সীমান্তে কাঁটাতার, শুভেন্দুর নতুন সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশের দলগুলোর ‘প্রশ্ন’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ আবার আলোচনায় এসেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিল, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ হচ্ছে এবং আগের তৃণমূল সরকার এই বিষয়ে কঠোর ছিল না। ভারতের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অংশেই রয়েছে প্রায় ২,২১৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হলেও এখনও প্রায় ৫৬৩ কিলোমিটার এলাকায় কাজ বাকি রয়েছে। ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জমি অধিগ্রহণ, নদীভাঙন ও জলাভূমির মতো সমস্যার কারণে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিজেপি নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই দাবি করে আসছিল, তৃণমূল সরকার বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দেয়নি। তাই সরকার গঠনের পর সীমান্তে বেড়া নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে তারা। মঙ্গলবার (১২ মে) বিবিসি বাংলায় এ সং

সীমান্তে কাঁটাতার, শুভেন্দুর নতুন সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশের দলগুলোর ‘প্রশ্ন’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ আবার আলোচনায় এসেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিল, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ হচ্ছে এবং আগের তৃণমূল সরকার এই বিষয়ে কঠোর ছিল না।

ভারতের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অংশেই রয়েছে প্রায় ২,২১৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হলেও এখনও প্রায় ৫৬৩ কিলোমিটার এলাকায় কাজ বাকি রয়েছে।

ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জমি অধিগ্রহণ, নদীভাঙন ও জলাভূমির মতো সমস্যার কারণে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিজেপি নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই দাবি করে আসছিল, তৃণমূল সরকার বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দেয়নি। তাই সরকার গঠনের পর সীমান্তে বেড়া নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিবিসি বাংলায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেছেন, কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করলেও জানান, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে, কোনো অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে নয়।

এদিকে, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলছে, এই বেড়া নির্মাণের মাধ্যমে ‘বিভেদের দেওয়াল’ তৈরি করছে ভারত, যে কারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উদ্যোগে নজর রাখছে তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ নতুন কোনো বিষয় নয়, তবে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর এটি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই কেবল নিরাপত্তা নয়, রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। তবে দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও নিরাপত্তা ইস্যু বাস্তব সমস্যা হওয়ায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow