সেতুর মাঝে বিশাল গর্ত, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার ৩০ হাজার মানুষের
ফেনীর বিরিঞ্চি-সোনাপুর সেতুটির বয়স প্রায় ষাট বছর। গত আট-নয় বছর ধরে এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। সেতুর দিকে তাকালে চোখে পড়ে, ভেতরের ক্ষয়ে যাওয়া লোহার রড আর নড়বড়ে কাঠামো। মাঝখানে ধসে পড়া বিশালাকার গর্তটি কেবল সিমেন্টের ফাটল নয়, যেন দুই পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন দুশ্চিন্তার প্রতীক। ফেনী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিরিঞ্চির সংযোগস্থলের এ সেতু অনেক গুরুত্বপূর্ণ সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। সেতুর পাশেই পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন সকালে স্কুলের ঘণ্টা বাজলে যেমন- শিক্ষার্থীদের কোলাহল শুরু হয়, তেমনি দুই পাড়ের অভিভাবকদের মনে থাকে আতঙ্ক। স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাফিনের বাবা নুর হোসেন দাঁড়িয়েছিলেন সেতুর মুখে। চোখে মুখে উদ্বেগ স্পষ্ট। বললেন, বাচ্চাটা সকালে স্কুলে গেলে বাসায় না ফেরা পর্যন্ত একমুহূর্তের জন্য নিশ্চিন্ত হতে পারি না। সেতু দিয়ে কোনোদিন কোনো শিশু পড়ে যায়, সেই আতঙ্কে দিন কাটে। পুরো এলাকার একই চিত্র। রুহিতিয়া, মধ্যম সোনাপুর, পূর্ব সোনাপুর, শ্রীপুর, অশ্বদিয়া ও কাজীরবাগ এলাকার হাজার
ফেনীর বিরিঞ্চি-সোনাপুর সেতুটির বয়স প্রায় ষাট বছর। গত আট-নয় বছর ধরে এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। সেতুর দিকে তাকালে চোখে পড়ে, ভেতরের ক্ষয়ে যাওয়া লোহার রড আর নড়বড়ে কাঠামো। মাঝখানে ধসে পড়া বিশালাকার গর্তটি কেবল সিমেন্টের ফাটল নয়, যেন দুই পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন দুশ্চিন্তার প্রতীক।
ফেনী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিরিঞ্চির সংযোগস্থলের এ সেতু অনেক গুরুত্বপূর্ণ সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।
সেতুর পাশেই পশ্চিম সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন সকালে স্কুলের ঘণ্টা বাজলে যেমন- শিক্ষার্থীদের কোলাহল শুরু হয়, তেমনি দুই পাড়ের অভিভাবকদের মনে থাকে আতঙ্ক।
স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাফিনের বাবা নুর হোসেন দাঁড়িয়েছিলেন সেতুর মুখে। চোখে মুখে উদ্বেগ স্পষ্ট। বললেন, বাচ্চাটা সকালে স্কুলে গেলে বাসায় না ফেরা পর্যন্ত একমুহূর্তের জন্য নিশ্চিন্ত হতে পারি না। সেতু দিয়ে কোনোদিন কোনো শিশু পড়ে যায়, সেই আতঙ্কে দিন কাটে।
পুরো এলাকার একই চিত্র। রুহিতিয়া, মধ্যম সোনাপুর, পূর্ব সোনাপুর, শ্রীপুর, অশ্বদিয়া ও কাজীরবাগ এলাকার হাজার হাজার মানুষ এই এক সেতুর ওপর নির্ভরশীল।
শুধু মানুষের যাতায়াত নয়, সেতুটির বেহাল দশায় এলাকার অর্থনীতিতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কোনো পণ্য পরিববহন করা যাচ্ছে না। মাঝরাত্রে কোনো মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে কিংবা প্রসূতি মায়ের জরুরি চিকিৎসায় অ্যাম্বুলেন্স আসার উপায় নেই। ফলে রোগীকে কোলে করে বা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে পার করাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ আট বছর ধরে সেতুটির এমন বেহাল অবস্থা হলেও কোনো অদৃশ্য কারণে স্থায়ী পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এক দপ্তর অন্য দপ্তরের ওপর দায় চাপিয়েই পার করছে বছরের পর বছর।
যোগাযোগের এমন গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের দায়িত্ব কার, এ প্রশ্নের জবাবে ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির উদ্দিন জানান, সেতুটি পৌরসভার আওতাধীন হলেও মূল কাজ এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) করার কথা।
পৌরসভার আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পৌরসভার ফান্ডে বাজেট সংকট রয়েছে। তবে জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা দ্রুতই বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি।’
কোনো বড় দুর্ঘটনা সংবাদের শিরোনাম হওয়ার আগেই জরাজীর্ণ সেতুটি নতুন করে গড়ার দাবি ফেনীবাসীর।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেজে/জেআইএম
What's Your Reaction?