সাবেক এমপিকে প্রধান অতিথি করায় পণ্ড বিদায় অনুষ্ঠান

পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করাকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, আজ আমার চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস। এ উপলক্ষে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে প্রায় ১০০ জন অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের জন্য আসার কথা ছিল এবং এ জন্য আগেই কয়েকটি গাছও পাঠিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগে একদল লোক এসে প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করে দেয়। এতে অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহু

সাবেক এমপিকে প্রধান অতিথি করায় পণ্ড বিদায় অনুষ্ঠান

পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করাকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, আজ আমার চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস। এ উপলক্ষে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে প্রায় ১০০ জন অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের জন্য আসার কথা ছিল এবং এ জন্য আগেই কয়েকটি গাছও পাঠিয়েছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগে একদল লোক এসে প্যান্ডেল, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করে দেয়। এতে অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শেখ, বিএনপি নেতা এবং সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদারের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি অফিসকক্ষে থাকাকালে কিছু যুবক এসে মঞ্চে ভাঙচুর চালায়। তার দাবি, সাবেক এমপিকে প্রধান অতিথি করাতেই এ ঘটনা ঘটেছে।

তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার জানান, তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং এ অনুষ্ঠানের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না। তার দাবি, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে ব্যানারে তার নাম ব্যবহার করেছে। 

তিনি আরও জানান, পারিবারিক বিরোধের কারণেই অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত হয়নি বলে শুনেছেন।

এদিকে উপজেলা বিএনপির সদস্য আবুল কাশেম বলেন, সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার অতীতে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। তাকে প্রধান অতিথি করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানে বাধা দিয়েছেন।

সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলম বলেন, আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্ব ছিল পরিচালনা কমিটির। কিন্তু অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক নিজেই সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছিলেন। তাই দলের নেতা-কর্মীরা তার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হতে দেননি।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow