সাপে কামড়ালে ‘১০০ মিনিট’ অপেক্ষা না করে কী করবেন?

এ সময় জলাবদ্ধতার কারণে সাপের চলাচল বাড়তে পারে। ফলে বাড়ির আশপাশ, ঝোপঝাড় কিংবা গ্রামাঞ্চলে সাপে কামড়ানোর ঘটনাও দেখা যায়। কিন্তু আতঙ্কের মধ্যে ভুল চিকিৎসা বা প্রচলিত পদ্ধতি আশ্রয় নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সাপে কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে যতটা সম্ভব স্থির রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর প্রথমেই যা করবেন প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাপের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিন। এরপর তাকে শান্ত রাখুন এবং অযথা হাঁটাহাঁটি বা দৌড়াদৌড়ি করতে দেবেন না। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর ও বিশেষ করে যে হাত বা পায়ে কামড়েছে, সেটি যতটা সম্ভব স্থির রাখা জরুরি। প্রয়োজনে উপযুক্ত কোনো জিনিস দিয়ে আক্রান্ত অঙ্গটি আলতোভাবে স্থির করে রাখা যেতে পারে। এরপর দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। হাতে আংটি, বালা, ঘড়ি কিংবা পায়ে টাইট কোনো অলংকার বা পোশাক থাকলে সেগুলো খুলে দিন। কারণ কামড়ের জায়গায় পরে ফোলা দেখা দিলে এসব জিনিস রক্ত চলাচলে সমস্যা তৈরি করতে পারে। ‘১০০ মিনিট’ অপেক্ষার কোনো নিয়ম নেই সাপে কামড়ানোর পর ‘প্রথম ১০০ মিনিট’ পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে-

সাপে কামড়ালে ‘১০০ মিনিট’ অপেক্ষা না করে কী করবেন?

এ সময় জলাবদ্ধতার কারণে সাপের চলাচল বাড়তে পারে। ফলে বাড়ির আশপাশ, ঝোপঝাড় কিংবা গ্রামাঞ্চলে সাপে কামড়ানোর ঘটনাও দেখা যায়। কিন্তু আতঙ্কের মধ্যে ভুল চিকিৎসা বা প্রচলিত পদ্ধতি আশ্রয় নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সাপে কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে যতটা সম্ভব স্থির রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

সাপে কামড়ানোর পর প্রথমেই যা করবেন

প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাপের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিন। এরপর তাকে শান্ত রাখুন এবং অযথা হাঁটাহাঁটি বা দৌড়াদৌড়ি করতে দেবেন না। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর ও বিশেষ করে যে হাত বা পায়ে কামড়েছে, সেটি যতটা সম্ভব স্থির রাখা জরুরি। প্রয়োজনে উপযুক্ত কোনো জিনিস দিয়ে আক্রান্ত অঙ্গটি আলতোভাবে স্থির করে রাখা যেতে পারে। এরপর দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন।

হাতে আংটি, বালা, ঘড়ি কিংবা পায়ে টাইট কোনো অলংকার বা পোশাক থাকলে সেগুলো খুলে দিন। কারণ কামড়ের জায়গায় পরে ফোলা দেখা দিলে এসব জিনিস রক্ত চলাচলে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

‘১০০ মিনিট’ অপেক্ষার কোনো নিয়ম নেই

সাপে কামড়ানোর পর ‘প্রথম ১০০ মিনিট’ পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে-এমন কোনো নিরাপদ সময়সীমা নেই। বরং যত দ্রুত সম্ভব এমন স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে পৌঁছানো উচিত, যেখানে সাপের কামড়ের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। বিষধর সাপের কামড়ে প্রয়োজন হলে অ্যান্টিভেনম বা অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, উপযুক্ত অ্যান্টিভেনমই বিষের অধিকাংশ ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধ বা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।

তাই বাড়িতে বসে কোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। বিশেষ করে ওঝা, গুণিন বা অপ্রমাণিত ভেষজ চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হতে পারে।

ক্ষতস্থান না কাটা কাটবেন না, বিষ চুষবেনও না

সাপে কামড়ানোর পর ক্ষতস্থানে ছুরি দিয়ে কেটে বিষ বের করার চেষ্টা করা বিপজ্জনক। এতে অতিরিক্ত রক্তপাত, সংক্রমণ ও টিস্যুর ক্ষতি হতে পারে। একইভাবে মুখ দিয়ে বিষ চুষে বের করার পদ্ধতিও কার্যকর নয় এবং ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ক্ষতস্থানে বরফ, রাসায়নিক পদার্থ, ভেষজ, গাছগাছড়ার কোনো উপাদান বা ‘কালো পাথর’ লাগানো থেকেও বিরত থাকুন। এসব পদ্ধতির কার্যকারিতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই; বরং এগুলো চিকিৎসা পেতে দেরি করাতে পারে।

শক্ত করে দড়ি বাঁধা বিপজ্জনক

সাপে কামড়ালে অনেকেই আক্রান্ত হাত বা পায়ে শক্ত করে দড়ি বা রশি বেঁধে দেন। এভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলে আক্রান্ত অঙ্গে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। তাই নিজের মতো করে শক্ত টুর্নিকেট বা দড়ি বাঁধা উচিত নয়।

কিছু নির্দিষ্ট ধরনের সাপের কামড়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শে বিশেষ প্রেশার-ইমোবিলাইজেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। তবে কোন সাপের কামড়ে এটি ঠিক, তা অঞ্চল ও সাপের বিষের ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষ নিজের মতো করে শক্ত ব্যান্ডেজ প্রয়োগ না করাই নিরাপদ।

সাপটিকে ধরতে বা মারতে যাবেন না

কোন সাপ কামড়েছে তা জানার জন্য সাপটিকে ধরতে বা মারতে যাওয়া উচিত নয়। এতে দ্বিতীয়বার কামড়ানোর ঝুঁকি থাকে। নিরাপদ দূরত্ব থেকে ছবি তোলা সম্ভব হলে তোলা যেতে পারে, কিন্তু ছবি তুলতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না।

লক্ষণ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করা

বিষধর সাপের কামড়ে শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা, চোখের পাতা নেমে আসা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, রক্তপাত বা কামড়ের জায়গায় ফোলা ও টিস্যুর ক্ষতির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো বিষ শ্বাসপ্রশ্বাসের পেশিকে দুর্বল করে দিতে পারে, আবার কিছু বিষ রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তবে এসব লক্ষণ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা করা যাবে না। সাপটি বিষধর কি না নিশ্চিত না হলেও দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

সাপে কামড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় নষ্ট না করা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখুন, অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া বন্ধ করুন। সাপে কামড়ানো একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। সাপে কামড়ালে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, মায়ো ক্লিনিক

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow