একটি থেকে প্রায় ২৫ মণ মাংস হবে। সেই গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১১ লাখ টাকা। আরেকটি গরুর মাংস হবে ২২ থেকে ২৩ মণ, সেটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
হাট ঘুরে দেখা যায়, বাহার আলীর গরু দুটি ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড়। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ আবার দাঁড়িয়ে দাম শুনে বিস্ময় প্রকাশ করছেন। বড় আকৃতির গরু দুটির সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন, কেউ দাম জিজ্ঞেস করেই সরে যাচ্ছিলেন।
ব্যাপারী বাহার আলী জানান, গরু দুটি তার নিজের গাভীর। প্রায় ছয় বছর ধরে পরম যত্নে সেগুলো লালন-পালন করেছেন। গ্রামে প্রতিদিন একটি গরুর খাওয়ার পেছনে এক হাজার টাকা করে খরচ হয়।
তিনি বলেন, খামারের খাবারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক খাবারই বেশি খাওয়ানো হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করিনি। অনেক যত্ন করে বড় করেছি।
তিনি আরও বলেন, একটা গরুর মাংস হবে প্রায় ২৫ মণ। এটির দাম ১১ লাখ টাকা চাচ্ছি। আরেকটির মাংস হবে ২২-২৩ মণ, এটার দাম ১০ লাখ টাকা। কেউ যদি দুটি একসঙ্গে নেয়, তাহলে ২০ লাখ টাকার কাছাকাছি দিলেই ছেড়ে দেব।
লাল রঙের এই গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা/ছবি: জাগো নিউজ
বাহার আলীর দাবি, এরই মধ্যে একজন ক্রেতা গরু দুটির দাম ১৫ লাখ টাকা বলেছেন। তবে সেই দামে বিক্রি করতে রাজি হননি তিনি।
তিনি বলেন, ঢাকায় আনার আগে গ্রামে এক ব্যাপারী ১৬ লাখ টাকা দাম বলেছিলেন। কিন্তু এত কষ্ট করে বড় করেছি, তাই ভাবলাম ঢাকায় আনলে হয়তো আরও ভালো দাম পাব। এ জন্য ঢাকায় নিয়ে এসেছি।
সংশ্লিষ্ট বেপারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার (২৩ মে) গরু দুটি নিয়ে সানভ্যালি বালুরমাঠ হাটে আসেন তিনি। শুরুর দিকে বড় সাইজের গরুটির দাম হাঁকিয়েছিলেন ১৬ লাখ, আর অপেক্ষাকৃত ছোটটির দাম চেয়েছিলেন ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু ঈদ ঘনিয়ে আসায় বর্তমানে কিছুটা কম দাম চাচ্ছেন তিনি।
হাটে আসা অনেক ক্রেতা বলছেন, এবার বড় গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কম। বাজারেও বড় গরু কম এসেছে। অল্প যে কয়টি এসেছে ব্যাপারীরা দাম বেশি চাচ্ছেন।
বাড্ডা থেকে আসা ব্যবসায়ী বদরুল ইসলাম খোকন বলেন, গরু দুটি দেখতে খুব সুন্দর। তবে ১০-১১ লাখ টাকা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আমার কাছে মনে হচ্ছে, দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, এবার হাটে বড় গরু বেশি দেখা যাচ্ছে না। যে কয়টি এসেছে দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি গরুর দামও এবার বেশি।
তিনি বলেন, ব্যাপারী দাবি করছেন বড় গরুর মাংস ২৫ মণ হবে। তবে আমার ধারণা মাংস আরও কম হবে। ১০-১১ লাখ টাকা দিয়ে গরু কেনার সামর্থ্য খুব কম মানুষের আছে। টাকাওয়ালা কারও পছন্দ হলে, তিনি হয়তো গরু দুটি কিনে নিয়ে যাবেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই গরু কেনা সম্ভব না।
হাটের অন্য ব্যাপারীরা বলছেন, এ বছর বড় গরুর চাহিদা কম। মানুষ ছোট ও মাঝারি গরুর দরদাম বেশি করছে। তবে পরিবহন খরচ ও খাবারের দাম বাড়ায় এবার আগের তুলনায় দাম একটু বেশি।
এমএএস/এমএমকে
What's Your Reaction?