ঢাবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি, ১১ সদস্যের পদত্যাগে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ১০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষক সমিতির দেওয়া একটি বিবৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কার্যনির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্যের পদত্যাগের পর মাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হলেও, সভাপতির পূর্ণ সম্মতি ছাড়াই সাধারণ সম্পাদক ওই বিবৃতি প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বর্তমান শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর। তবে গঠনতন্ত্রের ৬-এর (খ) উপধারার ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, উত্তরসূরী নতুন কার্যকর পরিষদ গঠিত হবার পূর্ব পর্যন্ত চলতি পরিষদ কাজ চালিয়ে যাবে।
সেই বিধান অনুযায়ী বিদায়ী কমিটি দায়িত্বে থাকলেও, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ১৫ সদস্যের কমিটির সহসভাপতি, কোষাধ্যক্ষ, যুগ্ম সম্পাদকসহ মোট ১১ জন সদস্য সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে একজন সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন, একজন মারা গেছেন এবং আরেকজন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। ফলে বর্তমানে কার্যত স
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ১০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষক সমিতির দেওয়া একটি বিবৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কার্যনির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্যের পদত্যাগের পর মাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হলেও, সভাপতির পূর্ণ সম্মতি ছাড়াই সাধারণ সম্পাদক ওই বিবৃতি প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বর্তমান শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর। তবে গঠনতন্ত্রের ৬-এর (খ) উপধারার ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, উত্তরসূরী নতুন কার্যকর পরিষদ গঠিত হবার পূর্ব পর্যন্ত চলতি পরিষদ কাজ চালিয়ে যাবে।
সেই বিধান অনুযায়ী বিদায়ী কমিটি দায়িত্বে থাকলেও, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ১৫ সদস্যের কমিটির সহসভাপতি, কোষাধ্যক্ষ, যুগ্ম সম্পাদকসহ মোট ১১ জন সদস্য সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে একজন সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন, একজন মারা গেছেন এবং আরেকজন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। ফলে বর্তমানে কার্যত সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে নিয়েই শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম চলছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) ১০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষক সমিতির নামে যে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, সেটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া। বিবৃতিটি তার পূর্ণ সম্মতি ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘সাধারণত শিক্ষক সমিতির বিবৃতি সাধারণ সম্পাদকই প্রকাশ করেন এবং ডিজিটাল স্বাক্ষরও তার কাছেই থাকে। তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিবৃতি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। আমি তাকে কিছুটা সময় নিতে বলেছিলাম। কিন্তু এরপরও তিনি এগিয়ে গিয়ে বিবৃতিটি প্রকাশ করেন।’
বর্তমান শিক্ষক সমিতির কার্যক্রমের বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সভাপতি। তার ভাষায়, ‘সমিতির কার্যত কোনো সদস্য নেই। শুধু সভাপতি ও সম্পাদক মিলে একটি শিক্ষক সমিতি হতে পারে না। গত দুই বছর ধরে আমরা সমিতির কার্যালয়েও যাইনি। একটি শিক্ষক সমিতি এভাবে চলতে পারে না।’
অন্যদিকে, এ বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে মতবিরোধ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। তিনি বলেন, এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’
তবে দুই সদস্য নিয়ে কমিটি পরিচালনার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার ভাষ্য, গঠনতন্ত্রে কোথাও বলা নেই যে মাত্র দুজন সদস্য থাকলে সমিতি পরিচালনা করা যাবে না।
নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন আয়োজনের জন্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুন ও ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় একজন অধ্যাপককে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত এবং ছয়জনকে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ মোট ১০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ-১৯৭৩ অনুযায়ী পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্যানুসন্ধান কমিটি ও ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত সাদা দল অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নীল দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবকটি পদে নির্বাচিত হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী কমিটিই দায়িত্ব পালন করে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে শিক্ষক সমিতির নতুন কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনবিহীন অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে বিদায়ী কমিটি, যার অধিকাংশ সদস্যের পদত্যাগের পর বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক বৈধতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।