সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জায়গা দখল করে গড়ে তোলা কথিত মসজিদ উচ্ছেদ
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা কথিত একটি মসজিদ উচ্ছেদ করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিচালিত এ অভিযানে নামাজের জন্য টানানো ত্রিপাল খুলে ফেলা হয়। সেই সঙ্গে জব্দ করা হয় জায়নামাজসহ ধর্মীয় বইপত্র। পাশাপাশি স্থাপনাটির চৌহদ্দি তৈরিতে ব্যবহৃত ইটও বুলডোজারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযানকালে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি। এসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারি জায়গা দখল করে এই কথিত মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। জাগো নিউজেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মসজিদ তৈরিতে ব্যবহৃত ত্রিপাল খুলে নেওয়া হচ্ছে/ছবি: জাগো নিউজ অভিযোগ রয়েছে, রাজিব শাহ নামের এক গৃহহীন, ভবঘুরে ও হতদরিদ্র ব্যক্তি প্রথমে উদ্যানের ওই স্থানে ধান চাষ করেন। পরে কলাগাছ, ঢ্যাঁড়শ ও গাঁদাসহ বিভিন্ন ফুলের চারা রোপণ করেন। পরবর্তী সময়ে নামাজ আদায়ের নামে প্রথমে একটি-দুটি জায়নামাজ বিছি
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা কথিত একটি মসজিদ উচ্ছেদ করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিচালিত এ অভিযানে নামাজের জন্য টানানো ত্রিপাল খুলে ফেলা হয়। সেই সঙ্গে জব্দ করা হয় জায়নামাজসহ ধর্মীয় বইপত্র। পাশাপাশি স্থাপনাটির চৌহদ্দি তৈরিতে ব্যবহৃত ইটও বুলডোজারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযানকালে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি। এসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারি জায়গা দখল করে এই কথিত মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। জাগো নিউজেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
মসজিদ তৈরিতে ব্যবহৃত ত্রিপাল খুলে নেওয়া হচ্ছে/ছবি: জাগো নিউজ
অভিযোগ রয়েছে, রাজিব শাহ নামের এক গৃহহীন, ভবঘুরে ও হতদরিদ্র ব্যক্তি প্রথমে উদ্যানের ওই স্থানে ধান চাষ করেন। পরে কলাগাছ, ঢ্যাঁড়শ ও গাঁদাসহ বিভিন্ন ফুলের চারা রোপণ করেন। পরবর্তী সময়ে নামাজ আদায়ের নামে প্রথমে একটি-দুটি জায়নামাজ বিছিয়ে মুসল্লিদের জন্য স্থান তৈরি করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে সেখানে কথিত মসজিদটি গড়ে তোলা হয়। একপর্যায়ে নিয়মিত ওয়াক্তের আজান এবং ইমামের মাধ্যমে জামাতে নামাজ আদায়েরও ব্যবস্থা করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরে উদ্যানে নাট্যশালা নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত ইট এনে কথিত মসজিদটির চারপাশে চৌহদ্দি নির্মাণ করা হয়।
ঘটনাটি অনেকের কাছে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী উপন্যাস লালসালুর মজিদ চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে রাজিব শাহ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, উদ্যানে আগত মুসল্লিদের সাময়িকভাবে নামাজ আদায়ের সুবিধা করে দিতেই এ স্থান তৈরি করা হয়েছে। এর পেছনে সরকারি জমি দখল বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
রোববারের উচ্ছেদ অভিযানের সময় রাজিব শাহ কিংবা তার অনুসারীদের কাউকেই ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে স্থায়ীভাবে নামাজ আদায়ের কোনো স্থান না থাকলেও অদূরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং তিন নেতার মাজারসংলগ্ন মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
এমইউ/একিউএফ
What's Your Reaction?