স্কুলের বেস্ট ফ্রেন্ড কি এখন শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধু

আমাদের জীবন যেন আজ একটি ৭-৭ ইঞ্চির ফোনের স্ক্রিনে আটকে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা, ছবি-ভিডিও আপলোড করা আর রিলসে মুখ গুছে থাকাই যেন এখন রুটিন। সবাই ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত আছেন স্কুলের সেই বন্ধুরা, হয়তো তাদের পোস্টে রিয়্যাক্ট করছেন, কিন্তু কথা হয়েছে ক’দিন একটু মনে করে দেখুন তো। স্কুলজীবনের কথা মনে পড়লে অনেকের চোখে ভেসে ওঠে একটি পরিচিত মুখ। একই বেঞ্চে বসা, টিফিন ভাগাভাগি করা, পরীক্ষার আগের রাতে ফোনে পড়া নিয়ে আলোচনা, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে মাঠে আড্ডা কিংবা বৃষ্টিতে একসঙ্গে ভিজে বাড়ি ফেরা এসব স্মৃতির বড় একটি অংশজুড়েই থাকে সেই ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’। একসময় যে মানুষটিকে ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করা যেত না, আজ তিনি হয়তো আছেন শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার ফ্রেন্ডলিস্টে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি চোখে পড়ে। নতুন চাকরি, বিয়ে, সন্তানের জন্ম কিংবা কোনো ভ্রমণের ছবি দেখে হয়তো একটি লাইক দেওয়া হয়, কখনো ছোট্ট একটি অভিনন্দনও জানানো হয়। কিন্তু শেষ কবে দুজন মন খুলে গল্প করেছেন, সেটি অনেকেরই মনে পড়ে না। আরও পড়ুন শেয়ার করা ক্লদ চ্যাট গুগল সার্চে, ফাঁস হলো ব্যক্তিগত

স্কুলের বেস্ট ফ্রেন্ড কি এখন শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধু

আমাদের জীবন যেন আজ একটি ৭-৭ ইঞ্চির ফোনের স্ক্রিনে আটকে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা, ছবি-ভিডিও আপলোড করা আর রিলসে মুখ গুছে থাকাই যেন এখন রুটিন। সবাই ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত আছেন স্কুলের সেই বন্ধুরা, হয়তো তাদের পোস্টে রিয়্যাক্ট করছেন, কিন্তু কথা হয়েছে ক’দিন একটু মনে করে দেখুন তো।

স্কুলজীবনের কথা মনে পড়লে অনেকের চোখে ভেসে ওঠে একটি পরিচিত মুখ। একই বেঞ্চে বসা, টিফিন ভাগাভাগি করা, পরীক্ষার আগের রাতে ফোনে পড়া নিয়ে আলোচনা, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে মাঠে আড্ডা কিংবা বৃষ্টিতে একসঙ্গে ভিজে বাড়ি ফেরা এসব স্মৃতির বড় একটি অংশজুড়েই থাকে সেই ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’। একসময় যে মানুষটিকে ছাড়া একটি দিনও কল্পনা করা যেত না, আজ তিনি হয়তো আছেন শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার ফ্রেন্ডলিস্টে।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি চোখে পড়ে। নতুন চাকরি, বিয়ে, সন্তানের জন্ম কিংবা কোনো ভ্রমণের ছবি দেখে হয়তো একটি লাইক দেওয়া হয়, কখনো ছোট্ট একটি অভিনন্দনও জানানো হয়। কিন্তু শেষ কবে দুজন মন খুলে গল্প করেছেন, সেটি অনেকেরই মনে পড়ে না।

প্রযুক্তি আমাদের যোগাযোগকে সহজ করেছে, কিন্তু সব সময় সম্পর্ককে গভীর করতে পারেনি। আগে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা না হলে অস্থির লাগত। এখন দিনের পর দিন কথা না হলেও অনেকেই ধরে নেন, ফেসবুকে তো আছেই যোগাযোগ আছে। অথচ একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকা আর সত্যিকারের যোগাযোগ বজায় রাখা এক বিষয় নয়।

জীবনের ব্যস্ততাও এই দূরত্বের একটি বড় কারণ। স্কুল শেষ হওয়ার পর কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, চাকরি, সংসার-প্রত্যেকেই নিজের মতো করে নতুন জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। নতুন মানুষ, নতুন দায়িত্ব আর নতুন পরিবেশের ভিড়ে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ ধীরে ধীরে কমে যায়। একসময় যে বন্ধুর সঙ্গে প্রতিদিন শত গল্প হতো, এখন হয়তো বছরে একবার জন্মদিনের শুভেচ্ছা বিনিময়েই সম্পর্ক সীমাবদ্ধ থাকে।

তবু মজার বিষয় হলো, বহু বছর পর হঠাৎ কোনো পুনর্মিলনী বা স্কুলের বন্ধুদের আড্ডায় দেখা হলে সেই পুরোনো বন্ধুত্ব যেন আবার ফিরে আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মনে হয়, সময় যেন কোথাও থেমে ছিল। কারণ সত্যিকারের বন্ধুত্বের ভিত্তি শুধু নিয়মিত কথা বলা নয়, বরং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, বিশ্বাস আর স্মৃতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের বন্ধুদের হারিয়ে যেতে দেয় না, কিন্তু সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব এখনো মানুষেরই। শুধু লাইক বা রিঅ্যাকশনে বন্ধুত্ব টিকে থাকে না। মাঝেমধ্যে একটি ফোনকল, একটি খোঁজ নেওয়ার বার্তা কিংবা হঠাৎ দেখা করার পরিকল্পনা সম্পর্ককে আবার প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।

বন্ধু দিবসে তাই শুধু রঙিন পোস্ট বা পুরোনো ছবি শেয়ার করাই যথেষ্ট নয়। বরং বহুদিন কথা হয়নি এমন স্কুলের সেই বন্ধুকে একটি ফোন করুন। হয়তো বলুন, ‘কেমন আছিস?’ এই দুটি শব্দই অনেক বছরের দূরত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কগুলোর একটি হলো স্কুলের বন্ধুত্ব। সময়, দূরত্ব আর ব্যস্ততা সেই সম্পর্ককে আড়াল করতে পারে, কিন্তু মুছে দিতে পারে না। তাই ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা সেই পরিচিত নামটি যেন শুধু একটি প্রোফাইল হয়ে না থাকে। কারণ কিছু বন্ধুত্বের মূল্য কোনো অ্যালগরিদমে মাপা যায় না; তা টিকে থাকে স্মৃতিতে, বিশ্বাসে এবং একে অপরের খোঁজ নেওয়ার ছোট ছোট আন্তরিকতায়।

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow