সিলেটে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

টানা কয়েকদিনের তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে সিলেট। প্রখর রোদ, ভ্যাপসা আবহাওয়া ও উচ্চ আর্দ্রতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ঘরের ভেতর-বাইরে কোথাও মিলছে না স্বস্তি। গরম থেকে মুক্তি পেতে কেউ ছুটছেন পুকুর-নদীতে, কেউ ভিড় করছেন সুইমিংপুলে। আবার কেউ ঠান্ডা পানীয় ও শরবতে খুঁজছেন সাময়িক প্রশান্তি। তবে এ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ২৪ ঘণ্টায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর যা জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। শনিবার (০৬ জুন) সিলেটে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির নিচে ছিল, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অনুভূত গরম ছিল আরও তীব্র। সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৯ শতাংশ, যা সন্ধ্যা ৬টায় ৬৫ শতাংশে নেমে আসে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। দিনভর তীব্র রোদে নগরীর বিভিন্ন সড়কে মানুষের চলাচল কমে যায়। বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে কর্মরত মানুষদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে ব

সিলেটে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

টানা কয়েকদিনের তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে সিলেট। প্রখর রোদ, ভ্যাপসা আবহাওয়া ও উচ্চ আর্দ্রতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ঘরের ভেতর-বাইরে কোথাও মিলছে না স্বস্তি। গরম থেকে মুক্তি পেতে কেউ ছুটছেন পুকুর-নদীতে, কেউ ভিড় করছেন সুইমিংপুলে। আবার কেউ ঠান্ডা পানীয় ও শরবতে খুঁজছেন সাময়িক প্রশান্তি। তবে এ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ২৪ ঘণ্টায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর যা জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।

শনিবার (০৬ জুন) সিলেটে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির নিচে ছিল, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অনুভূত গরম ছিল আরও তীব্র।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৯ শতাংশ, যা সন্ধ্যা ৬টায় ৬৫ শতাংশে নেমে আসে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

দিনভর তীব্র রোদে নগরীর বিভিন্ন সড়কে মানুষের চলাচল কমে যায়। বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে কর্মরত মানুষদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, মানুষ গরম থেকে বাঁচতে ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করছেন কিংবা ঠান্ডা পানীয় ও শরবতের দোকানে মানুষ ভিড় করছেন।

নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে কথা হয় রিকশাচালক সোহেল মিয়ার সঙ্গে। তিনি কালবেলাকে বলেন, সকাল থেকেই প্রচণ্ড রোদ আর গরম। এ অবস্থায় রিকশা চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকায় শরীর যেন পুড়ে যাচ্ছে। আগের মতো আয়ও নেই। বৃষ্টি হলে কিছুটা স্বস্তি মিলত। এভাবে গরম চলতে থাকলে আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।

নগরীর আম্বরখানায় রহিম উদ্দিন নামের এক রিকশাচালক কালবেলাকে বলেন, দুপুরের পর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে। গরমে ঘামতে ঘামতে একসময় মাথা ঘুরে যায়। আয়-রোজগারের জন্য কষ্ট করেই রিকশা চালাতে হচ্ছে।

কিন ব্রিজ এলাকার শরবত বিক্রেতা মো. কামাল আহমদ কালবেলাকে বলেন, গরমে মানুষের কষ্ট বাড়লেও ঠান্ডা পানীয় ও শরবতের চাহিদা বেড়েছে। তবে দুপুরের দিকে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না। তাই ব্যবসাতেও মিশ্র প্রভাব পড়ছে।

নগরীর পাঠানটুলা এলাকার গৃহিণী সোমা বেগম কালবেলাকে বলেন, ঘরের ভেতরেও গরমে থাকা যাচ্ছে না। সারাক্ষণ ফ্যান চালিয়েও স্বস্তি মিলছে না। এর মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। পরিবারের ছোট শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছি। বৃষ্টি হলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাবে।

নগরীর ঘাসিটুলা এলাকার বাসিন্দা ও চাকরিজীবী তুহিন আহমদ কালবেলাকে বলেন, প্রচণ্ড গরমে অফিসে যাওয়া-আসার সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এর মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অফিসের কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক মিনিট রোদে থাকলেই শরীর ঘেমে যায়।

নগরীর বাগবাড়ির আবুল কাসেম কালবেলাকে বলেন, দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গরমের কারণে শিশুদেরও ঘরের মধ্যে রাখতে হচ্ছে। ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে এসিও চালানো যাচ্ছে না।

শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট আবহাওয়া অফিসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন কালবেলাকে বলেন, শনিবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে যে ধরনের গরম অনুভূত হচ্ছে, তা আপাতত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সিলেটের আশপাশের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত হলেও নগরীতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। ফলে তাপমাত্রা ও গরমের অনুভূতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সিলেটে বৃষ্টি হলে গরমের তীব্রতা কমবে এবং জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে জানান এ আবহাওয়াবিদ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow