সুনামগঞ্জে হাওর থেকে শহর পর্যন্ত বন্যা আতঙ্ক

সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্রুত গতিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। এতে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে সময় পার করছেন জেলার ২০ লাখেরও বেশি মানুষ। ঢলের পানিতে যেকোনো সময় সীমান্ত এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৫ লক্ষাধিকেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩ হাজার ৭৪৭.১৮ বর্গ কিলোমিটার দিয়ে গঠিত ভাটির জেলা সুনামগঞ্জ। প্রতি বছর এই জেলায় কালবৈশাখি ঝড় থেকে শুরু করে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মাস খানেক আগেও হাওর অঞ্চলের মানুষদের ধান ঘরে তুলতে নানা প্রতিকূলতা পার হতে হয়েছে। বজ্রপাত, হাওরে জলাবদ্ধতা ও উজানের ঢল মোকাবিলা করে ঘরে তুলেছেন কষ্টের ধান। তারপরও নষ্ট হয়েছে লক্ষাধিক কৃষকের ধান। এরপর যখন হাওরাঞ্চলের মানুষ একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিবে ঠিক সেই সময় আরেক দুশ্চিন্তার ভাঁজ হাওর থেকে শহর পর্যন্ত। বিশেষ করে জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ একদম সীমান্ত নিকটবর্তী এলাকায় বসবাস করেন। ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রথমে এসব উপজেলার গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়বেন ৪ থেকে ৫ উপ

সুনামগঞ্জে হাওর থেকে শহর পর্যন্ত বন্যা আতঙ্ক

সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্রুত গতিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। এতে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে সময় পার করছেন জেলার ২০ লাখেরও বেশি মানুষ। ঢলের পানিতে যেকোনো সময় সীমান্ত এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৫ লক্ষাধিকেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩ হাজার ৭৪৭.১৮ বর্গ কিলোমিটার দিয়ে গঠিত ভাটির জেলা সুনামগঞ্জ। প্রতি বছর এই জেলায় কালবৈশাখি ঝড় থেকে শুরু করে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মাস খানেক আগেও হাওর অঞ্চলের মানুষদের ধান ঘরে তুলতে নানা প্রতিকূলতা পার হতে হয়েছে। বজ্রপাত, হাওরে জলাবদ্ধতা ও উজানের ঢল মোকাবিলা করে ঘরে তুলেছেন কষ্টের ধান। তারপরও নষ্ট হয়েছে লক্ষাধিক কৃষকের ধান। এরপর যখন হাওরাঞ্চলের মানুষ একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিবে ঠিক সেই সময় আরেক দুশ্চিন্তার ভাঁজ হাওর থেকে শহর পর্যন্ত।

বিশেষ করে জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ একদম সীমান্ত নিকটবর্তী এলাকায় বসবাস করেন। ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রথমে এসব উপজেলার গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়বেন ৪ থেকে ৫ উপজেলার ৫ লাখেরও বেশি মানুষ। এমনকি ঢলের পানিতে এরইমধ্যে তলিয়েছে তাহিরপুরের আনোয়ারপুর সড়ক ও বিশ্বম্ভরপুরের শক্তিয়ারখলা সড়ক। এতে জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি তাহিরপুর উপজেলার সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

সুনামগঞ্জে হাওর থেকে শহর পর্যন্ত বন্যা আতঙ্ক

তাহিরপুরের চারাগাও এলাকার বাসিন্দা দিলোয়ার মিয়া বলেন, হঠাৎ পানি এসে পুরো রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। কোমর সমান পানি রাস্তাঘাটে। এতে দিনভর এই অঞ্চলের মানুষ চরম ভোগান্তিতে ছিল।

তাহিরপুরের চারাগাও এলাকার বাসিন্দা আক্কাছ মিয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলে পানিতে পুরো সীমান্তবর্তী গ্রাম চারাগাওয়ের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। তবে যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে তাহলে সীমান্ত এলাকাসহ নিম্নাঞ্চলের সব মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে।

সুনামগঞ্জ শহরের বাসিন্দা ইকবাল মিয়া বলেন, বন্যা মানেই আতঙ্কের নাম। যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে এতে দুশ্চিন্তাও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

সুনামগঞ্জে হাওর থেকে শহর পর্যন্ত বন্যা আতঙ্ক

করচার হাওর পাড়ের বাসিন্দা রুকন মিয়া বলেন, হাওরের মানুষদের শান্তি নেই। কারণ একের পর এক নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে আমাদের লড়াই করতে হয়। এতদিন ছিল ধান রক্ষার যুদ্ধ, এখন থেকে শুরু হবে বসতভিটা রক্ষার যুদ্ধ।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে সুরমা, বৌলাই, রক্তিসহ বিভিন্ন নদীর পানি বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৮৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমানে পানি বিপৎসীমার প্রায় ৩৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই দিনে ভারি বৃষ্টিপাত হলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। কোথাও কোথাও বিপৎসীমা স্পর্শ করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন হাওলাদার বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনো জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

লিপসন আহমেদ/এফএ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow