সিনেমার গল্পকেও হার মানালেন রোহিঙ্গা নারী রংবাহার
কক্সবাজারে কারাবন্দি স্বামীকে দেখতে এসে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে কারাগারের পাশে শ্রমজীবী পরিবারে মানবিক আশ্রয় নেন এক রোহিঙ্গা নারী। পরে ওই বাড়িতে ভাত খেয়ে বিশ্রাম নেন। দুদিন পর স্বামী জেল থেকে বের হচ্ছে বলে রাত-দিন মিলে দুদিন অবস্থানও করেন। তবে তার মনে ছিল অসৎ উদ্দেশ্য। নিজের জন্য পান কিনতে যাওয়ার কথা বলে বের হন ওই নারী। এসময় নাশতা কিনে দেওয়ার আবদারে বাড়ির চার বছর বয়সী শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কৌশলে সটকে পড়েন। শুক্রবার (৫ জুন) এ ঘটনা ঘটে। রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যার পর মহেশখালীর বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকার পাহাড়তলি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এসময় অভিযুক্ত রোহিঙ্গা নারী রংবাহারকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উখিয়ার কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, বুধবার (৩ জুন) কক্সবাজার কারাগারে বন্দি স্বামীকে দেখতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসেন রংবাহার। দুপুরের দিকে কারাগারের দেওয়ালের বাইরে চলাচলের পথের পাশে বসে থাকেন তিনি। এসময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় সাদ্দাম হোসেন। ওই নারী তাকে দাঁড় করিয়ে নিজের অসহায়ত্ব ও ক্ষুধার কথা বলেন। এতে দরিদ্র হলেও মানবিক পরিচয় দ
কক্সবাজারে কারাবন্দি স্বামীকে দেখতে এসে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে কারাগারের পাশে শ্রমজীবী পরিবারে মানবিক আশ্রয় নেন এক রোহিঙ্গা নারী। পরে ওই বাড়িতে ভাত খেয়ে বিশ্রাম নেন। দুদিন পর স্বামী জেল থেকে বের হচ্ছে বলে রাত-দিন মিলে দুদিন অবস্থানও করেন। তবে তার মনে ছিল অসৎ উদ্দেশ্য।
নিজের জন্য পান কিনতে যাওয়ার কথা বলে বের হন ওই নারী। এসময় নাশতা কিনে দেওয়ার আবদারে বাড়ির চার বছর বয়সী শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কৌশলে সটকে পড়েন।
শুক্রবার (৫ জুন) এ ঘটনা ঘটে। রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যার পর মহেশখালীর বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকার পাহাড়তলি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এসময় অভিযুক্ত রোহিঙ্গা নারী রংবাহারকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উখিয়ার কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, বুধবার (৩ জুন) কক্সবাজার কারাগারে বন্দি স্বামীকে দেখতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসেন রংবাহার। দুপুরের দিকে কারাগারের দেওয়ালের বাইরে চলাচলের পথের পাশে বসে থাকেন তিনি। এসময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় সাদ্দাম হোসেন। ওই নারী তাকে দাঁড় করিয়ে নিজের অসহায়ত্ব ও ক্ষুধার কথা বলেন। এতে দরিদ্র হলেও মানবিক পরিচয় দেন সাদ্দাম। তিনি তার স্ত্রী সুমি আক্তারকে ফোন করে রংবাহারকে নিয়ে যেতে বলেন।
সুমি তাকে নিয়ে গিয়ে আপ্যায়ন করান। ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন রংবাহার। সন্ধ্যায় রাতযাপনের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করলে কারাগার-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম ও স্ত্রী সুমি তাকে মানবিক আশ্রয় দেন। পরিবারটির অভিযোগ, আশ্রয় নেওয়ার সময় নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন রংবাহার।
বাসায় দুদিন থাকাকালে তিনি স্বাভাবিক আচরণ করলেও পরবর্তীতে সিনেমার কাহিনীর মতো ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। পরিবারের দাবি, আশ্রয় নেওয়ার দুদিন পর নিজের জন্য পান ও পরিবারের নাশতা কিনে দেওয়ার কথা বলে ৫ জুন সাদ্দামের চার বছরের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বের হন রংবাহার। এরপর শিশুকে নিয়ে দীর্ঘসময় না ফেরায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সাদ্দামের পরিবার।
এসময় রংবাহার গাড়িতে ছিলেন এবং বাচ্চাটির কান্না শোনা যায়। বাসায় না এসে কোথায় যাওয়া হচ্ছে জিজ্ঞেস করলে রংবাহার বলেন, ‘তোমার বাচ্চা পেতে হলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে’।
পরিবারের অসচ্ছলতা ও তাকে মানবিকতা দেখানোর বিষয়টি উল্লেখ করলে রংবাহার বলেন, ‘এত কথা শুনতে চাই না, টাকা না পেলে শিশুটিকে মেরে ফেলা হবে’। একপর্যায়ে তিন কিস্তিতে অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু শিশুটিকে ফেরত দেননি তারা।
ঘটনার পর বিষয়টি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জানানো হলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে মহেশখালীর দেবাঙ্গাপাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে রংবাহার নিজেকে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করে জানান, কলাতলীর গইয়ুমতলী ভাঙারমোড় এলাকার এখলাস নামের এক ব্যক্তির পরামর্শে শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সাংবাদিকরা মোবাইলে যোগাযোগ করলে ওই ব্যক্তি অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
শিশুটির মা সুমি আক্তার বলেন, ‘মানবিক কারণে আমরা ওই নারীকে আশ্রয় দিয়েছিলাম। পরে বুঝতে পেরেছি, সে পরিকল্পিতভাবেই আমাদের বাসায় অবস্থান নিয়েছিল। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ।’
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মানবতা দেখাতে গিয়ে জনমের শিক্ষা হয়েছে। কেউ ভুল করে অপরিচিত কাউকে বাসায় ঠাঁই দেবেন না। শিশু সন্তানদের কারও সঙ্গে দেবেন না।’
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘অপহরণের শিকার শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি-না, এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
সায়ীদ আলমগীর/এসআর/এমএস
What's Your Reaction?