সিলেটে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, আতঙ্কে বাসিন্দারা
টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানির দ্রুত বাড়ছে। কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে, নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি আসায় আতঙ্কে রয়েছেন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হলে সুরমা, কুশিয়ারা, সারী ও পিয়াইনসহ সীমান্তবর্তী নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। অতিরিক্ত পানি দ্রুত মেঘনা নদী হয়ে নিম্নাঞ্চলে নেমে যাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যার ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প
টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানির দ্রুত বাড়ছে। কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে, নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি আসায় আতঙ্কে রয়েছেন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা।
অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হলে সুরমা, কুশিয়ারা, সারী ও পিয়াইনসহ সীমান্তবর্তী নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। অতিরিক্ত পানি দ্রুত মেঘনা নদী হয়ে নিম্নাঞ্চলে নেমে যাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যার ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ কালবেলাকে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের মেঘালয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। মেঘালয় থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত পানি দ্রুত মেঘনা নদী হয়ে নিম্নাঞ্চলে নেমে যাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা বা ভয়াবহ বন্যার সম্ভাবনা কম।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সিলেটের সব পর্যবেক্ষণ পয়েন্টেই নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। গড়ে পানির স্তর বিপৎসীমার প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। কানাইঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৪৬ মিটার, যা বিপৎসীমার প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার নিচে। সিলেট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৯ দশমিক ৮৬ মিটার, যা বিপৎসীমা থেকে প্রায় ১ মিটার নিচে। কুশিয়ারা নদীর অমলসিদ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৪ দশমিক ৫৪ মিটার, যা বিপৎসীমার প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার নিচে। সারী নদীর সারীঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১০ দশমিক ৮০ মিটার এবং পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে ১০ দশমিক ৩০ মিটার, যা নিজ নিজ বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। এছাড়া সারীগোয়াইন নদীর পানিও বিপৎসীমার প্রায় ১ মিটার নিচে অবস্থান করছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, আগামী দুই দিনে মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ হলে কোনো কোনো স্থানে নদীর পানি সাময়িকভাবে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বন্যা সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। আর ভারী বৃষ্টিপাত না হলে নদ-নদীর পানির স্তর ধীরে ধীরে কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন কালবেলাকে বলেন, সিলেটে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত) জেলায় মোট ৩৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আজ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরও ২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী চার দিন সিলেটে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পঞ্চম দিনে বৃষ্টির প্রবণতা ও পরিমাণ কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে অন্তত আগামী তিন থেকে চার দিন সিলেটে বৃষ্টিপাতের এ ধারা বজায় থাকতে পারে।
What's Your Reaction?