সোহরাওয়ার্দী কলেজে অফিস সহকারীর ভর্তি বাণিজ্য

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে টিসি (স্থানান্তর) নিয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কলেজের অফিস সহায়ক ইব্রাহীম মৃধার বিরুদ্ধে। সরকারি ফি কয়েক হাজার টাকা হলেও ভর্তি নিশ্চিতের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, খিলগাঁও গভর্নমেন্ট কলোনি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) থেকে টিসি নিয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগে ভর্তি হন রাসেল ও জান্নাতুল রিয়া। ভর্তি ফরমে ফি বাবদ ২ হাজার ৭০০ টাকা উল্লেখ থাকলেও, তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ১০ হাজার ও ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। ভুক্তভোগী মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, ‘আমার বাবা একজন কৃষক। ছোটোবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ঢাকায় একটি সরকারি কলেজে পড়ব। পরে জানতে পারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে আসন খালি আছে। ভর্তি হতে গেলে ইব্রাহীম মৃধা আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেয়। টাকা না দিলে অন্য কাউকে সিট দিয়ে দেওয়ার কথাও বলে। পরে ভর্তি ফরমে দেখি সরকারি ফি মাত্র ২ হাজার ৭০০ টাকা।’ একই ধরনের অভিযোগ করেন ওই কলেজ থ

সোহরাওয়ার্দী কলেজে অফিস সহকারীর ভর্তি বাণিজ্য

সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে টিসি (স্থানান্তর) নিয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কলেজের অফিস সহায়ক ইব্রাহীম মৃধার বিরুদ্ধে।

সরকারি ফি কয়েক হাজার টাকা হলেও ভর্তি নিশ্চিতের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, খিলগাঁও গভর্নমেন্ট কলোনি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কুল অ্যান্ড কলেজ) থেকে টিসি নিয়ে সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগে ভর্তি হন রাসেল ও জান্নাতুল রিয়া। ভর্তি ফরমে ফি বাবদ ২ হাজার ৭০০ টাকা উল্লেখ থাকলেও, তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ১০ হাজার ও ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

ভুক্তভোগী মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, ‘আমার বাবা একজন কৃষক। ছোটোবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ঢাকায় একটি সরকারি কলেজে পড়ব। পরে জানতে পারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে আসন খালি আছে। ভর্তি হতে গেলে ইব্রাহীম মৃধা আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেয়। টাকা না দিলে অন্য কাউকে সিট দিয়ে দেওয়ার কথাও বলে। পরে ভর্তি ফরমে দেখি সরকারি ফি মাত্র ২ হাজার ৭০০ টাকা।’

একই ধরনের অভিযোগ করেন ওই কলেজ থেকে আসা আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল রিয়া। 

তিনি বলেন, ‘কলেজ পরিবর্তনের জন্য খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে সিট খালি আছে। ভর্তি হতে আসলে ইব্রাহীম মৃধা প্রথমে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। পরে অনেক অনুরোধের পর ৭ হাজার টাকায় রাজি হয়। তখন বলা হয় বিষয়টি কাউকে না জানাতে, কারণ অন্যদের কাছ থেকে নাকি আরও বেশি নেওয়া হয়।’

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহীম মৃধা মাস্টার রোলভুক্ত কর্মচারী। বিভিন্ন সময়ে কলেজ ছাত্র সংসদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, লাইব্রেরি, ঘণ্টা বাদক, ব্যবস্থাপনা বিভাগসহ একাধিক দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে কলেজ অফিসার্স কাউন্সিলে দায়িত্বে রয়েছেন।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইব্রাহীম মৃধা। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমার কাছে এলে আমি শুধু ভর্তির বিষয়ে সহযোগিতা করি। আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি। তবে এখানে চতুর্থ কোনো ব্যক্তির হাত থাকতে পারে। এমন হতে পারে, কোনো শিক্ষার্থী একজনের কাছে গেছে, সে তাকে আমার কাছে পাঠিয়েছে। আমি কাজ করে দিয়েছি, বিনিময়ে ২০০ বা ৫০০ টাকা পেয়েছি। কিন্তু সে কত টাকা নিয়েছে, সেটা আমি জানি না। তবে যদি কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি প্রমাণসহ বলে আমি টাকা নিয়েছি, তাহলে আমি তাদের টাকা ফিরিয়ে দেব।’

যদিও সেই ‘চতুর্থ ব্যক্তি’র নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। তবে প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ সত্য হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। কোনো অনিয়মের শিকার হলে সরাসরি প্রশাসনকে জানানো উচিত। এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদেরও সতর্ক থাকা উচিত।’

অভিযোগের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow