সিরিয়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতে চায় না তুরস্ক, এমনটি জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এক বক্তব্যে বলেন, সিরিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের একের পর এক হামলা সিরিয়ার নতুন সরকারের সক্ষমতা কমিয়ে ফেলবে এবং এতে ইসলামিক স্টেটসহ (আইএস) বিভিন্ন শত্রু গোষ্ঠীর হুমকি মোকাবিলায় সমস্যা সৃষ্টি হবে। এ পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় বিপদ সৃষ্টি করতে পারে।
শনিবার (০৫ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রসঙ্গত, হাকান ফিদান বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শুধু অঞ্চলকে আরও অশান্ত করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিরিয়ার জনগণ তাদের দেশের নিরাপত্তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে এবং বিদেশি শক্তিগুলোর হামলা বা হস্তক্ষেপ তাদের এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে।
ফিদান সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আরও বলেন, সিরিয়ায় গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বিদ্রোহী গোষ্ঠী গঠন করে একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করে। ওই নতুন সরকারের প্রধান হচ্ছেন বিদ্রোহী নেতা আহমেদ আল-শারা, যিনি তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
এদিকে, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর থেকেই ইসরায়েল সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে আসছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে জানায় যে, তারা সিরিয়ায় শত্রুভাবাপন্ন কোনো শক্তিকে টিকে থাকতে দিতে চায় না এবং তাদের উপস্থিতি সিরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকির সৃষ্টি করছে।
এছাড়াও ইসরায়েল বলছে, সিরিয়ার ভিতরে তাদের শত্রুদের মোকাবিলায় তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বক্তব্যে স্পষ্টতই ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে সিরিয়ায় হামলা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে বিরোধের আভাস মিলছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, সিরিয়ায় চলমান এই হামলা পরিস্থিতি শুধু অঞ্চলটির শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।