সিলেটে ৩ খুনের মামলায় জমি বিরোধের অভিযোগ, এজাহারে নেই আটক ব্যক্তির নাম
দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকির জের ধরে সিলেটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তবে মামলার এজাহারে হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ যাকে আটক করেছে, সেই বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি। মামলার বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির। মামলার বাদী সেলিনা সুলতানা এজাহারে দাবি করেছেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তার বাবা আব্দুস সাত্তার, মা সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে। এজাহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, ১৯৯৭ সালে তিনি ও তার বাবা পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, সিলেটের কাছ থেকে নগরের রিকাবীবাজারের সরষপুর এলাকায় প্রায় ১২ শতক জমি লিজ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। অভিযোগে বলা
দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকির জের ধরে সিলেটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তবে মামলার এজাহারে হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ যাকে আটক করেছে, সেই বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
মামলার বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির।
মামলার বাদী সেলিনা সুলতানা এজাহারে দাবি করেছেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তার বাবা আব্দুস সাত্তার, মা সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।
এজাহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, ১৯৯৭ সালে তিনি ও তার বাবা পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, সিলেটের কাছ থেকে নগরের রিকাবীবাজারের সরষপুর এলাকায় প্রায় ১২ শতক জমি লিজ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম তাদের লিজ নেওয়া জমিসহ সমিতির প্রায় ৮০ শতক জমি ইম্পালস বিল্ডার্সের নামে ১৮৫২২/০৬ নম্বর সাফকবলা দলিল করেন এবং নামজারি করে মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে ২০১৬ সালে আব্দুস সাত্তার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বত্ব মামলা করেন। পরে মামলাটি স্বত্ব-২১১/২০২৩ নম্বরে রূপান্তরিত হয়ে যুগ্ম জেলা জজ অতিরিক্ত আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেলিনার অভিযোগ, ওই মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার বাবাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালে সিরাজুল ইসলাম আব্দুস সাত্তার, মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির বর্তমান চেয়ারম্যান জমিংথাংগা লুসাইসহ কয়েকজন লিজগ্রহীতার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। মামলাটি অতিরিক্ত জেলা জজ পঞ্চম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সেলিনা অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি সিরাজুল ইসলাম, আমিন হোসেনসহ কয়েকজনকে নিয়ে তার বাবার বাসায় গিয়ে স্বত্ব মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ১৮ মে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে মামলাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম থানায় অভিযোগ করেন। পরে প্রতিকার না পেয়ে গত বছরের ৬ আগস্ট আদালতে কোতোয়ালি সিআর ১০৫৭/২০২৫ নম্বরে মামলা করেন। মামলাটি ডিবি সিলেট তদন্ত করছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেলিনার অভিযোগ, সর্বশেষ গত ২৮ জুলাই মুখ্য জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির ভূমি-সংক্রান্ত স্বত্ব ৭৩/২৩ মামলার শুনানির সময় তার বাবার নিয়োজিত আইনজীবীকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়। এর দুই দিন পর, ৩০ জুলাই তাঁর বাবা আদালতে গেলে তাঁকেও মামলা প্রত্যাহারের জন্য আবার হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে সেলিনা দাবি করেন, স্বত্ব মামলা থেকে ১৮৫২২/০৬ নম্বর সাফকবলা দলিলটি রক্ষা করার জন্য পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে খুনি দিয়ে গত ১২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নগরের রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় তার বাবা আব্দুস সাত্তার, মা সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়।
একই সঙ্গে বাসা থেকে মামলা ও ভূমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র, জিডির কপি ও বিভিন্ন দলিল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরের রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরাও উদ্ধার করা হয়। তবে শুক্রবার রাতে করা মামলার এজাহারে বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির কালবেলাকে বলেন, ‘বাদীপক্ষ ঘটনাস্থলে কাউকে সরাসরি অপরাধ করতে দেখেননি। তাই এজাহারে তারা পূর্ববিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে ৫৪ ধারায় চালান দেওয়া হয়েছে। পরদিন আদালতে তাকে মামলায় শো-অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করা হবে। পরবর্তীতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।’
তিনি বলেন, ‘বাদীপক্ষের উল্লেখ করা বিষয়গুলোও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য প্রতিটি দিক গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অপরাধীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পরই তাকে আটক করা হয়েছে।’
এর আগে বুধবার সকালে রায়নগর এলাকার মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে বাড়ির মালিক আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৮) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ছিলেন। তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টাও ছিলেন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি নগরের রায়নগরের নিজ বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ও প্রয়াত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ আসর নগরের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মরদেহ নগরের মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানে দাফন করা হয়।
What's Your Reaction?