সেনেগালের শিরোপা হাতছাড়া, ফুটবল দুনিয়ায় তোলপাড়

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) ফাইনাল ঘিরে নজিরবিহীন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ)। আফকনের ফাইনালে সেনেগাল জিতলেও দুই মাস পর বিজয়ী হিসেবে আরেক ফাইনালিস্ট মরক্কোর নাম ঘোষণা করেছে সিএএফ। সংস্থাটির এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ফুটবল ভক্তরা। ১৯ জানুয়ারির ফাইনালে পাপে গুয়ের একমাত্র গোলে ভর করে মরক্কোকে হারায় সেনেগাল। সে ম্যাচে মরক্কোর পক্ষে একটি পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও এবং কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে চলে যান। এই ঘটনায় প্রায় ১৫ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। এরপর অধিনায়ক সাদিও মানের অনুরোধে খেলোয়াড়েরা মাঠে ফিরে এলে পুনরায় ম্যাচ শুরু হয়। যদিও সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় মরক্কো। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় গোলশূন্যভাবে। এরপর অতিরিক্ত সময়ে জালে বল জড়িয়ে ব্যবধান গড়ে দেন গুয়ে। দুই মাস পর এই ফল বাতিল হয়ে গেল। আলোচিত ওই ঘটনায় প্রাথমিক শৃঙ্খলা কমিটি উভয় দলকে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা দিলেও ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত রেখেছিল। তবে আপিলের পর সিএএফ জানায়, সেনেগাল দলের আচরণ টুর্নামেন্টের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। সংস্থাটির বিবৃতিতে

সেনেগালের শিরোপা হাতছাড়া, ফুটবল দুনিয়ায় তোলপাড়

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) ফাইনাল ঘিরে নজিরবিহীন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ)। আফকনের ফাইনালে সেনেগাল জিতলেও দুই মাস পর বিজয়ী হিসেবে আরেক ফাইনালিস্ট মরক্কোর নাম ঘোষণা করেছে সিএএফ। সংস্থাটির এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ফুটবল ভক্তরা।

১৯ জানুয়ারির ফাইনালে পাপে গুয়ের একমাত্র গোলে ভর করে মরক্কোকে হারায় সেনেগাল। সে ম্যাচে মরক্কোর পক্ষে একটি পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও এবং কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে চলে যান। এই ঘটনায় প্রায় ১৫ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। এরপর অধিনায়ক সাদিও মানের অনুরোধে খেলোয়াড়েরা মাঠে ফিরে এলে পুনরায় ম্যাচ শুরু হয়। যদিও সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় মরক্কো। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় গোলশূন্যভাবে। এরপর অতিরিক্ত সময়ে জালে বল জড়িয়ে ব্যবধান গড়ে দেন গুয়ে। দুই মাস পর এই ফল বাতিল হয়ে গেল।

আলোচিত ওই ঘটনায় প্রাথমিক শৃঙ্খলা কমিটি উভয় দলকে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা দিলেও ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত রেখেছিল। তবে আপিলের পর সিএএফ জানায়, সেনেগাল দলের আচরণ টুর্নামেন্টের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ৮৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেনেগালকে ম্যাচ পরিত্যাগকারী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং ফলাফল মরক্কোর পক্ষে দেওয়া হয়েছে। আপিল পর্যালোচনার পর নতুন বিজয়ী মরক্কো ৩-০ গোলে জয়ী হিসেবে বিবেচিত হবে।


এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেনেগাল। এদিকে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কোনো দলের পারফরম্যান্সকে খাটো করা নয়, বরং প্রতিযোগিতার নিয়ম যথাযথভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

সিএএফের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সেনেগালের ফুটবলাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রফি ধরে রাখার একটি ছবি পোস্ট করেছেন ডিফেন্ডার মুসা নিয়াখাতে। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ওরা পাগল হয়ে গেছে।’ লেফট ব্যাক এল হাজি মালিক দিওফ লিখেছেন, ‘আমি এটা আশা করিনি। শিরোপা কোথাও যাবে না।’

সিএএফের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে সেনেগালের তরুণ মিডফিল্ডার পাপে দেম্বা দিওপ লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে যেন পাগলা গারদে আছি।’ সেনেগালের শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয়েছে সেটা বিশ্বাসই হচ্ছে দলটির সাবেক কোচ আলিউ সিসের। তিনি বলেন, ‘এটা কেমন সিদ্ধান্ত! এপ্রিল ফুলের মজা কি? এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। এটা সত্যি হতে পারে না।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow