সাবিনা ইয়াসমিনদের মতো শিল্পীরাই দেশের মণি-মুক্তা: সংস্কৃতি মন্ত্রী

সাবিনা ইয়াসমিনদের মতো শিল্পীরাই বাংলাদেশের মণি-মুক্তা বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা সেই মণি-মুক্তার সন্ধান করে আবার আমাদের সেই হারানো গৌরব, হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে চাই।’ মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গ্লোবাল ব্র্যান্ডস-ট্রাব বিজনেস সিএসআর অ্যান্ড কালচারাল অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘একসময় সোনার বাংলা বলা হতো, সারা পৃথিবীর মানুষ তার ভাগ্য অন্বেষণের জন্য বাংলায় আসতো। বাংলার মানুষ কখনো পৃথিবীর কোথাও যায়নি। এখানে ইউরোপিয়ানরা এসেছে, গ্রিকরা এসেছে, ফরাসিরা এসেছে, চাইনিজরা এসেছে, কাবুলিওয়ালারা এসেছে। এখানে ৫৫ জন ফটকাবাজ ইংরেজ একটি কোম্পানি করলো, নাম দিলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। কোথায় গিয়ে ব্যবসা করা যায়? যে বাংলায় চলো। এখানে হিউয়েন সাঙ এসেছিলেন ৬৪০ খ্রিস্টাব্দে। চীন দেশের সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ করার পরে অধিক জ্ঞান অন্বেষণ কোথায় গিয়ে করা যায়? চলো বাংলায় চলো। এখানে ইবনে বতুতা এসেছ

সাবিনা ইয়াসমিনদের মতো শিল্পীরাই দেশের মণি-মুক্তা: সংস্কৃতি মন্ত্রী

সাবিনা ইয়াসমিনদের মতো শিল্পীরাই বাংলাদেশের মণি-মুক্তা বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা সেই মণি-মুক্তার সন্ধান করে আবার আমাদের সেই হারানো গৌরব, হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে চাই।’

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গ্লোবাল ব্র্যান্ডস-ট্রাব বিজনেস সিএসআর অ্যান্ড কালচারাল অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘একসময় সোনার বাংলা বলা হতো, সারা পৃথিবীর মানুষ তার ভাগ্য অন্বেষণের জন্য বাংলায় আসতো। বাংলার মানুষ কখনো পৃথিবীর কোথাও যায়নি। এখানে ইউরোপিয়ানরা এসেছে, গ্রিকরা এসেছে, ফরাসিরা এসেছে, চাইনিজরা এসেছে, কাবুলিওয়ালারা এসেছে। এখানে ৫৫ জন ফটকাবাজ ইংরেজ একটি কোম্পানি করলো, নাম দিলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। কোথায় গিয়ে ব্যবসা করা যায়? যে বাংলায় চলো। এখানে হিউয়েন সাঙ এসেছিলেন ৬৪০ খ্রিস্টাব্দে। চীন দেশের সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ করার পরে অধিক জ্ঞান অন্বেষণ কোথায় গিয়ে করা যায়? চলো বাংলায় চলো। এখানে ইবনে বতুতা এসেছিলেন, তিনি তার ভ্রমণ বৃত্তান্তে লিখেছেন যে, এ দেশে প্রবেশের হাজারটি দরজা আছে কিন্তু এখান থেকে বেরোনোর কোনো পথ নেই।’

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত ঐতিহাসিক কারণে আপনারা জানেন যে, আজকে বাংলাদেশ যদিও পৃথিবীর সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর একটি। কিন্তু আমরা এই দেশটাকে আবার সেই শ্রেষ্ঠত্বের জায়গায় নিয়ে আসতে চাই। আমরা নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি, যাতে একসময় এই বাংলাদেশই হবে অন্তত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ একটি দেশ। এটি আমরা করবো।’

সংস্কৃতি মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সমুদ্রের তলদেশ থেকে ঝিনুক খুঁজছি, আমরা মণি-মুক্তার সন্ধান করছি। এখানে মণি-মুক্তাদের মধ্যে সাবিনা ইয়াসমিন এখানে বসে আছেন। ছোটবেলা থেকে যার গান শুনে আসছি, ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো গন্ধ বিলিয়ে যাই, তাই এই মন তোমাকে দিলাম’। আমার তো মনে হয় যে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের শিল্প-সংস্কৃতি জগত অনেক সমৃদ্ধ। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের যাদের নাম একটু আগে উল্লেখ করলাম, যারা সামনে বসে আছেন, আমাদের এই শিল্পীরা, আমাদের নাট্যকার, আমাদের নাট্যশিল্পী, আমাদের চলচ্চিত্রের সেই রাজ্জাক, সাবিনা ইয়াসমিন, কবরী তারপরে এরা... এরা কোনো পরিস্থিতিতেই মানে পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ থেকে পিছিয়ে ছিল না। আমরা সেই মণি-মুক্তার সন্ধান করে আবার আমাদের হারানো গৌরব, হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে চাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। এতে আরও বক্তব্য দেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল, নতুনধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. সাদী-উজ-জামান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, ট্রাব সভাপতি সালাম মাহমুদ, সহ-সভাপতি সুজন দে, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ রহমান, উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সার্ক চলচ্চিত্র সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রেদুয়ান খন্দকার। অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচটি/এমএমকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow