সারাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা, কারণ কী?

সারাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি এতে মৃত্যু, দগ্ধ ও সম্পদের ক্ষতির পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এছাড়া পাইপলাইনে সরবরাহকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের লিকেজ থেকেও বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ইদানিং বেশ ঘটছে। ২০২৫ সালে সিলিন্ডার ও এর সঙ্গে যুক্ত উপকরণের লিকেজ থেকে ১,০৪১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা আগের বছরের ৭৪৮টির তুলনায় ২৯৩টি বেশি। এতে প্রাণহানি ও ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে, তথ্যমতে দুর্ঘটনায় বহুজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের বেশির ভাগের ভাষ্য, তারা ঘরে গ্যাস লিকেজ টের পাননি; রান্নার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং মুহূর্তের মধ্যে শরীরে আগুন ধরে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকদের সচেতনতার ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর নির্বিকার ভূমিকার কারণে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিলের সময় সঠিক নিয়ম না মানা, মানহীন সুরক্ষা যন্ত্রাংশ ব্যবহার, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার ও ভুলভাবে সিলিন্ডার রাখা-এসবই বড় দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফায়া

সারাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা, কারণ কী?

সারাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি এতে মৃত্যু, দগ্ধ ও সম্পদের ক্ষতির পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এছাড়া পাইপলাইনে সরবরাহকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের লিকেজ থেকেও বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ইদানিং বেশ ঘটছে।

২০২৫ সালে সিলিন্ডার ও এর সঙ্গে যুক্ত উপকরণের লিকেজ থেকে ১,০৪১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা আগের বছরের ৭৪৮টির তুলনায় ২৯৩টি বেশি। এতে প্রাণহানি ও ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে, তথ্যমতে দুর্ঘটনায় বহুজন দগ্ধ হয়েছেন।

দগ্ধদের বেশির ভাগের ভাষ্য, তারা ঘরে গ্যাস লিকেজ টের পাননি; রান্নার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং মুহূর্তের মধ্যে শরীরে আগুন ধরে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকদের সচেতনতার ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর নির্বিকার ভূমিকার কারণে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিলের সময় সঠিক নিয়ম না মানা, মানহীন সুরক্ষা যন্ত্রাংশ ব্যবহার, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার ও ভুলভাবে সিলিন্ডার রাখা-এসবই বড় দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, অধিকাংশ দুর্ঘটনা সিলিন্ডার লিকেজ থেকে ঘটে। নিম্নমানের হোসপাইপ, রেগুলেটর, নজল ও ভালভ ব্যবহারের কারণে লিকেজ সৃষ্টি হয়। এছাড়া ঘরে গ্যাসের গন্ধ তেমন টের পাওয়া না যাওয়ায় বাসিন্দারা সময়মতো সতর্ক হয়ে ওঠেন না।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, সিলিন্ডারের যন্ত্রাংশ ডিজাইন স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী থাকে না এবং বাজারে ছাড়ার আগে যথাযথ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় না, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তিনি বরাবরের মতো দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার দাবি জানান।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গ্যাস লিকেজ থেকে সংঘটিত দুর্ঘটনা ছিল ১,২০৭টি; যার মধ্যে ২০২৪ সালে ৭৪৮টি ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে গড়ে মাসে ৮৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

অপরদিকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ থেকে ২০২৫ সালে ৫৬২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে এ সংখ্যা ছিল ৩,৫৪১টি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, গ্যাস ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি না থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। এ ঝুঁকি কমাতে হলে দ্রুত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow