সুইজারল্যান্ডেই কেন ফিফার সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে?

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড শুধু ফুটবলের জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রশাসনের কেন্দ্র হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। গত ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফিফার সদর দপ্তর রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে। শুধু ফিফাই নয়, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) সহ ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন ও ক্রীড়া আদালতেরও ঠিকানা এই দেশ। ফিফা ১৯০৪ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৩২ সালে তৎকালীন সভাপতি জুলে রিমে সদর দপ্তর জুরিখে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। এর পেছনে ছিল একাধিক কারণ। ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুবিধা সুইজারল্যান্ডকে আদর্শ স্থান হিসেবে গড়ে তোলে। তবে অর্থনৈতিক সুবিধাও ছিল বড় কারণ। সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ট্যাক্স হ্যাভেন। দেশটির ব্যাংকিং গোপনীয়তা আইন, কর-ছাড় এবং অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য বিশেষ সুবিধা বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থাকে সেখানে সদর দপ্তর স্থাপনে উৎসাহিত করেছে। একই কারণে জাতিসংঘের (ইউএন) গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত। সুইস সরকার সাধা

সুইজারল্যান্ডেই কেন ফিফার সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে?

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড শুধু ফুটবলের জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রশাসনের কেন্দ্র হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। গত ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফিফার সদর দপ্তর রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহরে। শুধু ফিফাই নয়, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) সহ ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশন ও ক্রীড়া আদালতেরও ঠিকানা এই দেশ।

ফিফা ১৯০৪ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৩২ সালে তৎকালীন সভাপতি জুলে রিমে সদর দপ্তর জুরিখে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। এর পেছনে ছিল একাধিক কারণ। ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুবিধা সুইজারল্যান্ডকে আদর্শ স্থান হিসেবে গড়ে তোলে।

তবে অর্থনৈতিক সুবিধাও ছিল বড় কারণ। সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ট্যাক্স হ্যাভেন। দেশটির ব্যাংকিং গোপনীয়তা আইন, কর-ছাড় এবং অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য বিশেষ সুবিধা বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থাকে সেখানে সদর দপ্তর স্থাপনে উৎসাহিত করেছে। একই কারণে জাতিসংঘের (ইউএন) গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।

সুইস সরকার সাধারণত আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রমে খুব কম হস্তক্ষেপ করে। এই নিরপেক্ষ নীতির কারণে ক্রীড়া সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে পারে। এর বিনিময়ে দেশটিও বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পায়। ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এআইএসটিএস)-এর ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর উপস্থিতির কারণে সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতিতে প্রায় ১০ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ যোগ হয়েছে। কর, পর্যটন এবং ক্রীড়া জাদুঘর পরিদর্শন থেকে এই আয় এসেছে।

তবে সুইজারল্যান্ডের নামের সঙ্গে বিতর্কও জড়িয়ে আছে। ২০১৫ সালে ‘ফিফাগেট’ কেলেঙ্কারির সময় জুরিখের একটি বিলাসবহুল হোটেলে এফবিআই ও সুইস পুলিশের যৌথ অভিযানে ফিফার সাত কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের মূল বিষয় ছিল ২০১৮ (রাশিয়া) ও ২০২২ (কাতার) বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ।

সেই ঘটনার পর ফিফা সদর দপ্তর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তারা জুরিখেই থেকে যায়। তবে সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক অফিস খুলেছে। বর্তমানে মায়ামি, প্যারিস, সিঙ্গাপুর এবং ২০২৭ নারী বিশ্বকাপ উপলক্ষে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতেও ফিফার অফিস রয়েছে।

মাঠে এবার আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। তবে মাঠের বাইরের ইতিহাসে দেশটি বহুদিন ধরেই বিশ্ব ক্রীড়া প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

আরআর/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow