সামান্য বৃষ্টিতেই ডোবে নিউমার্কেট, ভোগান্তির শেষ কোথায়?
রাজধানীর শান্তিনগরের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ একসময় ছিল বহুল আলোচিত। শান্তিনগরকে কৌতুক করে বলা হতো ‘অশান্তিনগর’। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। স্থানীয়দের ভাষায় ‘চীনের দুঃখ যেমন হোয়াংহো নদী, তেমনি আমাদের দুঃখ শান্তিনগর।’ সময়ের সঙ্গে শান্তিনগরের সেই পরিচিতি অনেকটাই বদলে গেলেও বর্তমানে রাজধানীর নীলক্ষেত থেকে আজিমপুর নতুন কবরস্থান পর্যন্ত সড়ক, বিশেষ করে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেটসংলগ্ন অংশটুকু নতুন এক ‘অশান্তির রাস্তায়’ পরিণত হয়েছে। আরও পড়ুন ‘গলার কাঁটা’ ব্রিটিশ আমলের টানেল, বছরের ৮ মাসই জমে থাকে পানি সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক তলিয়ে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। পথচারীদের কেউ হাঁটুপানি মাড়িয়ে, কেউ আবার ভ্যানগাড়িতে চড়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তির স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধ অংশ পারাপারের জন্য চালু হয় ‘ভ্যানগাড়ি পারাপার সার্ভিস’। অল্প একটি পথ পার হতে জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকেই বাধ্য হয়ে জামাকাপড় ভিজিয়েই
রাজধানীর শান্তিনগরের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ একসময় ছিল বহুল আলোচিত। শান্তিনগরকে কৌতুক করে বলা হতো ‘অশান্তিনগর’। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। স্থানীয়দের ভাষায় ‘চীনের দুঃখ যেমন হোয়াংহো নদী, তেমনি আমাদের দুঃখ শান্তিনগর।’
সময়ের সঙ্গে শান্তিনগরের সেই পরিচিতি অনেকটাই বদলে গেলেও বর্তমানে রাজধানীর নীলক্ষেত থেকে আজিমপুর নতুন কবরস্থান পর্যন্ত সড়ক, বিশেষ করে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেটসংলগ্ন অংশটুকু নতুন এক ‘অশান্তির রাস্তায়’ পরিণত হয়েছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক তলিয়ে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। পথচারীদের কেউ হাঁটুপানি মাড়িয়ে, কেউ আবার ভ্যানগাড়িতে চড়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তির স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধ অংশ পারাপারের জন্য চালু হয় ‘ভ্যানগাড়ি পারাপার সার্ভিস’। অল্প একটি পথ পার হতে জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকেই বাধ্য হয়ে জামাকাপড় ভিজিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে নিউমার্কেটের দোকান, ছবি: জাগো নিউজ
সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকে রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানের উত্তর গেটসংলগ্ন বটতলা থেকে নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেট পর্যন্ত পুরো সড়ক বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।
বৃষ্টির পানি উপচে নিউমার্কেটের ভেতর এবং ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ঢুকে পড়েছে। জুতা ও কাপড়ের দোকানের সামনে থইথই পানি। মালামাল রক্ষা করতে ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

দেশের ৪ বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা
দৃশ্যটি দেখে মনে হতে পারে, এটি যেন রাজধানীর কোনো সড়ক নয়, এ যেন এক টুকরো ‘মিনি কক্সবাজার’। প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো ইঞ্জিনে পানি ঢোকার আশঙ্কায় দ্রুতগতিতে পানি ঠেলে চলাচল করায় চারদিকে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো পানি ছিটকে পড়ছে।
সেই ঢেউয়ের মধ্যে ছোট ছোট শিশুদের ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। অন্যদিকে, হাঁটুপানি মাড়িয়ে অনেককে জুতা হাতে কিংবা প্যান্ট গুটিয়ে খালি পায়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
হাঁটুপানি মাড়িয়ে গন্তব্যে ছুটছেন পথচারীরা, ছবি: জাগো নিউজ
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের একটি পোশাক কারখানার কর্মী আসমা খাতুন আজিমপুর কবরস্থানসংলগ্ন বটতলা থেকে রাস্তার আইল্যান্ড হয়ে নীলক্ষেতের দিকে যাচ্ছিলেন।
এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সৃষ্ট ঢেউয়ের পানিতে তার জামাকাপড় ভিজে যায়। ক্ষোভ, দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘গরিব হইয়া জন্ম নেওয়াটাই আমাগো পাপ হইছে। বিকেলের শিফটে ডিউটি। এখন ভিজা কাপড় লইয়া কেমনে যামু।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থী তানজিলা ইসলাম ভ্যানগাড়িতে করে জলাবদ্ধ এলাকা পার হচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘নিউমার্কেটের এই রাস্তাটি যেন অভিশপ্ত হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। প্রায় প্রতি মাসেই এক-দুইবার ভ্যানগাড়িতে করে রাস্তা পার হতে হয়।’
স্থানীয় আইয়ুব আলী কলোনির এক বাসিন্দা ও বাড়ির মালিক জানান, প্রতিবছর উন্নয়নের নামে এ সড়কে বড় বড় পাইপ বসানো হলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। আগে বৃষ্টির পানি কলোনির ভেতরে প্রবেশ করত না, কিন্তু এখন তা বাড়িঘরে ঢুকে পড়ে। ফলে ওয়াসার পানি ও সুয়ারেজের পানি একাকার হয়ে যায়।
জলাবদ্ধতায় দোকানে ঢুকেছে বৃষ্টির পানি, দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা, ছবি: জাগো নিউজ
তিনি আরও বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম সম্প্রতি নিউমার্কেট এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন। এখন এলাকাবাসীর অপেক্ষা, সেই আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি নিউমার্কেটের ভেতর এবং ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ঢুকে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
গভর্নমেন্ট নিউমার্কেটের এক দোকান মালিক বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সাধারণত বেচাকেনা ভালো হয়। কিন্তু সড়কে পানি জমে থাকায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। বিক্রি না হলেও দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে।

বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম / পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা পররাষ্ট্রনীতি নতজানু না হওয়ার বার্তা
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বাসায় গ্যাস নেই। বিদ্যুতের বিল আগের চেয়ে বেড়েছে। সরকারি সব ধরনের ট্যাক্স পরিশোধ করার পরও আমরা প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা পাই না। জলাবদ্ধতার কারণে বেচাকেনা প্রায় বন্ধ। এভাবে আর কতদিন?’
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এমইউ/এমএএইচ/
What's Your Reaction?

