সালমান শাহকে নিয়ে যে আক্ষেপ রয়েছে মনির খানের
চিত্রনায়ক সালমান শাহকে নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন ‘অঞ্জনা’খ্যাত সংগীতশিল্পী মনির খান। সালমান শাহ অভিনীত কোনো চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করার সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় বলে জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মনির খান লিখেছেন, ‘আমার প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের মাত্র কয়েক মাস পরেই সালমান শাহ চলে গেছেন। সে কারণে সালমান শাহ অভিনীত কোনো চলচ্চিত্রে আমি প্লেব্যাক করতে পারিনি। এই আক্ষেপ আমার আজীবন থেকে যাবে।’ সালমান শাহকে বাংলা চলচ্চিত্রের অপূরণীয় এক অভিনেতা উল্লেখ করে মনির খান আরও লিখেছেন, ‘সালমান শাহ বাংলা চলচ্চিত্রের এমন একজন অভিনেতা, যার অভাব আজও পূরণ হয়নি।’ সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও নানা জল্পনা-কল্পনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মনির খান তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘তার মৃত্যু যদি হত্যাকাণ্ড হয়, তাহলে দোষী যারা, তাদের বিচার হোক মনে-প্রাণে চাই।’ মনির খানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হক গ্রেফতার হয়েছেন। ডন গ্রেফতারের পর মামলার অন্য আসামিদের
চিত্রনায়ক সালমান শাহকে নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন ‘অঞ্জনা’খ্যাত সংগীতশিল্পী মনির খান। সালমান শাহ অভিনীত কোনো চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করার সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় বলে জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মনির খান লিখেছেন, ‘আমার প্রথম অ্যালবাম প্রকাশের মাত্র কয়েক মাস পরেই সালমান শাহ চলে গেছেন। সে কারণে সালমান শাহ অভিনীত কোনো চলচ্চিত্রে আমি প্লেব্যাক করতে পারিনি। এই আক্ষেপ আমার আজীবন থেকে যাবে।’
সালমান শাহকে বাংলা চলচ্চিত্রের অপূরণীয় এক অভিনেতা উল্লেখ করে মনির খান আরও লিখেছেন, ‘সালমান শাহ বাংলা চলচ্চিত্রের এমন একজন অভিনেতা, যার অভাব আজও পূরণ হয়নি।’
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও নানা জল্পনা-কল্পনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মনির খান তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘তার মৃত্যু যদি হত্যাকাণ্ড হয়, তাহলে দোষী যারা, তাদের বিচার হোক মনে-প্রাণে চাই।’
মনির খানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হক গ্রেফতার হয়েছেন। ডন গ্রেফতারের পর মামলার অন্য আসামিদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। একই সঙ্গে ডনকে কোনোভাবেই জামিন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক হন আশরাফুল হক ওরফে ডন হক। তিনি সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি। ডনের গ্রেফতারে স্বস্তি প্রকাশ করলেও মামলার অন্য আসামিরা এখনো বাইরে থাকায় হতাশা জানিয়েছেন নীলা চৌধুরী।
সোমবার (১০ আগস্ট) যুক্তরাজ্য থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ডনকে প্রশ্রয় দেয় কে? কেন এসব কথা সামনে আসছে না? কেন অন্যরা এখনো ঘরে বসে আছে, কেন গ্রেফতার হচ্ছে না?’
নীলা চৌধুরীর অভিযোগ, ডন বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন এবং সালমান শাহ ও তার পরিবারকে নিয়ে নানা কথা বলেছেন। তার দাবি, আসামি হওয়ার পরও ডন বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন। এতদিনেও কেন তাকে গ্রেফতার করা হয়নি, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
সালমান শাহর মা বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা ছিল, ছেলের হত্যার বিচার পাব। আসামিরা দ্রুত গ্রেফতার হবে। সেটা হয়নি। এখনো মূল আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার একটাই চাওয়া, কোনোভাবেই যেন ডন জামিন না পায়। সে ইমন (সালমান শাহ) হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাকে এজন্য শাস্তি পেতেই হবে।’
কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নীলা চৌধুরী। ডনের সঙ্গে সালমান শাহর বন্ধুত্বের দাবিও নাকচ করেন তিনি। তার ভাষ্য, ডন একসময় সালমানের আশ্রয়ে তাদের বাসায় থাকতেন। পরে তার আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
নীলা চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, সালমান শাহ জীবিত থাকা অবস্থায় ডন তার কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিতেন। তার ভাষায়, স্বার্থ ছাড়া এমন মানুষ কখনো প্রকৃত বন্ধু হতে পারেন না।
মামলার অন্য আসামিদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নীলা চৌধুরী। তার অভিযোগ, ডনের পেছনে কারও না কারও প্রশ্রয় রয়েছে। তিনি মনে করেন, ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও জল্পনা রয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন।
মামলার পর ডনের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগও করেছেন নীলা চৌধুরী। তার দাবি, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডন তাকে হুমকি দিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে যেতে বলেছিলেন। একসময় যে ব্যক্তি তাদের পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সাহস পেতেন না, তিনি কীভাবে প্রকাশ্যে তাকে হুমকি দেওয়ার সাহস পেলেন-সে প্রশ্নও তুলেছেন নীলা।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
সবশেষে নীলা চৌধুরী মামলার সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে নন, চারপাশেই আছেন। তার একমাত্র প্রত্যাশা, সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্যের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
এদিকে মনির খানের মতো সংগীতশিল্পীরাও সালমান শাহকে এখনো স্মরণ করেন। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তাকে হারানোর কারণে প্রিয় এই অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ আজীবন বয়ে বেড়াবেন বলে জানিয়েছেন মনির খান। তার বক্তব্যে আবারও উঠে এসেছে বাংলা চলচ্চিত্রে সালমান শাহর অমলিন প্রভাব ও দর্শক-শিল্পীদের মনে তার স্থায়ী জায়গার কথা।
এমএমএফ
What's Your Reaction?

