স্পেনে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল: নড়েচড়ে বসছে ইইউ
মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সিউতায় (Ceuta) কয়েক দিনের ব্যবধানে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রবেশের ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর প্রতি সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইইউর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। স্পেনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সিউতায় প্রবেশ করা প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী এরইমধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। এদিকে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে স্পেনের অংশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। মরক্কোর অংশে আরও ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জরুরি বৈঠকে ইইউ এই পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি বৈঠক করবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে পাঠানো এক চিঠিতে উরসুলা ভন ডার লিয়েন সংকট মোকাবিলায় স্পেন সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তবে তিনি বলেন, সিউতার ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তগু
মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সিউতায় (Ceuta) কয়েক দিনের ব্যবধানে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রবেশের ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর প্রতি সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইইউর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
স্পেনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সিউতায় প্রবেশ করা প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী এরইমধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন।
এদিকে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে স্পেনের অংশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। মরক্কোর অংশে আরও ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
জরুরি বৈঠকে ইইউ
এই পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জরুরি বৈঠক করবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে পাঠানো এক চিঠিতে উরসুলা ভন ডার লিয়েন সংকট মোকাবিলায় স্পেন সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
তবে তিনি বলেন, সিউতার ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তগুলোতে আমাদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে হবে। এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
শেনজেন ইস্যুতে উত্তেজনা
সিউতার ঘটনার জেরে ইউরোপের কয়েকটি দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন ব্যবস্থার সুবিধা স্থগিত করেছে। পরে ইতালির এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক।
অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশ সাময়িকভাবে স্পেনের শেনজেন সদস্যপদ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শেনজেন চুক্তির আওতায় ইউরোপের ২৯টি দেশের প্রায় ৪৫ কোটির বেশি মানুষ সীমান্তে পাসপোর্ট পরীক্ষা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা পান।
স্পেনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
এসব সমালোচনার জবাবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ইউরোপের কিছু দেশের অবস্থান তাকে হতাশ করেছে।
তিনি বলেন, সিউতা শেনজেন অঞ্চলের অংশ নয়। বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ আমাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। তবে কিছু সরকার পক্ষপাত, ভুয়া তথ্য, অজ্ঞতা কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে স্পেনের সমালোচনা করছে।
সাম্প্রতিক এই অভিবাসী সংকট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন নীতি এবং সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএসএম
What's Your Reaction?