সুগন্ধি থেকে খচ্চর : বিশ্বনেতাদের বিচিত্র উপহারের রাজনীতি

কূটনীতিতে উপহার দেওয়া-নেওয়া শুধু সৌজন্যের বিষয় নয়, এর পেছনে থাকে গভীর রাজনৈতিক বার্তা ও বন্ধুত্বের প্রতীক। সম্প্রতি সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান আহমেদ আল শারাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুগন্ধি উপহার দেওয়ার ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে বিশ্বনেতাদের এই বিচিত্র উপহার বিনিময়ের ইতিহাস। সুগন্ধি থেকে শুরু করে খচ্চর কিংবা আস্ত সিংহ, কী নেই এই তালিকায়? বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান আহমেদ আল শারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা দুটি পারফিউম, যার নাম ‘ভিক্টরি ৪৫-৪৭’। ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বিজয় ও হোয়াইট হাউসে ফেরার স্মারক হিসেবে তৈরি এই সুগন্ধি এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে উপহার হিসেবে এমন অদ্ভুত জিনিসের তালিকা বেশ দীর্ঘ। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৭৮৫ সালে স্পেনের রাজা জর্জ ওয়াশিংটনকে একটি খচ্চর উপহার দিয়েছিলেন । ১৮২৭ সালে মিশরের শাসক ফ্রান্সের রাজাকে পাঠিয়েছিলেন একটি জ্যান্ত জিরাফ । পিছিয়ে নেই হাতিও; ১৮৬২ সালে সিয়ামের রাজা প্রেসিডেন্ট আব

সুগন্ধি থেকে খচ্চর : বিশ্বনেতাদের বিচিত্র উপহারের রাজনীতি

কূটনীতিতে উপহার দেওয়া-নেওয়া শুধু সৌজন্যের বিষয় নয়, এর পেছনে থাকে গভীর রাজনৈতিক বার্তা ও বন্ধুত্বের প্রতীক। সম্প্রতি সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান আহমেদ আল শারাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুগন্ধি উপহার দেওয়ার ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে বিশ্বনেতাদের এই বিচিত্র উপহার বিনিময়ের ইতিহাস। সুগন্ধি থেকে শুরু করে খচ্চর কিংবা আস্ত সিংহ, কী নেই এই তালিকায়?

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান আহমেদ আল শারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা দুটি পারফিউম, যার নাম ‘ভিক্টরি ৪৫-৪৭’। ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বিজয় ও হোয়াইট হাউসে ফেরার স্মারক হিসেবে তৈরি এই সুগন্ধি এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে উপহার হিসেবে এমন অদ্ভুত জিনিসের তালিকা বেশ দীর্ঘ।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৭৮৫ সালে স্পেনের রাজা জর্জ ওয়াশিংটনকে একটি খচ্চর উপহার দিয়েছিলেন । ১৮২৭ সালে মিশরের শাসক ফ্রান্সের রাজাকে পাঠিয়েছিলেন একটি জ্যান্ত জিরাফ । পিছিয়ে নেই হাতিও; ১৮৬২ সালে সিয়ামের রাজা প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনকে এবং ১৯৭২ সালে ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথকে হাতি উপহার দেন।

উপহারের এই তালিকায় আছে চরম বিস্ময়ও। ১৯৫৯ সালে সোভিয়েত নেতা ক্রুশ্চেভ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারকে চাঁদে পাঠানো ধাতব বলের হুবহু প্রতিরূপ উপহার দেন । আবার ১৯৯০ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসে আড়াই মিটার লম্বা এক কোমোডো ড্রাগন । অতি সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট বেলারুশকে একটি মৃত সংরক্ষিত সিংহ উপহার দিলে বিনিময়ে পান একটি ট্র্যাক্টর ।


সব উপহার অবশ্য সুখকর স্মৃতি হয়ে থাকে না। ২০০৯ সালে বারাক ওবামা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে ২৫টি ডিভিডি উপহার দিলেও সেগুলো ব্রিটেনের ডিভিডি প্লেয়ারে চলতো না। আবার ২০১৩ সালে মালি সরকার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ওলাঁদকে যে উটটি উপহার দিয়েছিল, বিধি-নিষেধের কারণে সেটি এক পরিবারের কাছে রেখে আসায় তারা সেটি শেষ পর্যন্ত খেয়ে ফেলে। 


কখনও চীনের ‘পান্ডা কূটনীতি’, কখনও আবার ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ গানের সিডি উপহার দেওয়া, এই সবকিছুর মূলেই থাকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গভীর রসায়ন। এই উপহারগুলো কখনও ক্ষমতা, কখনও বন্ধুত্ব, আবার কখনও বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। 


উপহার যাই হোক না কেন, তা দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক অনন্য মাধ্যম। সুগন্ধির ঘ্রাণ মিলিয়ে গেলেও থেকে যায় কূটনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী ছাপ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow