সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার আগে ভাবুন—এটা কি গুজব?

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ২৫ এপ্রিল ২০২৬। সকালবেলা মতিন রহমান মোবাইলে চোখ রাখতেই আতকে উঠলেন। ফেসবুকে সবাই শেয়ার করছেন, দেশে নাকি উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে সবাইকে বাসায় থাকতে বলা হচ্ছে। তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। তাপমাত্রার কারণে মোবাইল ফেটে যেতে পারে, গাড়ির ফুয়েল ট্যাংক বাস্ট হতে পারে—সে জন্য ফুল ট্যাংকি তেল ভরতে মানা করা হচ্ছে। আর শেষে বলা হচ্ছে, এটা ‌‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’র বার্তা। কী ভয়ানক ব্যাপার! মতিন সাহেব কোনো রকম হাত-মুখ ধুয়ে পরিচিত যত মানুষ আছে, সবাইকে মেসেজটি দিলেন। তারা আবার তাদের পরিচিতজনদের দিলেন। মোটামুটি একটা বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো। যারা মেসেজটি যাচাই না করেই ছড়ালেন, তারা সবাই শিক্ষিত লোক। মানুষের ভালো করার উদ্দেশ্যে খারাপ করে ফেললেন। এখন আসা যাক, মেসেজটি যে ভুয়া—তা বোঝার কিছু উপায় আছে। এটা বুঝতে পারলে আপনি সতর্ক হবেন এবং ভবিষ্যতে ভুয়া মেসেজ দেখলে সহজে বুঝতে পারবেন। প্রথমত, যে তাপমাত্রার কথা বলা হচ্ছে তা অবাস্তব। কোনো স্বীকৃত আবহাওয়া দপ্তর (যেমন- আইএমডি) কখনোই এ ধরনের সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেয় না যে, তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি স

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার আগে ভাবুন—এটা কি গুজব?

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

২৫ এপ্রিল ২০২৬। সকালবেলা মতিন রহমান মোবাইলে চোখ রাখতেই আতকে উঠলেন। ফেসবুকে সবাই শেয়ার করছেন, দেশে নাকি উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে সবাইকে বাসায় থাকতে বলা হচ্ছে। তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। তাপমাত্রার কারণে মোবাইল ফেটে যেতে পারে, গাড়ির ফুয়েল ট্যাংক বাস্ট হতে পারে—সে জন্য ফুল ট্যাংকি তেল ভরতে মানা করা হচ্ছে। আর শেষে বলা হচ্ছে, এটা ‌‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’র বার্তা।

কী ভয়ানক ব্যাপার! মতিন সাহেব কোনো রকম হাত-মুখ ধুয়ে পরিচিত যত মানুষ আছে, সবাইকে মেসেজটি দিলেন। তারা আবার তাদের পরিচিতজনদের দিলেন। মোটামুটি একটা বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো। যারা মেসেজটি যাচাই না করেই ছড়ালেন, তারা সবাই শিক্ষিত লোক। মানুষের ভালো করার উদ্দেশ্যে খারাপ করে ফেললেন।

এখন আসা যাক, মেসেজটি যে ভুয়া—তা বোঝার কিছু উপায় আছে। এটা বুঝতে পারলে আপনি সতর্ক হবেন এবং ভবিষ্যতে ভুয়া মেসেজ দেখলে সহজে বুঝতে পারবেন।

প্রথমত, যে তাপমাত্রার কথা বলা হচ্ছে তা অবাস্তব। কোনো স্বীকৃত আবহাওয়া দপ্তর (যেমন- আইএমডি) কখনোই এ ধরনের সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেয় না যে, তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠবে। সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ায় ৪২-৪৭ ডিগ্রি হওয়াকেই চরম দাবদাহ ধরা হয়। সাম্প্রতিক রিপোর্টে বাংলাদেশের তাপমাত্রা অনেক কম (৩৭-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেঞ্জে)। রোদে মোবাইল ব্যবহার করলে ফোন গরম হতে পারে, কিন্তু শুধু তাপমাত্রার কারণে পকেটে বা হাতে থাকা মোবাইল বোমা বা বাজির মতো ফেটে যাবে—এমন দাবি ভিত্তিহীন।

মেসেজটির সূত্রও ঠিক নেই। ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’ লেখা থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা শহরের নাম নেই। এটি একটি বৈশ্বিক ‘চেইন মেসেজ’, যা বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়। আর এ ধরনের মেসেজ নতুন নয়—একই লেখা ২০১৯, ২০২২, ২০২৩ সালেও এপ্রিল-মে মাসে ভাইরাল হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে কিছু দেখলেই তা ছড়িয়ে দেওয়া যাবে না। আগে দেখুন গ্রহণযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে বিষয়টা এসেছে কি না। আপনি চাইলে জেমিনি, চ্যাটজিপিটি, ক্লোড এআই-এর কাছ থেকে এক মিনিটে আসল সত্য জেনে নিতে পারেন। এ জন্য কোনো টাকা খরচ করতে হবে না।

অতিরিক্ত গরমে ভালো থাকতে হলে দিনের সবচেয়ে গরম সময় (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা) বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পানি ও তরল পানীয় যেমন- খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, দই বা ঘোল বেশি করে খান। হালকা সুতির ঢিলেঢালা কাপড় পরুন এবং রোদে গেলে মাথায় ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন। ঘর ঠান্ডা রাখতে জানালা খুলে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন বা ফ্যান বা এসি ব্যবহার করুন। ভারী ও তেলযুক্ত খাবার কম খান এবং ফলমূল বেশি খান, শরীর খুব ক্লান্ত লাগলে বা মাথা ঘোরা, বমি ভাব হলে দ্রুত ছায়ায় বা ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিন। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন—এগুলো মেনে চললে গরমে সুস্থ থাকা সহজ হবে।

তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অন্য সব দায়িত্বের মতো আপনার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব না ছড়ানো। বরং কেউ গুজব ছড়ালে তাকে ভুল ধরিয়ে দেওয়া।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow