স্কুল থেকে অপহৃত ৭ বছরের শিশু পুলিশের অভিযানে উদ্ধার
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় স্কুল থেকে কৌশলে অপহৃত সাত বছরের এক শিশুকে ৪৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে জীবিত উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। একই অভিযানে অপহরণচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী শিশুটির বাবার আপন মামাতো ভাই বলে জানিয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশ জানায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। ছুটি শেষে দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ভিকটিমের এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজিচালক পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে বলে, ‘তোমার বাবা হাসপাতালে অসুস্থ, তোমাকে তার কাছে নিয়ে যেতে এসেছি।’ বাবার অসুস্থতার কথা শুনে সরল বিশ্বাসে শিশুটি সিএনজিতে উঠে পড়ে। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় রাঙ্গুনিয়
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় স্কুল থেকে কৌশলে অপহৃত সাত বছরের এক শিশুকে ৪৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে জীবিত উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। একই অভিযানে অপহরণচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী শিশুটির বাবার আপন মামাতো ভাই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ জানায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। ছুটি শেষে দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে ভিকটিমের এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজিচালক পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে বলে, ‘তোমার বাবা হাসপাতালে অসুস্থ, তোমাকে তার কাছে নিয়ে যেতে এসেছি।’ বাবার অসুস্থতার কথা শুনে সরল বিশ্বাসে শিশুটি সিএনজিতে উঠে পড়ে। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ মিলছিল না।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দিন-রাত অভিযান চালিয়ে রাকিব (২২), ফয়সাল (৩২) ও জাহাঙ্গীর আলমকে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহৃত শিশুটিকে জীবিত ও সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল শিশুটির বাবার আপন মামাতো ভাই। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সে শিশুটিকে অপহরণ করে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে। এ কাজে পরিচিত দুই সিএনজি চালককে অর্থের ভাগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে যুক্ত করা হয়। কীভাবে মুক্তিপণ আদায় করা হবে, কোথায় শিশুটিকে রাখা হবে এবং কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়া হবে- সবকিছুই আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, শিশুটি নার্সারির শিক্ষার্থী। অপহরণকারীরা তার সরলতার সুযোগ নিয়েছে। তারা তাকে বলে, ‘তোমার বাবা হাসপাতালে ভর্তি, তোমাকে তার কাছে নিয়ে যেতে এসেছি।’ ছোট্ট শিশুটি বিষয়টি বুঝতে না পেরে তাদের সঙ্গে চলে যায়। তদন্তে আমরা জানতে পারি, পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল শিশুটির বাবার আপন মামাতো ভাই। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে সে পরিচিত সিএনজি চালকদেরও পরিকল্পনায় যুক্ত করে। কার কাছ থেকে কীভাবে টাকা আদায় করবে, কোথায় শিশুটিকে রাখা হবে- সবকিছু আগেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখা ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে টানা অভিযান চালানো হয়। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ শিশুটির নিরাপত্তাই ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আল্লাহর রহমতে এবং পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা শিশুটিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এটি শুধু একটি উদ্ধার অভিযান নয়, শিশু অপহরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় জেলা পুলিশের দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ ও পেশাদারিত্বের একটি সফল উদাহরণ।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশু অপহরণসহ যে কোনো গুরুতর অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
What's Your Reaction?