স্ত্রী ও বান্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটানোর কারণেই হেরেছে জার্মানি!

বিশ্বকাপে জার্মানির বিদায়ে এখনো সরগরম জার্মান ফুটবল। এবার নতুন করে জার্মান ফুটবলারদের সমালোচনায় মুখর সাবেক জার্মান ফুটবলার লোথার ম্যাথিউস। সাবেক জার্মান অধিনায়ক লোথার ম্যাথাউসের দাবি, খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও বান্ধবীদের (ওয়াগস) ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধই জার্মানির বিশ্বকাপ হতে বিদায়ের অন্যতম কারণ। শেষ ষোলোর (রাউন্ড অব-৩২) ম্যাচে বোস্টনে নির্ধারিত সময়ে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় জার্মানি। ১৯৯০ সালে জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক ম্যাথিউস এই পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নিজের অভিজ্ঞতার তুলনা করেন। জার্মান দৈনিক বিল্ড-এর কলামিস্ট ম্যাথিউস বলেন, ১৯৯৪ সালে খেলোয়াড়রা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে পরিবারকে সঙ্গে রাখার বিষয়টি নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে, সেটি দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তার মতে, সেই কারণেই বুলগেরিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানি হেরে যায়। তিনি দাবি করেন, এবারও জার্মান শিবিরে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ

স্ত্রী ও বান্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটানোর কারণেই হেরেছে জার্মানি!

বিশ্বকাপে জার্মানির বিদায়ে এখনো সরগরম জার্মান ফুটবল। এবার নতুন করে জার্মান ফুটবলারদের সমালোচনায় মুখর সাবেক জার্মান ফুটবলার লোথার ম্যাথিউস। সাবেক জার্মান অধিনায়ক লোথার ম্যাথাউসের দাবি, খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও বান্ধবীদের (ওয়াগস) ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধই জার্মানির বিশ্বকাপ হতে বিদায়ের অন্যতম কারণ।

শেষ ষোলোর (রাউন্ড অব-৩২) ম্যাচে বোস্টনে নির্ধারিত সময়ে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় জার্মানি। ১৯৯০ সালে জার্মানিকে বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক ম্যাথিউস এই পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নিজের অভিজ্ঞতার তুলনা করেন।

জার্মান দৈনিক বিল্ড-এর কলামিস্ট ম্যাথিউস বলেন, ১৯৯৪ সালে খেলোয়াড়রা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে পরিবারকে সঙ্গে রাখার বিষয়টি নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে, সেটি দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তার মতে, সেই কারণেই বুলগেরিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানি হেরে যায়।

তিনি দাবি করেন, এবারও জার্মান শিবিরে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দেয়।

ম্যাথিউস বলেন, ‘১৯৯৪ সালের এই বিষয়টি নিয়ে ডকুমেন্টারিও তৈরি হয়েছিল। আমার মনে হয় না এবার পরিস্থিতি খুব একটা ভিন্ন ছিল। মাঠের ভেতর-বাইরে অনেক কিছু সামলাতে হয়েছে। স্ত্রী, পরিবার- সবাই জড়িয়ে পড়েছিল। এ নিয়ে অসংখ্য আলোচনা হয়েছে।’

‘আমি বুঝি না, শুরু থেকেই কেন সব পরিবারের সদস্যদের টুর্নামেন্টে নিয়ে আসতে হবে। তারপর শুরু হয় ভ্রমণের ব্যবস্থা, হোটেল বুকিং- এসব নিয়ে আলোচনা। বিষয়গুলো সংবাদমাধ্যমে আসেনি, কিন্তু আমি জানি এগুলো দলের আলোচনার বিষয় ছিল। একজন খেলোয়াড় আরেকজনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল, কারণ কারও মাকে দলের ব্যবস্থাপনায় আনা হয়েছে, আবার কারও স্ত্রী-সন্তানও একই সুবিধা পেয়েছে। অথচ অন্যদের পরিবারকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে আসতে হয়েছে।’

যদিও তিনি সংশ্লিষ্ট কোনো খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ করেননি, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে পরিবারের সদস্যদের ব্যবস্থাপনা নতুনভাবে ভাবার আহ্বান জানান।

তার মতে, দল যদি ভালো ফল করে কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন জাতীয় দলের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসা উচিত। তার আগে নয়।

ম্যাথিউস বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত দলের মধ্যে অনেক অস্থিরতা ছিল, যা বাইরে থেকে বোঝা যায়নি। এই বিশ্বকাপে মূল মনোযোগটাই ছিল না ফুটবলে। একের পর এক যেন 'ফ্যামিলি ডে' চলছিল। দল যুক্তরাষ্ট্রে দুই সপ্তাহও থাকেনি, এর মধ্যেই পরিবারের সবাই চলে এসেছে। দল যদি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে, তখন তারা আসতেই পারে।’

এর আগে টুর্নামেন্ট চলাকালেই ম্যাথিউস মন্তব্য করেছিলেন, হুলিয়ান নাগেলসমানের বান্ধবীর দলের সঙ্গে নিয়মিত উপস্থিতি মোটেও আদর্শ ছিল না।
বিল্ড-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৪ বছর বয়সী লেনা ভুরৎসেনবার্গার দলের ক্যাম্পে নিয়মিত উপস্থিত থাকায় বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়।

জার্মানির প্রাক-টুর্নামেন্ট ক্যাম্পে ফ্রাঙ্কফুর্টে তাকে প্রথম দেখা যায়। পরে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ ব্যবধানে জয়ের পর বদলি খেলোয়াড়দের অনুশীলনও তিনি মাঠে বসে দেখেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি নাগেলসমানের সঙ্গে দলীয় হোটেলে ফিরে যান এবং পরদিন সকালে দুজনকে একসঙ্গে সাইকেল চালিয়ে অনুশীলনে যেতে দেখা যায়।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে মন্তব্য করা হয়, "কোচের বান্ধবী যদি সবসময় আশপাশে থাকেন, তাহলে খেলোয়াড়রা কোচ সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করতে স্বস্তি বোধ নাও করতে পারেন।"

ম্যাথিউস তখন বলেছিলেন,‘আমার মতে, লেনাকে বারবার ছবিতে দেখা যাওয়াটা আদর্শ ছিল না। খেলোয়াড়দের ছুটির দিনে তাদের স্ত্রী বা বান্ধবীরা হোটেলে এলে সেটা স্বাভাবিক। লেনাও সেভাবেই এসেছিলেন। কিন্তু কোচের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। কোচের ব্যক্তিগত সময় আর খেলোয়াড়দের পারিবারিক সময় আলাদা হওয়াই ভালো।’

জানা যায়, ২০২২ সালে স্ত্রী ভেরেনার সঙ্গে ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার পরপরই নাগেলসমান ও লেনা ভুরৎসেনবার্গারের সম্পর্ক শুরু হয়। সে সময় নাগেলসমান ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের কোচ এবং লেনা বিল্ড-এর হয়ে ক্লাবটি কভার করতেন।

বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির বিদায়ের পর নাগেলসমান সমালোচনার মুখে পড়লেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জার্মানির প্রধান কোচের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করবেন না।

আরআর/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow