সেই মেরিনোই যখন লা রোজাদের ত্রাতা
বিশ্বকাপে স্পেনের প্রয়োজনের মুহূর্তে বারবার ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হচ্ছেন মিকেল মেরিনো। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে জেতানোর পর এবার বেলজিয়ামের বিপক্ষেও বদলি নেমে জয়সূচক গোল করলেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। তার ৮৮তম মিনিটের গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেছে লা রোজারা।
লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্পেন ও বেলজিয়াম। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন মেরিনো। মূল স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারসাবালকে তুলে নিয়ে ৮৫তম মিনিটে তাকে মাঠে নামান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মাঠে নামার মাত্র তিন মিনিট পরই গোল করে দলের জয়ের নায়ক বনে যান তিনি।
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে পাউ কুবারসির শট বেলজিয়ামের গোলরক্ষক সেনে লামেন্স পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বলে সঠিক জায়গায় থাকা মেরিনো কোনো ভুল করেননি। নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। সেই গোলেই বিদায় নিশ্চিত হয় বেলজিয়ামের।
এবারের বিশ্বকাপে মেরিনোকে নতুন ভূমিকায় ব্যবহার করছেন স্পেন কোচ। প্রথাগত মিডফিল্ড পজিশন থেকে সরিয়ে ম্যাচের শেষ দিকে তাকে ‘মে
বিশ্বকাপে স্পেনের প্রয়োজনের মুহূর্তে বারবার ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হচ্ছেন মিকেল মেরিনো। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে জেতানোর পর এবার বেলজিয়ামের বিপক্ষেও বদলি নেমে জয়সূচক গোল করলেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। তার ৮৮তম মিনিটের গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেছে লা রোজারা।
লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্পেন ও বেলজিয়াম। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন মেরিনো। মূল স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারসাবালকে তুলে নিয়ে ৮৫তম মিনিটে তাকে মাঠে নামান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মাঠে নামার মাত্র তিন মিনিট পরই গোল করে দলের জয়ের নায়ক বনে যান তিনি।
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে পাউ কুবারসির শট বেলজিয়ামের গোলরক্ষক সেনে লামেন্স পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বলে সঠিক জায়গায় থাকা মেরিনো কোনো ভুল করেননি। নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। সেই গোলেই বিদায় নিশ্চিত হয় বেলজিয়ামের।
এবারের বিশ্বকাপে মেরিনোকে নতুন ভূমিকায় ব্যবহার করছেন স্পেন কোচ। প্রথাগত মিডফিল্ড পজিশন থেকে সরিয়ে ম্যাচের শেষ দিকে তাকে ‘মেকশিফট নাম্বার নাইন’ হিসেবে খেলাচ্ছেন ফুয়েন্তে। আর সেই কৌশলই যেন বারবার সফল হচ্ছে।
চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন মেরিনো। গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট—সব ম্যাচেই বেঞ্চ থেকে উঠে এসে দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। পর্তুগালের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনে ৮৪তম মিনিটে মাঠে নেমে যোগ করা সময়ে গোল করে জয় এনে দিয়েছিলেন। এবার বেলজিয়ামের বিপক্ষেও একই গল্পের পুনরাবৃত্তি হলো।
পরপর দুই নকআউট ম্যাচে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করে মেরিনো বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার এই দক্ষতার কারণে তিনি এখন স্পেনের অন্যতম বড় অস্ত্র।
তবে বেলজিয়ামের হারের পেছনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার চোট। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক। মাঠ ছাড়ার সময় হতাশ কোর্তোয়াকে কাঁদতেও দেখা যায়। তার জায়গায় নামেন সেনে লামেন্স।
বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের হয়ে নিজের ২১তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন কোর্তোয়া। ম্যাচে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভও করেছিলেন তিনি। কিন্তু চোটের কারণে তার বিদায়ের পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। তার বদলি হিসেবে নামা লামেন্সের একটি ভুল শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এর আগে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। পেদ্রির পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া রুইজ কোচের আস্থার প্রতিদান দেন। দানি ওলমোর শট কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে রুইজের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।
তবে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় বেলজিয়াম। ৪১তম মিনিটে টিমোথি কাস্তানিয়ের ক্রস থেকে চার্লস ডি কেটেলারা দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান। এই গোলেই চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার স্পেনের রক্ষণ ভাঙে। এর আগে টানা ৬০০ মিনিটের বেশি সময় গোল হজম করেনি লা রোজারা।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়। স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল পুরো ম্যাচে বেলজিয়ামের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন। একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাননি তিনি।
ম্যাচে স্পেন কোচ ফুয়েন্তের আরেকটি সিদ্ধান্তও প্রশংসা কুড়িয়েছে। পর্তুগালের বিপক্ষে একাদশে না থাকা ফাবিয়ান রুইজকে শুরু থেকে খেলিয়ে তিনি আক্রমণে বাড়তি শক্তি যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত গোল করে সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন রুইজ।
অন্যদিকে, বেলজিয়ামের জন্য ইউরি তিয়েলেম্যান্সের অনুপস্থিতিও বড় ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয়ের নায়ক এই মিডফিল্ডার ওয়ার্ম-আপের সময় চোট পাওয়ায় মাঠে নামতে পারেননি। তার অভাবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারায় বেলজিয়াম। নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না কেভিন ডি ব্রুইনাও।
এই হারে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের বিশ্বকাপ স্বপ্ন আবারও অপূর্ণ রয়ে গেল। থিবো কোর্তোয়া, কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু, অ্যাক্সেল উইটসেলসহ দলের অভিজ্ঞ তারকাদের জন্য এটি শেষ বিশ্বকাপও হতে পারে।
অন্যদিকে, দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন এখন সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের। ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।