সেন্সেশন 

আমাকে বাজে তকমাটা কেন দাও, শুনি? আমি কখনো নিজেকে জাগিয়ে দেখিনি আর যেটুকু আমার নিয়ন আমাকে জাগায় তাতে আমার কতটুকু উপলব্ধি হয় সেটা আমি তোমাকে ব্যক্ত করতে পারছি না। আর ছাড়ো না এসব, প্লিজ এসব নিয়ে আমাকে আর প্রশ্ন করবে না, ওকে? একান্ত ব্যক্তিগত কথা টেনে এনে লজ্জার ভারটাকে আরো বাড়িয়ে দিও না। হয়তো আমি ওর স্পর্শে পুরোপুরি সুখ পাই না তবু কোনো আক্ষেপ নেই। এই বেশ ভালোই আছি।  বন্ধুর সাথে কথা শেষ করে কাঁধ থেকে ফোনটা নামাতে গিয়ে হলুদের ছাপ লেগে যায় ফোনটাতে। তখন তিনি কিচেনে রান্না করছিলেন। হ্যাঁ, নিয়নের স্ত্রী রুহানি, সুদর্শনা এবং বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা, বেশ লম্বা আর অসাধারণ তার কণ্ঠস্বর। যে কারোর চোখে পড়ার মতো; যথেষ্ট গুণও রয়েছে তার মধ্যে। নিয়ন পেশায় সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ভীষণ স্মার্ট। রাতদিন পাইথন প্রোগ্রামিং আর মাইএসকিউএল নিয়ে পড়ে থাকেন। ঢাকার মা ও শিশু হাসপাতালের পেশেন্ট রেকর্ড সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট নিয়ে খুব ব্যস্ত এখন। বারিধারার ইস্ট লিংক রোডে তার অফিস। অফিসে থেকে বাড়ি ফিরেও তিনি ল্যাপটপ নিয়েই বসে থাকেন। প্রোগ্রামিং ছাড়া মাথায় আর কিছু ঢোকে না। বন্ধুরা বলে নতুন বউয়ের প্রোগ্রামিংটা করিস ঠিকঠাক, না হলে

সেন্সেশন 

আমাকে বাজে তকমাটা কেন দাও, শুনি? আমি কখনো নিজেকে জাগিয়ে দেখিনি আর যেটুকু আমার নিয়ন আমাকে জাগায় তাতে আমার কতটুকু উপলব্ধি হয় সেটা আমি তোমাকে ব্যক্ত করতে পারছি না। আর ছাড়ো না এসব, প্লিজ এসব নিয়ে আমাকে আর প্রশ্ন করবে না, ওকে? একান্ত ব্যক্তিগত কথা টেনে এনে লজ্জার ভারটাকে আরো বাড়িয়ে দিও না। হয়তো আমি ওর স্পর্শে পুরোপুরি সুখ পাই না তবু কোনো আক্ষেপ নেই। এই বেশ ভালোই আছি। 

বন্ধুর সাথে কথা শেষ করে কাঁধ থেকে ফোনটা নামাতে গিয়ে হলুদের ছাপ লেগে যায় ফোনটাতে। তখন তিনি কিচেনে রান্না করছিলেন। হ্যাঁ, নিয়নের স্ত্রী রুহানি, সুদর্শনা এবং বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা, বেশ লম্বা আর অসাধারণ তার কণ্ঠস্বর। যে কারোর চোখে পড়ার মতো; যথেষ্ট গুণও রয়েছে তার মধ্যে। নিয়ন পেশায় সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ভীষণ স্মার্ট। রাতদিন পাইথন প্রোগ্রামিং আর মাইএসকিউএল নিয়ে পড়ে থাকেন। ঢাকার মা ও শিশু হাসপাতালের পেশেন্ট রেকর্ড সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট নিয়ে খুব ব্যস্ত এখন। বারিধারার ইস্ট লিংক রোডে তার অফিস। অফিসে থেকে বাড়ি ফিরেও তিনি ল্যাপটপ নিয়েই বসে থাকেন। প্রোগ্রামিং ছাড়া মাথায় আর কিছু ঢোকে না। বন্ধুরা বলে নতুন বউয়ের প্রোগ্রামিংটা করিস ঠিকঠাক, না হলে অন্য কেউ ডেভেলপ করে দেবে। ফালতু কথা বলিস না তো। এভাবে নিয়ন ওদের কথাকে ফালতু বলে উড়িয়ে দেয়। 

নিয়ন সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই নাস্তার টেবিলে ব্রেকফাস্ট সব রেডি। আজ ড্রেসে কোন কম্বিনেশনটা থাকবে সেটা রুহানি আগের দিন রাতে রেডি করে রাখেন, সাথে জুতো, বেল্ট আর টাই। হ্যাঁ, তবে বেল্ট আর জুতোর কালার এক হওয়া চাই। ওর টাই সব সময় ডার্ক ব্লু অথবা মেরুন কালারের হতে হবে। জুতো সবসময় রুহানি পলিশ করেই রাখেন। নিয়ন যতই উড়নচণ্ডি হোক না কেন আউটফিটে একদম সুপার পারফেক্ট, কেতাদুরস্ত সাহেব যাকে বলে। ঘড়ি, সানগ্লাস সবই ব্রান্ডের। ঘড়ি ট্যাগ হয়ারের আর সানগ্লাস হচ্ছে বোসের অডিও সানগ্লাস। ফোন স্যামসাংয়ের জেড ফোল্ডিং সিরিজের লেটেস্ট ভার্সন ইত্যাদি, ইত্যাদি।

শীতের সকালে বাথরুমে গরম জল নিয়ে টেনশন নেই। সব অটোম্যাটিক হিটিং সিস্টেম লাগানো রয়েছে তার পার্সোনাল ফ্ল্যাটে। জিলেট ল্যাব হিটেড রেজর রয়েছে তাই শেভ করতে শীতের সময় কোনো প্রবলেম হয় না। নিয়ন ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে জামা, প্যান্ট নিজে পরে নেয়, বাকিটা রুহানি করে দেন। রেডি হওয়ার ফাঁকে ফাঁকে ওকে মুখে তুলে খাইয়ে দেন। জুতো মোজা পরানো হয়ে গেলে টাই আর কোর্ট পরিয়ে ওকে রেডি করে দিয়ে রুহানি দাঁড়িয়ে থাকেন। আর নিয়ন জানেন ও কি চাইছে। নিয়ন ওর ঠোঁটে চুমু খেয়ে বেরিয়ে যান। এটাই উইক ডেজের নিত্য ঘটনা। 
আপনাদের মনটা ঠিক আকুপাকু করছে, বর বেরিয়ে গেলে বাসায় সারাদিন রুহানি কী করেন। প্রোফেশনালি কিছু করেন না তবে ল্যান্ডস্কেইপ ডিজাইন নিয়ে সে কমবেশি পড়া শোনা করেছেন। ভবিষ্যতেই সে বিষয়ে কিছু করবেন সেই ভাবনা থেকে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। তিনি ভীষণ কর্মঠ মেয়ে, একাই এই মস্তবড় দামি ফ্ল্যাটের সবকিছু এক হাতে সামলান। পাঁচ বেড রুমের এই ফ্ল্যাটে মাস্টার বেড রুম, লিভিং রুম, স্ট্যাডি রুম, গেস্ট রুম, স্টোর রুম এবং সব শেষের দিকে রয়েছে জিম। এই জিম থেকে স্টোর রুমে যাওয়ার জন্য একটা দরজা রয়েছে। যাতে করে দুটো ঘরেই একসাথে অ্যাক্সে করা যায়। রুহানি সারাক্ষণ দৌড়ে-দৌড়ে কাজ করে শরীরের ঘাম ঝরান, এতে নাকি শরীর চনমনে লাগে।

জিম করা সরাঞ্জামাদির পাশপাশি সে রুমে রয়েছে বিলিয়াডর্স, সোফা, ড্রিংকের বার সহ বিডিএমএস এর মাধ্যমে জৈবিকতাকে উপভোগ করার সব ধরণের ব্যবস্থা। বিয়ের পর তিনি দু একবার নিয়নের সাথে সময় কাটিয়েছেন এখানে। তবে বিডিএমএস দেখে একটু আধটু দুশ্চিন্তা হয়েছিল বটে, পরে সেসব নিয়ে নিয়নের সাথে আর কথা হয়নি। নিয়ন খুব ব্যস্ত থাকেন, স্ত্রীকে সময় দিতে পারেন না। রান্না ঘরে গিয়ে রুহানির মনে পড়ল- বেশ কিছুদিন ধরে ব্লেন্ডার মেশিনটা কাজ করছে না। ভাবলেন একবার স্টোর রুমটায় খুঁজে দেখা যেতে পারে। একটা স্পেয়ার ব্লেন্ডার মেশিন ছিল মনে হয়। 
স্টোর রুমে ব্লেন্ডার খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ করে চোখ যায় একটা কর্ণারে যেখানে একটি আলামারি আছে, তবে লক্‌ড করা। কিন্তু বিয়ের প্রায় এক বছর হয়ে গেল এই বাড়িতে এই বস্তুটার দিকে চোখ যায়নি কেন? নিজেকে প্রশ্ন করেন। আর এর চাবিই-বা কোথায়? দৌড়ে মাস্টার বেডরুমে যান। ওয়ালের স্লাইডিং ডোর সরিয়ে ড্রয়ারের ভেতর খুঁজতে থাকেন। নিয়নের সব ঘড়ি, ব্রেসলেট, টাই, জামার ক্লিপ সবই সাজানো আছে কিন্তু চাবির সেকশনটা উধাও হয়ে গেল, আশ্চর্য তো! খুঁজতে খুঁজতে শেষ ড্রয়ারের মধ্য থেকে চাবির ট্রে টা বের করে সেখানে সব কী হোল্ডারের গায়ে লোকেশন উল্লেখ করা আছে। রুহানি আলমারির চাবিটা নিয়ে দ্রুত পায়ে জিমনেসিয়ামে চলে যান সেটা আনলক করার জন্য। খুলে ভীষণ লজ্জা পান আর নিজেকে বোকা ভাবেন। আরে ধূর এইসব তো ইরোটিক কস্টিউম কসপ্লে সহ ফ্যাটিগ ওয়ে ফলো করার সময় যেসব ইকুয়িপমেন্ট ব্যবহার করেছিলো সেইগুলো। রুহানির ঠোঁটের কোণায় একটা ছোট্ট হাসির রেখা ভেসে ওঠে। ঘাড়ের চারপাশে একটু একটু ঘাম জেগে উঠতে শুরু করে। বিয়ের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতির মধ্যে ডুবে যান কিছুক্ষণের জন্য। হঠাৎ মনে পড়লো তাইতো লাঞ্চ রেডি করতে হবে; রুহানি কিচেনে ফিরে দুপুরের লাঞ্জ রেডি করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

ফোনটা তার দূরেই ছিলো। কিচেনে রাইস কুকারটা অন করে সিটিং রুমে এসে বসেন। ফোনটা হাতে নিতেই ফেইসবুকের মেসেঞ্জারে কে যেন একটা ভয়েস ম্যাসেজ দিয়েছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্লে বাটনে চাপ পড়ে যায়। কবিতার আবৃত্তি ভেসে এলো। রুহানির এসব কবিতা ফবিতা ভালো লাগে না। এসব হচ্ছে মেয়ে পটানোর ধান্দা। ফোনটা টি-টেবিলের উপর রাখতে গিয়ে হঠাৎ ফ্লোরে পড়ে যায়। কার্পেটে মোড়া তাই কোনো এক্সিডেন্ট ঘটলো না। কিন্তু ফোনটা নিচু হয়ে তুলতে গিয়ে দেখতে পেলেন একটা রিসিটের মতো এক টুকরো কাগজ পড়ে আছে। সকালে নিয়নকে রেডি করে দেয়ার সময়ই হয়তো পড়েছে। রিসিটটা তুলে নিয়ে খুলে দেখলেন - কীসের রিসিট এটা? নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলেন। দরকারি না হলে বিনে ফেলে দেবেন। কিন্তু ওটা খুলতে একটা আইটেমের দিকে চোখ গেল, প্রোডাক্টটার নাম সেন্সেশন, মূল্য ৩০০ টাকা। সেন্সেশন! আমাদের একান্ত  মুহুর্তে  নিয়ন তো কোনোদিনও এসব ব্যবাহার করেনি বা করে না, তাহলে রিসিট কোথা থেকে এলো? রুহানির মাথা পুরো এলোমেলো হয়ে গেলো। নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারছে না। নিজেকে এই ছয়তলা থেকে ছুড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে করছে। তবে কি ফাঁকির মধ্যে দিয়ে আমি বিবাহিত জীবন কাটিয়ে দিচ্ছি। চোখ আর কান গরম হয়ে উঠেছে। রাগে ঘৃণায় নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে এই মুহূর্তে।

মোবাইলটা তুলে নিয়ে গুগলে গিয়ে আগোরার ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখতে পেলেন এখানে সেন্সেশনটা আসলে তিনি যা ভেবেছেন সেটা কি-না? রুহানির ধারণা একদম ঠিক। কিচেনের ভাত পোড়ার গন্ধ টের পেলেন রুহানি। রুহানি নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে কিচেনটাকে ম্যানেজ করে ম্যাকবুক নিয়ে বসলেন। ভাবলেন ম্যাকবুক থেকে হয়তো কোনো তথ্য পাওয়া যাবে। রুহানি জানেন নিয়নের ম্যাকবুক আইফোনের সাথে যুক্ত করা তাই আইফোনের সমস্ত ছবি এবং কন্টাক্ট ম্যাকবুকে যুক্ত হতে থাকে। আর এই ম্যাকবুক থেকে ফোনের সব ছবিও এক্সেস করা যায়। এটা আসলে নিয়নের ম্যাকবুক তবু দুজনে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। আর তাই ম্যাকবুক খুলতে কোনো অসুবিধা হলো না। 

রুহানি সব ফোল্ডার ওপেন করে দেখেছেন সেখানে সফটওয়্যার প্রোজেক্ট ছাড়া তেমন কিছু নেই। তবে একটি ফোল্ডার যা কিনা পাসওয়ার্ড দিয়ে লক্‌ড করা। কিন্তু এই ফোল্ডারটা আগে কখনো চোখে পড়েনি, হয়তো প্রয়োজন হয়নি সেভাবে দেখার। এখন তিনি খোলার চেষ্টা করলেন। ম্যাকবুকের ইউজার পাসওয়ার্ড তো জানা আছে কিন্তু সিক্রেট ফোল্ডারের পাসওয়ার্ড তো জানা নেই। এই বৃথা চেষ্টা যে তাকে আরও দুর্নিবার করে তুলল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাগে, ক্ষোভে, দুম করে ম্যাকবুক বন্ধ করে দুহাতে মুখটা চেপে ধরে সোফার মধ্যে বসে মাথাটা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিলেন। এমন সময় কে যেন ম্যাসেঞ্জারে নক করলো। সেই কবিতাওয়ালা! ফালতু যতসব কবির দল, মেয়েদের প্রোফাইল দেখলেই নক করতে হবে - মেসেজটা চেক না করেই নিজে নিজে বলল রুহানি। মেজাজটা আরও খিঁচড়ে যাচ্ছে। ভাবলেন ম্যাসেঞ্জারে কল ব্যাক করে একটা ঝাড়ি দেবেন। তার আগেই অচেনা একটা আইডি থেকে কল এলো। রুহানি কল রিসিভ করতেই কোনো এক জেন্টেলম্যানের গলার স্বর শুনতে পেলেন। 
বলুন কী বলতে চান? 
ওপাশ থেকে ভদ্রলোক নিজের কোনো পরিচয় না দিয়ে বললেন- আমি আপনাকে হেল্প করতে চাই। 
রুহানি কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন- উপকার মানে? আমিতো কোনো বিপদে নেই যে আমি আপনার হেল্পের প্রয়োজনবোধ অনুভব করতে পারি। 
একটা অনুরোধ, আমার কথাগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত কলটা কাটবেন না প্লিজ। ভদ্রলোক ভনিতা না করে বলা শুরু করলেন।
দেখুন প্রায় বছর দুই আগে আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে ফাঁকি দিয়ে আমার বসের সাথে হলিডেতে গিয়ে আর ফেরেনি। গাজিপুরের ক্লাব রিসোর্টে একদিন আমার বসের সাথে আমার গার্ল ফ্রেন্ডের পরিচয় করিয়ে দেই। আমার গার্ল ফ্রেন্ড একটু ওপেন মাইন্ডেড। যে কারোরই সাথে সে নিমিষে মিশে যায়। ওকে ধরে রাখাটা একটু জটিল তবু আমাদের ভালোই চলছিলো। কিন্তু ও বসকে দেখার পর থেকে ওর ওপর অবসেস্ড হয়ে পড়ে। প্রথমে আমি ওসব পাত্তা দিনা কিন্তু কেন যেন সব এলোমেলো লাগছিল। সেদিনকার মতো আমি ওকে নিয়ে ক্লাব ছেড়ে একটু আগে বেরিয়ে আসি। ওকে ট্যাক্সিতে তুলে দিয়ে পরে বসের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় ফিরে যাই। এর কিছুদিন পরে আমার গার্লফ্রেন্ড বললো সে মালদ্বীপ যাবে বেড়াতে। এরকম খামখেয়ালি মন ওর। এর আগেও মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপিনে গিয়েছে; একাকী, একা একা অ্যাডভেঞ্জার করে বেড়াতে ও বেশ উপভোগ করে। 
আমিও বাঁধা দিলাম না। দুদিন পরে জানলাম আমার বস মালদ্বীপ যাচ্ছেন নতুন প্রজেক্টের এগ্রিমেন্ট সাইন করতে। এরপর থেকে আমার গার্লফ্রেন্ড নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। আর কোনো দিন ঢাকায় ফিরে আসেনি, আমার সাথেও দেখা হয়নি। 
হ্যাঁ, সব বুঝলাম কিন্তু এসব আমাকে বলছেন কেন? এ কথা রুহানি বলতে গিয়েও বলল না। একটু থেমে শান্তভাবে বললো আচ্ছা আপনার গার্লফ্রেন্ডের নাম কী ছিলো? 
সুহানা। বলল ভদ্রলোকটা। 
আর আপনার বসের নাম?
ফোনটা হাত থেকে কাচের টেবিলের ওপর পড়ে ছিটকে যায় দূরে। রুহানি এতক্ষণ দাঁড়ানো থেকে এখন ধপাস করে বসে পড়েন নিজেকে সামলে ফোনটা হাতে তুলে নেন কিন্তু কোনো কথা শুনতে পান না। মেসেঞ্জারে ঢুকে ভদ্রলোকের আইডিটা ওপেন করার চেষ্টা করেন। যে আইডি থেকে কল এসেছিলো সেটা এখন ‘ফেইসবুক ইউজার’ এই নাম দেখাচ্ছে। ফেইক আইডি হবে হয়তো। তবু মনের মধ্যে অশান্তির ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

রুহানির মাথা কাজ করছে না। একদিনে এসব কী ঘটে যাচ্ছে। ভদ্রলোকের বস আমার স্বামী। কিন্তু লোকটার নামটা জানতেও চাইলাম না। চারদিক যেন ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। নিঃশ্বাস নিতে বুকের মধ্যে বিঁধে যাচ্ছে। একটু ঠান্ডা জল দরকার এই মুহুর্তে। ডাইনিং-এ যাওয়ার মতো ক্ষমতা নেই রুহানির। দরজায় হঠাৎ বেলের শব্দ শুনে বুঝতে পারলেন যে নিয়ন এসেছে। রোজকার মতো আজকেও নিয়ন দুপুরে বাসায় লাঞ্চ করবেন। নিজেকে টেনে তুলে সোফায় বসিয়ে কোনোরকম নিয়নকে বুঝতে না দেয়ার ভঙ্গিতে এডজাস্ট করে নিলেন। নিয়ন তাকে এক গ্লাস জল এনে দিলেন। কিন্তু তিনি তো জল চাননি। তাহলে! বরং উল্টোটা হয় সব সময়। রুহানি এবার শক্তি ফিরে পেলেন কিছুটা। আগোরার রিসিটটা সোফার ফোমের নিচে রেখে কিচেনে চলে গেলেন। 

নিয়ন অফিস শেষ করে বাসায় ফিরে আসেন বাকি দিনগুলোর মতো। রাতে রুহানি আজকের এই সব ঘটনার কিছুই বললেন না নিয়নকে। একবার ভেবেছিলেন সবকিছু জিজ্ঞাসা করবেন কিন্তু মন সায় দিলো না। যদি এসব ধারণা মিথ্যা হয় তাহলে দুজনের এই মধুর সম্পর্কে একটা ছেদ পড়ে যাবে। আবার কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করে রাতটাও বা পার করবে কী করে? 

ম্যাসেঞ্জারে যে লোকটা এতো কিছু বললেন কিন্তু নিজের নামটাই বললেন না। নিজের গার্লফ্রেন্ড মিসিং অথচ কোনো পুলিশ রিপোর্ট করেনি বা কোথাও কোনো বিজ্ঞাপনও দেয়নি নাকি উটকো একটা ঝামেলায় জড়াতে চাইছেন আমার স্বামীকে। নিয়নের চরিত্র সম্পর্কে এ পর্যন্ত খারাপ কোনো কিছু দেখেননি রুহানি। বিয়ের আগে অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক! হিসেব মেলাতে পারছেন না।

অন্য সকালের মতো নিয়ন বেরিয়ে গেলো। রুহানি ফোনটাকে খুব পাশেই রেখে কাজ সেরে নিচ্ছেন আজ। কারও কোনো কল এলো না এখনো পর্যন্ত। ম্যাকবুকটা আবার ওপেন করেন রুহানি। সেই পাসওয়ার্ড যুক্ত ফোল্ডারটাতে ক্লিক করলেন। এখন পাসওয়ার্ড দেওয়ার পালা। কিন্তু পাসওয়ার্ড কী হতে পারে। গতকাল বিভিন্ন পাসওয়ার্ড দিয়ে চেষ্টা করেছেন রুহানি কিন্তু নো রেজাল্ট। আজ সে মেয়েটির নাম দিয়ে ট্রাই করলেন কিন্তু না, কাজ হলো না। রুহানি ওয়াশরুমে যাবেন বলে উঠলেন। গত দুদিন ধরে বাসি কাপড়চোপড় পড়ে আছে বাথরুমের হ্যাঙ্গিং বারে। কমোডে বসে হঠাৎ করে ওর চোখ পড়লো টাওয়েল হ্যাঙ্গারে তার ব্রা ঝুলে আছে আর তার ট্যাগটা বেরিয়ে আছে। ট্যাগে লেখা আছে ৩৪ডি। রুহানি একলাফে বাথরুম থেকে বেরিয়ে ফোল্ডারে পাসওয়ার্ড দিলেন সুহানা৩৪ডি। ৩৪ডি নিয়নের ভীষণ প্রিয়। ফোল্ডারটা তবুও খুলল না। এবার নামের বানান শুধু এস দিয়ে লিখলেন, ব্যাস, ফোল্ডারটা খুলে গেল আর তাতে কয়েকটা ভিডিও ফাইল দেখা যাচ্ছে। প্লে বাটনে ক্লিক করতেই যা বেরিয়ে এলো তাতে রুহানির সমস্ত বিশ্বাস আর ভালোবাসা ভেঙ্গেচুরে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। চিৎকার করে কেঁদে উঠতে গিয়েও থেমে যাচ্ছেন। এবার নিজে উঠে গিয়ে গলায় জল ঢাললেন। ভিডিও যত আগাচ্ছে ততই নিয়ন আর সুহানার কামনার বীভৎস মোহ উৎসব। এক বন্য আকাঙ্ক্ষাকে চরিতার্থ করার সর্বোচ্চ বাসনাকে কাজে লাগিয়ে যেন দুজনে আত্মহারা। রুহানির এসব কল্পনার অতীত। নিয়নের সম্পর্কে এতো দিনে যা জেনেছিলেন তা একজন স্বামী হিসেবে পারফেক্ট এর বাইরে জানার কিছু প্রয়োজনও বোধ করেনি। কিন্তু আজকের এই সব ভিডিও দেখে বোঝার আর বিন্দু মাত্র অবশিষ্ট রইলো না যে উচ্ছৃঙ্খল যৌনবিলাসীতার নামে বন্য জন্তুর মতো মনুষ্য কারো আচরণ হতে পারে। 

শেষ ভিডিওটাতে রুহানি দেখতে পান সেই বিলিয়ার্ডসের উপরে সুহানাকে শুইয়ে দিয়ে এই বিশ্রী কদর্য ভঙ্গিমায় পৃথিবীর সমস্ত নোংরামিকে একজায়গায় জড়ো করেছে নিয়ন। পাশবিক অত্যাচারে যেন সুহানার সমস্ত ইচ্ছা বাসনাকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে শরীর থেকে মাংস তুলে খাওয়ার বন্দোবাস্ত করছে। এক পৈশাচিক খেলায় মেতেছেন নিয়ন। কিন্তু এ কী সুহানা চিৎকার করে থামতে অনুরোধ করছে নিয়নকে কিন্তু নিয়নের ফ্যাটিগ স্টাইলে পর্যবসিত হয়ে সুহানা প্রায় অজ্ঞান হয়ে গেল। রক্তপাতের কিছু একটা চিহ্ন দেখা মাত্র ভিডিও শেষ হয়ে গেলো। সবগুলো ভিডিও দেখলো কিন্তু শেষমেশ সুহানার সাথে কী হয় টের পাওয়া গেলো না। সুহানা আর নিয়ন তাহলে মালদ্বীপে যায়নি; তারা এ বাড়িতেই ছিলো। তারপর থেকেই সুহানা আউট অব ট্র্যাক। এটা এখন পরিষ্কার বুঝতে পারলেন রুহানি। 

রুহানি এখন অবসন্ন, বিষণ্ণতা নিয়ে ক্রোধে চিৎকার করে উঠলেন। কাকে বলবেন এসব? কার কাছে গিয়ে সাহায্য চাইবেন তিনি? বেশ কিছু সময় ধরে সোফায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে থাকতে একটা ব্যাপার মনে পড়ে গেলো। বিলিয়ার্ডসটা যে কার্পেটের উপর বসানো সেই কার্পেটের একটা জায়গায় রঙ ওঠা ছিল। দেখলে মনে হবে ব্লিস লাগিয়ে জায়গাটা পরিষ্কার করা হয়েছে। বাকি ঘরটার কার্পেটে কোথাও কোনো দাগ নেই। সুহানা একছুটে চলে যায় জিমনেসিয়ামে। মনে পড়ে নিয়ন ওকেও একদিন এই বিলিয়ার্ডের উপর শুইয়েছিলো। মনে পড়তেই ঘৃণা আর যন্ত্রণা কুঁকড়ে দেয় রুহানিকে। আস্তে আস্তে বিলিয়ার্ডের চারিপাশ ঘুরে ঘুরে দেখে। কিন্তু তেমন কিছুই পাওয়া যায় না। তবে কি সুহানাকে অন্য হাসাপাতাল বা ক্লিনিকে নিয়ে গিয়েছিল নিয়ন? নিজেকে প্রশ্ন করে। মনটা অন্যদিকে মোড় নিতে চায় তবু রুহানি টলেন না। কার্পেটের যেখানে রঙ চটে গেছে সেখানে খুব ভালো করে নজর লাগান। মাথা নিচু করে কার্পেটের জায়গাটা দেখতে গিয়ে দৃষ্টি চলে যায় বিলিয়ার্ডসের নিচের খোলের দিকে। টেবিলের পেটটা অতিরিক্ত মোটা দেখাচ্ছে। বিলিয়ার্ডের পেটের সাইজটা এতোটাই অস্বাভাবিক দেখে মনে হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে বানানো।  
বোঝা যাচ্ছে অতিরিক্ত কিছু পেরেক লাগিয়ে খুব জোর করে তক্তাটাকে চেপে দেয়া হয়েছে। রুহানি হাত দিয়ে তক্তাটাকে একটু ভেতরে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করেন। তাতে কোনো কাজ হয় না। মাথাটা আরেকটু টেবিলের কাছে নিতেই রক্তের একটা কালো দাগ দেখতে পান। কিছুটা ধুলোবালিতে জড়িয়ে আছে জায়গাটা। রুহানি এখন কী করবে বুঝে উঠতে পারেন না। টুল বক্স থেকে আনা একটা হাতুড়ির অন্যপাশ দিয়ে বাড়ি দিতেই কিছুটা গর্ত হয়ে যায় এবং বিকট গন্ধ বেরোনো শুরু করে। রুহানি চিৎকার করে বেরিয়ে আসেন ঘর থেকে। ট্রিপল নাইনে কল করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান মেঝেতে। যখন জ্ঞান ফেরে তখন রুহানি টের পান তিনি তার মায়ের কোলে শুয়ে আছেন। 


    

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow