সীমান্ত হত্যার দায়ে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে দাঁড় করাতে হবে

সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে বিএসএফের ‘পুশইন’ চেষ্টার প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের লাগাতার হত্যার বিচার দাবি করেছেন তিনি। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জানা গেছে, উত্তেজনাপূর্ণ এ সীমান্ত পরিদর্শনে দলটির নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় ‘এ দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, ‘সীমান্ত হত্যা রুখে দিন, চলবে না চলবে না’ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সীমান্ত এলাকা। পরিদর্শনকালে এনসিপির এ নেতা বলেন, ভারত খুনি রাষ্ট্র ও বিএসএফ খুনি বাহিনী। তাদের বিচার হতে হবে। সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। সেখানে পর্যাপ্ত হাসপাতাল, স্কুল কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। জীবিকার তাগিদে সীমান্তবাসী কোনো চোরাচালানে জড়ায় না, বরং ভারতীয়রা এ অপকর্ম করে বাংলাদেশের ওপর দোষ চাপায়।’ সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আরও আধুনিক ও

সীমান্ত হত্যার দায়ে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে দাঁড় করাতে হবে

সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে বিএসএফের ‘পুশইন’ চেষ্টার প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের লাগাতার হত্যার বিচার দাবি করেছেন তিনি।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জানা গেছে, উত্তেজনাপূর্ণ এ সীমান্ত পরিদর্শনে দলটির নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয় শত শত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় ‘এ দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, ‘সীমান্ত হত্যা রুখে দিন, চলবে না চলবে না’ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সীমান্ত এলাকা।

পরিদর্শনকালে এনসিপির এ নেতা বলেন, ভারত খুনি রাষ্ট্র ও বিএসএফ খুনি বাহিনী। তাদের বিচার হতে হবে। সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখার কেউ নেই। সেখানে পর্যাপ্ত হাসপাতাল, স্কুল কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। জীবিকার তাগিদে সীমান্তবাসী কোনো চোরাচালানে জড়ায় না, বরং ভারতীয়রা এ অপকর্ম করে বাংলাদেশের ওপর দোষ চাপায়।’

সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজিবির পেছনে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সমর্থন রয়েছে। বিজিবির হাতে খেলনা পিস্তল দিয়ে সীমান্ত রক্ষা করা যাবে না। তাদের আধুনিক ভারী অস্ত্র, পেট্রোলিং কার দিতে হবে এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতন বাড়াতে হবে।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অপরাধ করলেও তাকে বিচার ছাড়া সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

সবশেষে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭১, ৯০ কিংবা ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত দেশের মানুষ মেনে নেবে না। রক্ত দিয়ে হলেও দেশের সীমান্ত রক্ষা করা হবে।

সীমান্ত হত্যার দায়ে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে দাঁড় করাতে হবে

সফরের পরিকল্পনা অনুযায়ী সীমান্ত পরিদর্শন শেষে বেনাপোল পর্যটন মোটেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের কথা ছিল। তবে সীমান্তে তার আগমনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে কর্মসূচি শেষ করেন।

এদিকে সীমান্ত পরিদর্শন শেষে চেকপোস্ট সড়কে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাকে ধাওয়া করেন বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে তার গাড়ি বহর লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ডিম নিক্ষেপ করে।

ধাওয়া ও হামলার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সহকর্মীদের নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এনসিপির দাবি, হামলায় ছাত্রশক্তি নেতা খান মিফতাহুল মোস্তাফিজ অমিত, তাসকিন আহমেদ তাজিম এবং যুবশক্তি নেতা রুপম আহসান অর্নবসহ অন্তত চারজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে গাড়িতে থাকা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা নিরাপদ রয়েছেন।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক মেয়াজ মেহরাব তালুকদার, যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক, চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক শোয়েব মিয়া, স্থানীয় এনসিপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মো. জামাল হোসেন/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow